Posts

Showing posts with the label কথায় কথায়

Thinking Fast and Slow

Image
  বেশ কয়েকটা বছর বাংলা-পড়ুয়া গ্রুপগুলোতে কাটানোর পর আমি একটা কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, নন-ফিকশন বই আমরা বাস্তবিকই খুব কম পড়ি। আর সেই বই যদি হয় পপুলার সায়েন্সের ওপর, তাহলে তো কথাই নেই। আমরা ছুঁয়ে দেখার কথাও ভাবতে পারি না। কত রকমের নন-ফিকশন বই বের হচ্ছে! কত অদ্ভুত তার বিষয়। কয়েকটি জনপ্রিয় বইয়ের রিলস কিংবা short video-তে দেখি একটা বইকে বর্তমান সময়ে কী সাংঘাতিক গুরুত্বই না দেওয়া হচ্ছে। অতঃপর বইটা কিনলাম। Thinking Fast and Slow. লিখেছেন Daniel Kahneman. Kahneman সাহেব নোবেল পেয়েছেন। আর তাঁর এই বইয়ের বিষয়বস্তু কি অদ্ভুত! তাঁর মতে, আমাদের চিন্তাভাবনা দুইটি সিস্টেমে বিভক্ত—   System 1 → Fast Thinking স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক, দ্রুত, আবেগনির্ভর চিন্তা। এটাই আমাদের ‘intuition’ বা ‘gut feeling’-এর জায়গা। সুবিধা: দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে। অসুবিধা: ভুল সিদ্ধান্ত বা bias তৈরি করে।   System 2 → Slow Thinking সচেতন, যৌক্তিক, ধীর ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা। এই চিন্তা আমাদের অনেকটা সময় নিয়ে করতে হয়। (অঙ্কের কথাই ভাবুন না, বাজারের মাসকাবারির টাকা আমরা কত সময় নিয়েই না হিস...

ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট

Image
 ১ চিন্তায় পড়ে গেল রাস্কলনিকভ, “কিন্তু আমার চিন্তা যদি মিথ্যা হয়ে থাকে!”—আচমকা আপনা-আপনি বেরিয়ে এলো তার মুখ থেকে। “মানুষ যদি সত্যি-সত্যি ইতর প্রাণী না হয়ে থাকে—অর্থাৎ, সাধারণভাবে, সামগ্রিকভাবে মানবজাতি যদি তা না হয়ে থাকে—তাহলে দাঁড়াচ্ছে এই যে, বাদবাকি যা থাকছে... সব... নেহাত সংস্কার... কেবল মনগড়া ভয়। বাধা-বাঁধন বলে কিছু নেই—তাই এমনটাই হওয়া উচিত...।”        লিখছেন দস্তয়েভস্কি, ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট উপন্যাসে। বেশ কয়েক বছর পরে ফিরে এলাম দস্তয়েভস্কির এই উপন্যাসের কাছে। মনে আছে, প্রথমবার যখন পড়েছিলাম, তখন ইম্পর্ট্যান্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঘটনার গতিপ্রকৃতি। আমার কম বয়সের জন্য? কম ম্যাচিউরিটির জন্য? অথবা কাল্ট সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যই এই—প্রতিবার পাঠকের কাছে নতুন করে ধরা দেয়।        কিন্তু এবার প্রতিটা বাক্য যে আবহ তৈরি করছে, তার দিকে চোখ পড়ছে। এমন কিছু খুঁটিনাটির দিকে চোখ পড়ছে, যা আগে কখনও চোখে পড়ে নি। এই কথাগুলোতে এসে ধাক্কা খেলাম। কেন? দস্তয়েভস্কি এই কথাগুলো লিখছেন উপন্যাসের প্রায় শুরুতেই—সোনিয়ার বাবা মার্মেলাদভের সঙ্গে কথোপকথন শেষে, তাকে তার ব...

