Posts

Showing posts with the label চুপকথা

কেন তোমরা আমায় ডাকো?

Image
  এক-একটা সময় আসে, যখন নিজেকে বড়ো অসহায় লাগে। শীতের রাত্রের অন্ধকারের মতো জমাট কালো অনুভূতি আমাকে ঘিরে ধরে। এই অনুভূতি ঠিক কি, আমি জানি না। কেমন, তা মুখে বল যায় না। এই সময় মনের পাশাপাশি শরীর গুটিয়ে যায়। সমস্ত কিছু থেকে মন ছুটি নেয়। আমার মন খারাপ লাগে না ভালো লাগে, আমি কিছু বুঝতে পারি না।        এই সময় আমি কোন বই পড়তে পারি না। কেবল বই নাড়াচাড়া করে দিন কাটে। কোন সিনেমায় মন বসে না। কোন গান কানে ঢোকে, মনে ঠাঁই পায় না।        আমার আশেপাশের সবকিছুই কেমন যেন রুক্ষ হয়ে যায়। আমার বন্ধুরা রুক্ষ হয়ে যায়। আমার বাবা-মা-ভাই রুক্ষ হয়ে যায়। আমার ঘরের ছোট্ট টেডি বিয়ারটাও রুক্ষ হয়ে যায়। লেপের ওমের মধ্যে কোলবালিশের স্পর্শ রুক্ষ লাগে। আমি গোল্লা পাকিয়ে শুয়ে থাকি। ঠিক যেমন মায়ের পেটে বাচ্চারা থাকে। আমার জলের মধ্যে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। কোন শব্দ, কিম্বা স্পর্শ, কিম্বা দৃশ্য কিম্বা স্বাদ --- ভালো লাগে, কিন্তু ভালো লাগে না।        জানুয়ারি শেষ হয়ে গেল। কতদিন আমি কোন বই পড়ি নি! একটা-দুটো বই অভ্যাসবশে পড়েছি, কয়েকটা গান শুনেছি এক...

সন্ধ্যা কখন হল? উত্তর মেলে না

Image
আমার কিছু সুখ আছে। আমার কিছু দুঃখ আছে।   সন্ধ্যা নামছে ক্ষীণতোয়া নদীতীরে। বেলাশেষের আজান ভাসে নদীজলের ঢেউএ। ঢেউ আছড়ে আছড়ে পড়ে আমার পায়ের কাছে। নীরবে। সাঁঝবেলার ছায়ায় ছায়ায় মর্মরিয়ে কী যেন এক বেদনার আভাস। ছড়িয়ে পড়ছে নদীতীরের গাছে ফেরা পাখীদের ডানার ঝাপটায়, বাতাসে। রক্তিম মরিচীকার শেষ রবিলিপিতে কি আমার ফেরার বার্তা নিয়ে কেউ এসেছে? না। কূলে কোন নৌকা নেই আমার অপেক্ষায়। আজও কি আমার সময় হয় নি? আমার ছুটি হয় নি? না কি তা ফুরিয়ে গেছে, কখন অন্যমনে, বুঝতে পারি নি! আমি বসে আছি নদীঘাটের শেষ সোপানে। আমার পা দুটো জলের সাথে খেলা করে। আমি কি চলে যেতে চাই? না আমি ঘরে ফিরতে চাই? না কি ওপারের ডাকের অপেক্ষায় বসে আছি। আমার জন্যে কেউ কি অপেক্ষায় নেই? কোনদিকেই তো কোন অপেক্ষমান আমায় ডাকে না! তবে কি আমি চাই নি তোমাকে?   এমন বেদনা তবে কীসের?   আমি আমার কোলের দিকে তাকাই। ছড়ানো আঁচলে সুখ-দুঃখের কিছু ঝুটো মুক্তো রক্তিম হয়ে ঝিলিক দেয় শেষবারের মতো। আলোর আড়ালে তারা চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। অন্ধকারে তাদের অস্তিত্ব নেই কোনও। মূল্যহীন। তারা যায়, চলে যায়, হারিয়ে যায়। আমায় মূল্যহীন করে দিয়ে চলে য...

