Posts

Showing posts with the label আমার রবীন্দ্রনাথ

ঘরোয়া

Image
  “ দেখো মনে সব থাকে। সেই ছেলেবেলা কবে কোন্‌কালে দেখেছি রাজেন মল্লিকের বাড়িতে নীলে সাদায় নকশা কাটা প্রকাণ্ড মাটির জ্বালা, গা-ময় ফুটো, উপরে টানিয়ে রাখত। ভিতরে চোঙের মতো একটা কী ছিল তাতে খাবার দেওয়া হত। পাখিরা সেই ফুটো দিয়ে আসত, খাবার খেয়ে আর-এক ফুটো দিয়ে বেরিয়ে যেত। অবাধ স্বাধীনতা, ঢুকছে আর বের হচ্ছে। মানুষের মনও তাই। স্মৃতির প্রকাণ্ড জালা, তাতে অনেক ফুটো। সেই ফুটো দিয়ে স্মৃতি ঢুকছে আর বের হচ্ছে। জালা খুলে বসে আছি, কতক বেরিয়ে গেছে কতক ঢুকছে কতক রয়ে গেছে মনের ভিতরে, ঠোকরাচ্ছে তো ঠোকরাচ্ছেই, এ না হলে আর হয় না আবার। আর্টেরও তাই। এই ধরো-না বিশ্বভারতীর রেকর্ড, রবিকাকা কোথায় গেলেন, কী করলেন, সব লেখা আছে; কিন্তু তা আর্ট নয়, ও হচ্ছে হিসেব। মানুষ হিসেব চায় না, চায় গল্প। হিসেবের দরকার আছে বৈকি, কিন্তু ওই একটু মিলিয়ে নেবার জন্য, তার বেশি নয়। হিসেবের খাতায় গল্পের খাতায় এইখানেই তফাত। হিসেব থাকে না মনের ভিতরে, ফুটো দিয়ে বেরিয়ে যায়, থাকে গল্প। সেই ‘ঘরোয়া’ গল্পই বলে গেলুম তোমাকে। ”       বলছেন অবন ঠাকুর, কাটুম-কুটুমের স্রষ্টা, বাংলা ছবির জগতের অবিসম্বাদিত মুকুটহীন রাজা। গ...

আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ

Image
  রাণী চন্দের রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা ‘গুরুদেব’ অথবা ‘আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ’ --- এইদুটোর যে কোনও একটাকে আমি পড়তে বলব। ‘গুরুদেব’ বইটিতে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তিনি যে কথা ঘটনাপরম্পরায় লিখে গিয়েছেন, তার অধিকাংশই ‘আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ’ বইতে পাওয়া যাবে, পার্থক্য শুধু একটাই, এই বই মুলত সংলাপ নির্ভর। যে আটপৌরে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা মায়াময় সম্পর্কের আলো-আঁধারিতে বিরাজমান, সেই রবীন্দ্রনাথ কোথাও যেন, এখানে, গুরুদেবের আসনে প্রতিষ্ঠিত। যেন বা একটু দূরের। যেন বা একটু ভক্তির আবেশে প্রতিষ্টিত। “গুরুদেব চলে গেছেন, এখন তাঁর স্মৃতি নিয়েই দিন কাটছে। শেষ দশবছর তাঁর অতি কাছেই ছিলুম। তাঁকে প্রণাম করে দিনের কাজে হাত দিতুম, সকালে উঠে তাঁর মুখই আগে দেখতুম জানালা দিয়ে। অতি প্রত্যুষে অন্ধকার থাকতে উঠে বাইরে এসে একটি চেয়ারে বসতেন পুবমুখো হয়ে, কোলের উপর হাত দুখানি রেখে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাতরাশ শেষ করে লেখা শুরু করে দিতেন। কোনোদিন দেখতুম বসেছেন কোনার্কের বারান্দায়, কোনোদিন শ্যামলীর বারান্দায় --- আমগাছের ছায়ায়, কোনোদিন বা বাতাবিলেবুর গাছটির পাশে। সে যেন দেবমুর্তি দর্শন করতুম রোজ। মানসচোখে প...