জেন আয়ার - দুটো প্রবন্ধ

Image
 ১ “আমি বড় খুশি, জেন; যখন তুমি শুনবে আমি আর নেই, আমার জন্য দুঃখ কোরো না। দুঃখ পাওয়ার ব্যাপারই নয় এ। আমাদের সবাইকেই তো একদিন মরতে হবে; আর যে অসুস্থতা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, তা ব্যথাহীন; খুব ধীরে ও কোমল স্পর্শে সে আমাকে টানছে; আমার মনে কোনো গ্লানি বা অশান্তি নেই। আমার পেছনে এমন কাউকে রেখে যাচ্ছি না, যে আমার জন্য শোক করবে। আমার শুধু বাবা আছেন, কিন্তু তিনিও হালে বিবাহ করেছেন, তাই আমার জন্য বিশেষ শোক করার সময় তাঁর হবে না। অল্প বয়সে এভাবে মারা গিয়ে আমি ভবিষ্যৎ জীবনের অনেক দুঃখ-কষ্টকে এড়াতে পারব। এই পৃথিবীতে অনেক ওপরে যাওয়ার জন্য আমার বিশেষ কোনো প্রতিভা ছিল না; সারাজীবন সবার কাছে আমি দোষী হয়েই থাকতাম।” সাহিত্যে কালোত্তীর্ণ গল্প–উপন্যাস–কবিতা–প্রবন্ধ নিয়ে রিভিউ করার ধৃষ্টতা দেখানো আমার কম্ম নয়। কিন্তু আজ যদি আমি সেইসব কালোত্তীর্ণ লেখার সামনে এসে দাঁড়াই, কী লিখব তাদের নিয়ে? এই যেমন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস নিয়ে সম্প্রতি যে সিনেমা হল, তা ভালো–খারাপ ব্যতীত আমি দেখছি; কুসুমের ব্লাউজের নিচে মন আছে কি নেই, থাকলে তা ফ্রয়েডিয়ান না বাঙালীয়ান—তা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বাঙালি এখনও দিন কাটাচ্ছে, আর সি...

অনুবাদ পূজাবার্ষিকী ২০২৪

Image
  পাঁচ বছর আগেও , পূজাবার্ষিকী কেনার জন্য বাবার প্যান্টের পকেট থেকে টাকা হাতিয়েছি বাবা জেনেও না জানার ভান করেছেন। মায়ের রান্নার কৌটো থেকে কখন যে এক-দুশো টাকা ' ইঁদুরে ' নিয়ে গেছে মা টেরও পান নি। এমনকি আমার ' ন্যাতা-ক্যাতা ' র হাড়ির শেষ সম্বলটিও খরচ করে ফেলেছি। রাতের অন্ধকারে জেমস বন্ড* আমার জানালায় টোকা দিয়ে পূজাবার্ষিকী আমার হাতে পাচার করেছে। কিম্বা ভোরবেলা দড়ি বেধে ঝুলিয়ে রাখা বাজারের ব্যাগে ' মাল ' ট্রান্সফার করেছে।          তারপর , আস্তে আস্তে কখন যেন মনে হয়েছে , এ বড়ো অন্যায়। না। বাবা-মা-র প্রতি নয় , নিজের প্রতি। সময় এবং অর্থের মুল্য সম্যকভাবে জানা প্রয়োজন। কারণ আমি বড়ো হচ্ছি। আমাকে এ ছেলেমানুষী মানায় না একদম। আমি মা-কে বললাম , মানে এই বইটা হাতে নিয়ে তাকে দেখিয়ে বললাম , দেখো আমি বাড়ছি মাম্মি। মা রোষাকষিত নয়নে তার চালের ড্রামের দিকে একবার তাকিয়েই বেলন হাতে নিলেন। আমি বললাম , বৃথা করো এ উদ্যম মাতঃ , আমি এই একটিই বই এবার কিনছি। বাস... আমার পূজাবার্ষিকী বাজার কমপ্লিট।        এই একটা বই ' লোকাল ' থেকে সরে এসে ' ...

আকাশ জোড়া মেঘ

Image
  কার্টুন দিয়ে, বলা ভাল কমিক্স দিয়ে আমার পড়া শুরু, সেই-ই-ই-ই-ই... ছোট্টোবেলায়। তারপর কখন যে কমিক্স ছেড়ে বড়ো হলাম মনে পড়ে না। কেবল মাঝে মাঝে ছোটবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে, ছোটবেলার স্বাদ পেতে।       কমিক্সের ওপর একটা ভালোবাসা বুকের মাঝে থেকে যাওয়ার আরেকটা বড়ো কারণ আমার বন্ধু সমর্পিতা। সে কমিক্স বড়ো ভালবাসে। সে প্রচুর কমিক্স পড়ে। কিছুদিন আগে জাপানী অ্যানিমে-র কথা বলাতে সে বলল, সে ওসব প্রচুর পড়ে। দুটো অ্যাপসও তার আছে, যেখানে সে নিয়মিত কমিক্স পড়ে। আমি বললাম, আমায় বলিস নি কেন হতভাগী?       সে থতমত খেয়ে বললে, আমি তো জানি, তুই কমিক্সের থেকে ওইসব মাথা-চাটা বই বেশি পছন্দ করিস। কমিক্স তুই শেষ কবে পড়েছিস শুনি?       তাই তো? আমি শেষ কমিক্স কবে পড়েছি? আমার জমানো বইয়ের এক কোনায়, অন্ধকারে আমার যে এক টুকরো ছেলেবেলাটা অজ্ঞাতবাস করে তাকে আমি আবার টেনে নামাই। ধুলো ঝাড়ি। আবার রেখে দিই।       এতএব সমর্পিতার জন্মদিনে কিনলাম বই তিনটে। কিনেই মনে হল, আমি তো ‘বিশ্ব হিংসুটে’, তা আমার কাছেই বা কেন এক কপি...