অতঃপর

Image
  অতঃপর বালিকা জ্বরে পড়িল । ১০৩.২ এই তীব্রতায় ভিজে গামছার প্রলেপের ভেজা চিহ্ন থাকে না পরক্ষণেই, বরং, এক তীব্র তাপনির্মমতায় সমগ্র বিশ্বজীবনী লোহিততপ্ত রাঙামুকুর হয়ে ওঠে। মাথার দুপাশের রগ দপদপ করতে করতে বিস্ফোরণে ফেটে পড়তে চায়। সে যন্ত্রণার আপাততীব্রতা যেন তূণীর থেকে সহসা বের হয়ে আসা জ্যা-মুক্ত তীরের তীব্র বেদনার্ত কষাঘাত। যন্ত্রণায় গোঙ্গাতে থাকি। যন্ত্রণামুক্তির উদ্দেশ্যে, না কি যন্ত্র ণা কেই সান্ত্বনা দিতে চাই? দস্তয়েভস্কি'র কয়েকটা লাইন মনে পড়ে, “ ... এই অবস্থায় নীরবে মানুষ গায়ের জ্বালা মেটায় না, গোঙাতে গোঙাতে মেটায়। কিন্তু এই গোঙানীর মধ্যে থাকে শিল্পনৈপুণ্য, ভুক্তভোগী সূক্ষ্মভাবে অপরের অনিষ্ট কামনা করতে করতে গোঙায় এবং দেখবেন গোঙানীর সঙ্গে এই অনিষ্ট কামনাকে মেলানোটাই আসল ব্যাপার। এর মধ্যে ভুক্তভোগী সুখ প্রকাশের উপায় খোঁযে, সুখানুভূতি না হলে সে গোঙাবেই না, এটাই মোদ্দা কথা... ” আমি কেন গোঙাচ্ছি? এমনিই দস্তয়েভস্কির লেখা আমায় অসুস্থ করে দেয়, তার ওপর এই অদ্ভুত এক সুররিয়েল অবস্থানের মধ্যে তিনি চলে এসে আমায় আরও অসুস্থ করে তুলছেন। যার অস্তিত্ব আছে, ব্যক্তিত্ব নেই... আমি আবার তীব...

কেন...

অনেকদিন পর... মনে পড়ে গেল... দুটো চোখের ভাষা... পাতলা চশমার ভেতর থেকে যে চোখ কেবল চেয়ে থাকত... কথা বলতে চাইত সে... কিন্তু সামনে এলে সমস্ত ভাষা তার দুটো চোখে এসে আটকে যেত... স্কুলজীবনের সে চোখ দুটোর কথা আজ মনে ভেসে এল... কেন... আমার পেনের কালি ফুরিয়ে গেলে সে চাইত তার পেনটাই যেন আমি নিই... তার পেনের কালি ফুরিয়ে গেলে আমার দিকে চাইত সবার আগে... একটা পেন আজও ফেরত পাই নি... কেন... বহুদিন পর... একদিন হঠাৎ... তার বাড়ী গিয়ে দেখি... মেয়েদের সেন্টের শিশি... হেসে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এ মা... তুই মেয়েদের সেন্ট মাখিস... সে লজ্জায় লাল হয়ে বলেছিল, তুই মাখতিস... ব্যাচে পড়তে আসার সময়... মনে নেই তোর... আমার গন্ধটা খুব ভাল লাগত... তাই রাখি... মাখি না... মাঝে মাঝে গন্ধটা নিই... ভালো লাগে... কেন... সে এক গল্প, মস্ত বড়ো গল্প, তোকে বলার ছিল... বলা হয় নি... শুনবি... হ্যাঁ শুনবো... कहानी सुनो जुबानी सुनो हन… मुझे प्यार हुआ था इकरार हुआ था…

ভোটান্তরযুদ্ধ

Image
  সন্ধ্যেবেলা। লেভেল ক্রসিং। আমি আর ভাই। ভাইয়ের বাইক। আমি আরোহী। ক্রসিং ডাউন। মস্ত মালগাড়ী। সবে ইঞ্জিন । পেরোচ্ছে শামুকের গতিতে। ক্রসিং-এর উল্টোদিকে তিন মাথার মোড়। ঠিক রাস্তার পাশেই ছোট মঞ্চ। বক্তৃতা মঞ্চ।   একজন যুবক। বক্তৃতার তোড়ে জগৎ ভাসিয়ে দিতে চাইছে। আশেপাশের চেয়ারে বসা মানুষ। কেউ চা খাচ্ছে। কেউ ব্যস্ত নীচুস্বরের আলোচনায়। কেউ বা উদার দৃষ্টি মেলে রেখেছে লাইনের তারে, রেলের চাকায় । একটু দূরে পুলিশের উদাসীন পাহারা।   যুবকের এত উচ্ছ্বাস! কেন? বিগত কয়েক বছরের হিসাব নিকাশ - ইতিহাস - আবেদন। মুখস্থ নয় , যেন তাগিদ। যুবকের আড়চোখ লক্ষ্য করলাম। ভাইয়ের আড়চোখ লক্ষ্য করলাম। দুজনের চোখ ত্রিভুজের অন্য যে বিন্দুর দিকে সেটা একটা জেরক্সের দোকান। মঞ্চের ঠিক উল্টোদিকে। চোদ্দ-পনেরোর কিশোরীরা । একঝাঁক চিকন এবং স্ফীত , জিনস এবং সালোয়ার , লম্বা এবং বেঁটে । শারীরী ভাষা প্রজাপতির মতো। এসেছে নোটস ফটোকপি করাতে। কোন কিছুকেই পাত্তা দিচ্ছে না তারা। ঝলমল করছে আলোর আড়ালে। আলোর মতো। রাজনীতি , ভোট আর একশো আঠাশ জন মানুষের দৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা হেসে যাচ্ছে খিলখিলিয়ে। হাসতে হাসতে ঢলে পড়ছে একে অ...

আষাঢ়স্য পঞ্চম দিবসে

Image
  আষাঢ়ের পঞ্চম দিবসের সকালে ঘ ন কালো অবিচ্ছিন্ন মৃদুমন্দ মেঘ ভেদ করে আশ্বিন বলল, আমি এসেছি। পৃথিবী চমকে উঠল। শ্যামল কোমল রূপের বদলে এ কোন তীব্ররূপ ! আমিও চমকালাম। রাস্তার পিচের ভ্যাপসা গন্ধ ছাপিয়ে তখন দুপাশের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যুদ্ধরত ঘাসের মধ্যে থেকে সোঁদা মাটির গন্ধ ম ম করছে। তারাও গেছে থমকে। রসসিক্ত মাটিতে এ কোন উপদ্রব? এ কেমন গন্ধ? এখন ডুবে যাওয়ার সময়। কোথায় আকাশপারে থাকবে উতল হাওয়া, তার বদলে সূর্যদীঘল রুদ্ররূপ! ফাঁকা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে, তারের জালে বন্দী আকাশটাকে দেখতে দেখতে আমি বুঝতে পারছি না, আমি কেন? আমি কেন? এ খানে আমি কেন? আমার কি কোন প্রয়োজন আছে? মৃত্যু এসে যদি আমায় এখন এক ঝটকায় টেনে নিয়ে যায়, কোথায় নিয়ে যাবে? আমার থাকা আর না থাকাতে কি কোন পার্থক্য হবে? আমি না থাকলে কি জগতের কোন অস্তিত্ব থাকবে? না কি আমার অস্তিত্ব না থাকলে জগতের একবিন্দু আসবে যাবে না? দুটোই ঠিক। দুটোই ভুল। যেমন করে এই আশ্বিন জানে না, একটু পরেই আষাঢ় পিছন থেকে মন্দমন্থর পায়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাপটে ধরে হাপিস করে দেবে তাকে , নিজের বুকের মাঝে, চিহ্নমাত্র থাকবে না আ র। স্মৃতিতেও...