রবীন্দ্রজগতের মার্গদর্শকেরা

Image
আমার রবীন্দ্রনাথ আজ বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস। তাতে অবশ্য, আমার, খুব একটা কিছু আসে যায় না। রবীন্দ্রপ্রয়াণ শব্দটা আপেক্ষিক। আমার কাছে তার অস্তিত্ব নেই। আমার কাছে ‘রবীন্দ্রনাথ’ একটা তত্ত্ব। যে তত্ত্বের যাপন মহামতি গ্যেটে করেছিলেন, মহাপ্রাণ তলস্তয় করেছিলেন, ভাষা আলাদা, ভাব এক। ঈশ্বরের সভাকবি মাঝে মাঝে পৃথিবীতে আসেন। তারা মানুষকে বড় কাছ থেকে দেখেন। তারা সমালোচনা করেন না। আলোচনা করেন। মানুষ তাদের কাছে বিস্ময়ের পাত্র। অবতারেরা রিবেলিয়ান গোত্রের। তারা নিজেদের অজান্তেই মানব সম্প্রদায়ের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন বটে, কিন্তু তাদের সামনে এলে মনে হয়, আমরা কত দীন-হীন, পাপী-তাপী। কিন্তু তাদের সভাকবিদের সামনে নিজেকে বড়ো মূল্যবান মনে হয়। প্রকান্ড এ বিশ্বে অ্যামিবার মতো ক্ষুদ্রতা নিয়ে যতটা মূল্যবান মনে হওয়া সম্ভব, ততটা। “মনে রেখো, তুমি বঞ্চিত হও নি” – মৈত্রেয়ী দেবীকে লেখা রবীন্দ্রনাথের এ আপ্তবাক্য কোন অবতার ভাবদরদ দিয়ে বলেন নি, বলতে পারেন নি। আমার জীবনে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব বলে শেষ করা যাবে না। রবীন্দ্রনাথকে একটু অন্য আঙ্গিকে দেখতে বড়ো মন চেয়েছে বলে একটু অন্যরকম সংগ্রহ আমি তিলে তিলে করে চলে...

@everyone

Image
           যে কোন গ্রুপের ক্ষেত্রে বড়ো মারাত্মক ট্যাগ - @everyone । এক ট্যাগে সব সদস্যদের কাছে পোস্টের নোটিফিকেশান চলে আসে। তারা জেনে যায় একটা পোস্ট এডমিন বা মডারেটর করেছেন। তাতে কিছু ইভেন্ট বা ঘোষণা বা বিজ্ঞাপন আছে। এরপর ওই পোস্টে যারাই কমেন্টস করতে থাকেন , প্রত্যেক কমেন্টসের পরিপ্রেক্ষিতে নোটিফিকেশান আসতে থাকে। যত বেশি কমেন্টস আসে , তত বেশি নোটিফিকেশানের টুংটাং। পোস্ট যদি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হয় , তাহলে নোটিফিকেশনের লিস্ট দেখলে বিরক্তি বাড়ে। জঞ্জাল মনে হয়। গ্রুপের সব সদস্যই এর শিকার হন।       এর একটাই উপায় --- ট্যাগ রিমুভ করে দেওয়া। অনেকেই পারে না। আমিও পারি না সবসময়। বারবার ভুলে যাই কীভাবে রিমুভ করতে হয়। ফলে , টেক স্যাভি যারা নন তাদের কাছে এই ট্যাগ মুর্তিমান আতঙ্ক।       কিন্তু , সত্যিই কি এই ট্যাগের প্রয়োজন আছে ? গ্রুপের সদস্যদের জোর করে ইনভলভ করানোর প্রচেষ্টা কি সাধুবাদের যোগ্য ? একটা ব্যাপার তো এখানেই পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে যে , অধিকাংশ সদস্যরা উক্ত গ্রুপের সাথে নৈকট্য বোধ করেন না। আর...