যদিও সন্ধ্যা

Image
  যদিও সন্ধ্যা নেমেছে, যদিও এখানে ঘন মেঘ আকাশ জুড়ে, যদিও এখানে ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু জল আটকে আছে, যদিও পথচারী কম, যদি লোডশেডিং-এ ঘর অন্ধকার, যদিও তুমি আমার পাশে নেই, তবুও, এমন সন্ধ্যায় আমি তোমাকে ডাকব না। তুমি দূরেই থাকো। কাছে এসো না। কখনো কখনো তুমি দূরে থাকলেই বরং ভালো। কারন, যখন আমি তোমাতে মগ্ন তখন তুমি আমার সামনে থাকলেও আমার তোমাতে মগ্নতা ছিন্ন হয়। এই কি অলখ টান? অস্তিত্ব আছে, ব্যক্তিত্ব নেই। আর নেই বলেই এ অনেকটা ম্যাজিকের মতন। বর্ষা এই ম্যাজিককে আরোও মোহময় করে তোলে। আমি মোহাবিষ্ট হয়ে থাকি। আমি মোহাবিষ্ট হয়ে থাকতে চাই। এমন মোহাবিষ্ট খানিকটা আফিং-এর মতন। যেন কেমন একটা ঝিমধরা ভাব। ভাবনাগুলোও কেমন ঝিমধরা। বাইরে তখন আষাঢ়ে ঝুমবৃষ্টি এই নেশাকে জ্বালাধরা নেশায় নিয়ে যায়। আমি জ্বলতে থাকি। তোমার শরীরের স্পর্শের জন্যে। কিন্তু জানি, নিবিড়ভাবে শরীরে শরীর মিলিয়ে দিলে এই টান হয়তো থাকবে না। তখন সব জানা হয়ে যাবে। তখন মনে হবে, বেশ তো! এই-ই তাহলে সব? এই তাহলে চরম পাওয়া? যে দূরত্বে প্রেম এমন নেশাতুর করে তোলে, সেই প্রেমই নিবিড় ঘনিষ্ঠতায় যেন কত চিরকালের নিত্যপরিচিত! আমি কোন প্রেমে মজব? ন...

আমি আর আমার সাইকেল

Image
একদিন চলে গেলেই হয়। যেদিকে দুচোখ যায়। আমার প্রাণপ্রিয় সাইকেল আমায় ডাকে। বলে, চল্ সেই দিকশূন্যপুরে, নীল দেওয়ালের আবডাল পেরিয়ে, ধূসর মলিন মেঠোপথের সীমানা ছাড়িয়ে, দুঃখভরা সর্ষেক্ষেতের ঠিক মাঝখান দিয়ে আমার সাইকেল কি আমায় নিয়ে যেতে চায় সেখানে? যেতে পারি। কিন্তু তবুও যেতে পারি না। এই মরমী পৃথিবীতে আমার সাথে আমার সাইকেলই তো ছিল একমাত্র। একবুক দুঃখের বোঝা যখন আর আমি বইতে পারতাম না, সেই আমাকে বয়ে নিয়ে আসত আমার ঘরের কোনায়, শান্তিনীড়ে। তীব্র আনন্দের বিষে যখন আমার সারা শরীর জর্জরিত, সুখের মায়াময় মাদকতায় যখন আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত, আমার সাইকেল তখন আমায় নিয়ে গেছে বাটখাড়ার মাঠের প্রান্তরে। সে প্রান্তরে পাগলের মতো ঘুরে ঘুরে নেচেছি আমি, আমার স্কার্টের ঝুল নাগরদোলার মতো ঘু রে ছে সুতীব্র উচ্ছ্বাসে , আমার সাইকেল ছিল সে আদিম নাচের নীরব দর্শক। বৃষ্টিবিহীন বৈশাখী দিনে কাঁচা আম কুড়ানোর বন্ধুনী-সংকেত, কিম্বা কালবোশেখীতে আমার হতভাগাকে ক্যারিয়ারে বসিয়ে ঝড়ের বেগে উড়ন্ত ধূলা-ঢেউয়ে র মধ্যে সাতারের অপার্থিব আনন্দ দিয়েছে আমার সাইকেল। সেই সাথে তার দুষ্টুমিও টের পেয়েছি। রাস্তায় অযথা ঝাকুনি দিয়ে হতভাগার দুটো নিবিড়...

পুরস্কার

Image
  কিছু পুরস্কার জীবদ্দশায় পেতে ইচ্ছে করে না। মনে হয়, মরণকালের জন্য জমিয়ে রাখি। মনে হয়, মরণের পরে যদি অন্য কোন জীবন থাকে, তাহলে তার জন্যে তোলা থাক। এ জীবনে কি আমি অনেক কিছুই পেয়েছি? জীবন তো শেষ হয় নি। তবুও, এটুকু পথ এসেই বোঝা যায়, কেমন কাটবে আমার বাকি জীবন। লেখার প্যাটার্নের মতো মনের প্যাটার্ন তৈরী হয়, মন বুদ্ধির প্যাটার্ন তৈরী করে, আর বুদ্ধি জীবনের প্যাটার্ন খুঁজে বের করে। ঠোঁটের ওপর আলতো চুমু, কিম্বা হাতের আঙ্গুলে আঙ্গুল আলতো জড়িয়ে থাকা, জ্বরতপ্ত কপালে শীতল হাতের স্পর্শ, গ্রীষ্মের দগ্ধদিনে আমবাগানে বন্ধুনীসমভিব্যাহারে কাসুন্দির ফোয়ারা ছোটানো, অথবা প্রিয়জনের কিনে আনা শাড়ীর পাড়ে আলতো করে হাত বুলিয়ে দেওয়া --- কম কি কিছু পেয়েছি? ঈর্ষাকাতর দৃষ্টি কিম্বা সাপের হিসিহিসানির মতো শীতল থ্রেট, পরজীবীর মতো পরচর্চায় ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়ার বীভৎস উল্লাস কিম্বা গিরগিটির মতো রঙ বদলে যাওয়া --- এও তো দেখেছি। পেছন থেকে যে ছুরি বুকের হৃৎপিন্ড ভেদ করে, সে ছুরি হৃদপদ্ম ভেদ করতে পারে কি?   যা পাইনি তা-ই কি বড়ো হল? যা পেয়েছি তাই বা কম কি? তেমন করে হাত বাড়িয়েছি, সুখ না পাই, আনন্দ পেয়েছি। বঞ্...

তুমি আমায় ডেকেছিলে

Image
      ঘন কালো মেঘ আকাশ জুড়ে। মেঘের পরত মেঘকে ভারী করছে। আস্তে আস্তে সে নেমে আসছে মাটির বুকে। তার জলভরা যন্ত্রনাকে সে হালকা করতে চাইছে পার্থিব শরীরে। এর মধ্যে কোন সাহিত্য নেই , আছে নিখাদ বিজ্ঞান। আমি এই বিজ্ঞানের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিতে চাই না। সাহিত্যের মর্মবেদনায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতে চাই।        যখন অন্ধকার হয়ে আসা ঘরের কোনে একটা হ্যারিকেন জ্বলে , তখন মনে হয় আমার সাজ আলগা করি , একটু বেপরোয়াভাবে নিজেকে বিছানার ওপর মেলে ধরি। আমার মাথা থাকুক বিছানার পাশে সুবিশাল জানালার কাছে , বালিশের ওপরে। চুল মেলে দিই , সে ঝরে পড়ুক বিছানা থেকে মেঝেতে , কিছু বা থাকুক অবিন্যস্ত। চোখ থাকুক মেঘের আবিলতায় , কান থাকুক মৃদু বজ্রগর্জনে। আর মন থাকুক পথের পাশে। যে পথ আমাকে গ্রীষ্মের সকালে কিম্বা বসন্তের দুপুরে ডাকে বটে যাযাবর হওয়ার জন্যে , কিন্তু বর্ষার বিকালে পথকেই ডাকতে চাই নিজের ঘরে... নিজের বুকে...

সাঁকোটা দুলছে...

Image
আমি দেখছি. সাঁকোটা দুলছে!  যে সাঁকোটা এতদিন ছিল দৃঢ়, অটল, সুমেরুবৎ, সেই সাঁকোটা দুলছে, আস্তে আস্তে দুর্বল হচ্ছে। তোমার দিকে যাওয়ার পথ দুর্গম হচ্ছে।   অথচ তুমি ছিলে আমার খেলার সাথী। ছিলে আমার পাশে। নীরবে। নিভৃতে। আমার নগ্ন নির্জনতায় বিবেক হয়ে। জন্মলগ্ন থেকে।   তোমাকে আমি চিনতে পারি নি। তোমাকে আমি বুঝতে পারি নি। বন্ধুকে কি কেউ বুঝতে পারে? জানতে পারে? বন্ধু বন্ধুর সব অপরাধ মার্জনা করে, স্খালন করে।   অথচ আজ, এই নিশীথ রাত্রিতে সাঁকোটা দুলছে। তুমি ওপারে। আমি পারছি না তোমার কাছে যেতে। তুমি পারছ না আমায় এসে ছুঁতে।   জীবনে মিথ্যার প্রশ্রয় বড়ো ভয়ঙ্কর। সে খালি বঞ্চনাই করে। এই সত্যের মুখোমুখি যেদিন হলাম, দেখলাম,   সাঁকোটা দুলছে...