জামাইষষ্ঠীর একটা দুপুর

Image
  “আমি কি আসতে পারি?” একটি অতীব হাল্কা টেকো-মাথা লোক দরজার দুই ফাঁক দিয়ে ধ্যাবড়া নাক আর গোল গোল চোখ নিয়ে জিজ্ঞাসা করল। “না, পারো না, আমি আর দিদি এখন গল্প করছি, ঝামেলা কোরো না। যাও ভাগো।” লোকটা এবার গলাসমেত মুখ ঢুকিয়ে বলল, “একটু গড়াগড়ি দিতাম আর কি, খাওয়াটা জম্পেশ হয়েছে...” “আরও তো ঘর আছে, আমাদের উত্তরের ঘরটায় যাও না। এসি আছে ওখানে...”, দিদি বলল। “হ্যাঁ”, আমিও বললাম, “দিদিও ওইঘরেই তোমার সাথে রাত জেগে জেগে প্রেম করত, মনে নেই? আরও সব কি কি করত জানি না। উফফ...” (দিদি এক থাপ্পড় মারল) “ইয়ে মানে, ওই ঘরে গিয়ে ঘুমাও না, দেখবে খুব সুখের ঘুম হবে।” “তা কি হয়, তোমার দিদি তো এখানে...” বুকসমেত মাথাটার পুরোটাই ঢুকে এল এবার, “আর এতদিন পরে এলাম, তুমি আছ, দিদি আছে, একসাথে...” “মোটেই ফালতু কথা বোলো না। কতদিন বাদে দিদি এল। অনেক কথা আছে আমাদের। আজ সন্ধ্যেবেলাতেই তো চলে যাবে তোমরা...’ “বাব্বাঃ! যেন এক যুগ বাদে কথা বলছ মনে হচ্ছে। কালকেই তো রাতে দুজনায় ফোনে গল্প করে করে আমাকে আর ঘুমাতে দিলে না। তার ক্ষতিপূরণ---”, জামাইবাবু কোমর সমেত ঢুকে এল এবারে। “বোকা পাঁঠার ঝোল দিয়ে বিরিয়ানি সাঁটালে এক গা...

আমার মা

Image
  কাল সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ করে কাঁপতে কাঁপতে আমার ঘরে এসে হাজির আমার মা। তাকে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠেছি। আপাদমস্তক একটা পাতলা কম্বল মুড়ি দিয়ে হাজির। এমন গরমে এমন চমৎকার রসিকতা করার স্বভাব ও ক্ষমতা মায়ের নেই। পয়লা এপ্রিল হলেও না। “দ্যাখ তো, কেমন যেন শীত শীত করছে আমার। মাথাটা ধরেছে। গা-হাত-পা ব্যাথা...” গায়ে হাত দিয়ে দেখলাম, বেশ জ্বর। মাপলাম। ১০০.৮। অতঃপর কাঁপতে কাঁপতে তিনি তার ঘরে গেলেন। আমি রান্নাঘরে। চা-বিস্কুট ছাড়া প্যারাসিটামোল দেওয়া যাবে না। ভাই গেল বাজারে রুটি আনতে। আমি রুটি বানালে দক্ষযজ্ঞ ঘটবে। বাবা দেখতে লাগলেন একপাশে বসে বসে। মাঝে মাঝে গল্প করে করে মা’কে খাওয়াতে লাগলেন । চা শেষে প্যারাসিটামল। আমার মা যতক্ষণ সুস্থ থাকে একদম পেন্ডুলামের মতন দৌড়ায়। সকালে মায়ের চোখ খুলল তো প্রথম বাক্যই হয়তো বলবে, আজকে কিন্তু মনে করে অমুক জিনিসটা আনতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের ঘুম থেকে উঠে সিস্টেম আপ হতে সময় লাগে। মায়ের সিস্টেম ঘুমানোর সময় স্লিপিং মোডে থাকে। কোনদিনও শাট ডাউন হয় না। জেগে উঠলেই সব মিনিমাইজ করা সফটওয়ার ওপেন সমেত হাইপার এক্টিভেটেড হয়ে যায়। এক-একসময় এই রমণীকে দেখে আমার খুব আশ্...