নারী

Image
  “নারী আজন্ম এক রহস্যময়ী চরিত্র! কখনো তেজী , রুক্ষ। আবার কখনো শান্ত , শীতল। কখনো সাহসী ভয়-ডড়হীন যোদ্ধা। আবার কখনো ভীষণ আবেগী। নারী ভালোবাসা পেলে শান্ত নদী হয়ে যায়। ভালোবেসে শাসন করলে অবুঝ বাচ্চাটি হয়ে যায়। অবহেলা করলে হয়ে যায় রোদ্রতাপ কঠিন , অহংকারী। নারী সব পারে ; নারী আগলে রাখে , অবহেলায় রাখে। নারী বরাবরই রহস্যময় চরিত্র। নারীকে আপনি যা দিবেন তা সে দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দিবে , সেটা হোক ভালোবাসা কিংবা অবহেলা !” লেখাটা মেহেদী হাসান শুভ্র -র। চিনি না তাকে। তবে কথাকটা ভাবালো। নারীকে রহস্যময়ীও বলছেন, আবার বলছেন, “ নারীকে আপনি যা দিবেন তা সে দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দিবে , সেটা হোক ভালোবাসা কিংবা অবহেলা!” তাহলে আর রহস্য কোথায়? সমস্ত সমাধানই কি হয়ে গেল না? বোধহয় কবিদের একটাই সমস্যা --- বাস্তবের নারীকে না মেনে নিতে পারার ব্যর্থতা । বাস্তবের নারী এমন কিছু জটিলও নয় যে, তাকে রহস্যময়ী হতে হবে। আপন মনের মাধুরীটিকে সরালে অবশেষে একটা মানুষই সামনে এসে দাঁড়ায়। মানুষের পুরুষ-নারী ভেদ নেই। ডাক্তারের কাছে সবাই রোগী। পার্থক্য নেই। জটিলতা আছে, সে কার না আছে? সাইকায়াট্রিস্টের কাছে নারী-পুরুষ দুজনেই যায় মা...

বাটখারার মাঠ, তেপান্তরের মাঠ

Image
         লোকে বলে বাটখারার মাঠ, আমি বলি তেপান্তরের মাঠ। এর মাঝখানে দাঁড়ালে, যতদূর চোখ যায়, মনে করুন চৈত্রের দুপুরে, দেখবেন ধু ধু করা এক মাঠ। একচিলতে ছায়া মেলা ভার। মাটি থেকে ওঠা ভাপে তখন মরিচীকা দেখা যায় চারদিকেই। মনে হয় যেন মাঠ আর মাঠ নেই, সে যেন জলের মধ্যে জেগে থাকা দ্বীপ। আর দেখা যায়, কপাল ভাল থাকলে, আলপথের আবডালে বাটখারাদের।       প্রধানত দুই রকমের বাটাখারা আছে --- গোখরো আর চন্দ্রবোড়া। কয়লা ওজন করতে বড়ো বড়ো বাটখারা যেমন হয়, তেমনভাবেই কুন্ডলী পাকিয়ে এরা পড়ে থাকে। মেঠো ইঁদুরের যম। এবং মানুষের। এই মাঠের মাঝখানে যদি গোখরো চুমু দেয়, মাঠ পেরিয়ে বড়ো রাস্তায় আসার আগেই অনেকের ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছে এমন উদাহরণ বিস্তর। কত মানুষ, গোরু, ছাগল, কুকুর, শেয়াল যে মাঠের মাঝেই পড়ে মারা গেছে, দিনের শেষে খোঁজপার্টি না বেরোলে জানার যো থাকে নেই। চন্দ্রবোড়ার ছোবলে মৃত্যু বড়ো করুন। আস্তে ধীরে বিষ ছড়ানোর যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে প্রায় প্রতি বছরই কেউ না কেউ মারা গেছে। তেপান্তরের মাঠের আশেপাশের গ্রামে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। তব...

নদীর ছায়ায়

Image
  “অন্ধ ভালোবাসার ফল কখনো মঙ্গলময় হয় না।” হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন। আর, আমরা তিনজন, বছরের পর বছর ধরে, অমঙ্গল গায়ে-মাথায় মেখে এসে বসে থাকি নদীর ধারে। অনেক জ্বালা জুড়িয়ে দেয় সে। আমাদের কথা আমরা জানি। এবং অনেক কথা, পরস্পর জানি না। এবং অনেক কথা, নিজেরাও জানি না। এবং অনেক কথা, নিজেদের কাছে নিজেরা স্বীকার করতেও ভয় পাই। কিন্তু প্রকৃতি জানে। আর জানে বলেই দিনের শেষে প্রকৃতি কাছে টানে। তখন প্রকৃতির কাছে আসতে মন চায়। এসে দুদন্ড বসতে মন চায়। ইচ্ছে করে, পাশে থাকুক কোন প্রিয়জন। বন্ধুর থেকে প্রিয় কে আছে? মৃদুমন্দ অর্গলহীন ভাষার লাগামছাড়া ভাবনার কোলাজ বন্ধু ছাড়া কেই বা বুঝবে? শ্রান্ত শান্ত সন্ধ্যায় ঘাটের সিঁড়িতে আমরা তিনজনে জড়াজড়ি করে বসে থাকি। একটা পর্যায়ে পাখীর উড়ান বন্ধ হয়ে যায়। নদীর কলধ্বনি বন্ধ হয়ে যায়। শঙ্খের আর্তনাদ বন্ধ হয়ে যায়। ওপারে , দূরে একটা-দুটো আলো জ্বলে উঠতে শুরু করে। এক অদ্ভুত শান্ততার মাঝখানে নিজেকে বেঁধে নেওয়া, পাড়ে বসে ওপাড়ের ডাক শুনতে চাওয়ার আকূল বাসনা আর পরস্পরের সংলগ্ন শরীরের ওম্‌ নিতে নিতে মনে হয়--- আর কতদিন...???

যে বুকে আগুন জ্বলে

Image
ঠিক যেন সন্ধ্যার রক্তপলাশ মেঘ । চারদিক আস্তে আস্তে তাকে ঘিরছে গাঢ় অন্ধকারের ধোঁয়াশা । আমি যেন সেই অন্ধকারের মাঝে হারিয়ে যেতে চাই । এই রক্তপলাশ আগুন বুকে নিয়ে । কি ক্ষতি হবে আমি যদি নষ্ট মেয়ে হই ? কার কি আসবে যাবে তাতে ? কার মন ভাঙবে ? কে আমাকে ডাকবে করুণ সুরে ' ফিরে আয় ' বলে ? কে আমার চুলে নরম করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলবে , একটু থির হ , মা । অনেক তো দৌড়ালি । সারাটা জীবন আরোও কত দৌড়াতে হবে । তার আগে একটু জিরিয়ে নে । কেউ বলবে কি ? কেউ আছো ? যে উত্তর দেবে , রাত কত হল । কেউ আছো , যে বলবে , ওইদিকে যেয়ো না । কথা বোলো না ওই তরুণের সাথে । কেউ কি বলবে , তোমার চোখে দেখেছিলেম ... কি হবে তবে আমি যদি নষ্ট মেয়ে হই ? আমার বুকের ব্লাউসের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলে । আমার কামনা , আমার ক্ষোভ , আমার বাসনাকে পেরিয়ে , আমার আগুনে দগ্ধ হতে হতে কে ধরতে চাইবে আমার হাতের লাল, সাদা আর হলুদ গোলাপ? কে আছো ? নিজেকে দগ্ধ করে আমাকে দগ্ধ দিনের সুখ দেবে ? সে হাতটাকে আমি খুঁজে চ...