গুরু-সান্নিধ্যে

Image
  চিত্রকর রাণী চন্দের প্রায় সমগ্র জীবনটাই কেটেছে শান্তিনিকেতনে। এবং, এর মধ্যে প্রথম অর্ধ কেটেছে রবীন্দ্রসান্নিধ্যে। এই রবীন্দ্রসান্নিধ্য আবার যেমন তেমন করে নয়। একটা পর্যায় তো কেটেছে একেবারে প্রতিবেশী হিসাবে। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ যে বাড়িতে থাকতেন, একদম তাঁর লাগোয়া বাড়ীতেই তিনি থাকতেন স্বামীসহযোগে। তাঁর স্বামী অনিল চন্দ। রবীন্দ্রনাথের সেক্রেটারি। রাণীর শুরুটা অবশ্য হয়েছিল শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক হিসাবে।       রাণী চন্দের দাদা মুকুল দে গভর্মেন্ট আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ, প্রথম অধ্যক্ষ। রাণীর রক্তে ছিল চিত্রকলা। রবীন্দ্র-উপদেশে শান্তিনিকেতনে রাণী ভর্তি হন কলাভবনে। অবন ঠাকুর, নন্দলাল বসুর স্নেহধন্যা রাণীর কয়েকটি মাত্র চিত্রকলা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, ইন্টারনেটের সৌজন্যে। Mother and Child ছবিটার দিকে যে আমি কতক্ষণ তাকিয়েছিলাম মনে নেই। রাণী ছবি আঁকা শিখলেও নিজের ছবি নিয়ে ততটা সংবেদনশীল ছিলেন কি? না কি শান্তিনিকেতনের অন্যান্য খ্যাতনামা চিত্রকরদের দাপটে তাঁর কাজ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে? অবশ্য নারী চিত্রকরদের কজনকেই বা আমরা চিনি, বিশেষত শান্তিনিকেতনের?  ...

তাহাদের শান্তিনিকেতন, তাহাদের কথা

Image
  “জীবনভর যে ভিড় ছিল সরে গেছে। আজ একা আমি জিৎভূমে। রাত্রিকাল। ঝড় উঠল। শুয়ে আছি। শুয়ে শুয়ে শুনছি হাওয়া ছুটল। এখানকার ঝড়ের ভাষা জানি। শুকনো হিজল পাতাগুলি খরখর করে উরে চলল। গলগলির সরু ডালগুলি ছিটকে পড়ল। শিমূলের কচি ডালটা ভাঙল বোধ হয় --- হালকা গাছ। না, এ ঝড় থাকবে না বেশিক্ষণ। বৃষ্টি নামল। এবারে শুকনো পাতাগুলি ভিজে উঠল। ভিজেপাতা সাড়া তোলা না। চুপ হয়ে যায়।”       রাণী চন্দ। রবীন্দ্রনাথের ‘দ্বিতীয়া’। ‘প্রথমা’ হলেন মহলনাবীশ পত্নী – বিদুষী, শিক্ষিতা, বিদেশে রবীন্দ্রনাথের সাথে বহুবার গিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ তাকেই চিঠি লিখেছেন সবচেয়ে বেশি। আর এই ‘দ্বিতীয়া’ হলেন রাণী চন্দ। রবীন্দ্রনাথের সেক্রেটারি অমল চন্দের পত্নী, শিল্পী মুকুলচন্দ্র দে-র ভগ্নী, অবন ঠাকুর এবং নন্দলাল বোসের স্নেহধন্যা। নিজেও নামকরা আর্টিস্ট। প্রথম জীবনে রবীন্দ্রনাথের সাথে বহুবার ভ্রমণ করেছিলেন দেশে-বিদেশে। রবীন্দ্রনাথ যেখানে থাকতেন, শান্তিনিকেতনের সেই বাড়ীর একদম প্রতিবেশী ছিলেন বলা চলে। ফলে সকাল থেকে রাত্রি --- তাকে দেখেছেন --- অত্যন্ত কাছ থেকে।       শান্তিনিকেতন তখন ছিল, এক...

বিবিদিদির রবীন্দ্রস্মৃতি

Image
  ইন্দিরা দেবী চৌধুরানীকে সবাই চেনে , বিশেষত যারা ছিন্নপত্রের সাথে সুপরিচিত, তারা বিবি-কে চিনবে না, এ সম্ভব নয়। এহেন ইন্দিরা দেবীর একটা লেখা আমার হাতে এসে পড়ল ---- রবীন্দ্রস্মৃতি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, আমি এই ধরনের বই কেন পড়ছি? উত্তর বিবিদিদি-ই দিয়েছেন --- “তাঁকে যারা দেখেন নি তাঁর নানা বয়সের ছবির দ্বারা সে অভাব কতকটা পূরণ করা হয়েছে, আর তাঁকে যাঁরা জানেন নি তাঁরা এই ছোটোখাটো বর্ণনাগুলি একত্র করে তাঁর প্রকৃতিরও আংশিক একটি ছবি বোধ হয় মনশ্চক্ষে গড়ে তুলতে পারবেন। এই রকম অনেকগুলি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীর সমন্বয়েই ব্যাক্তিত্ব নামক দুর্জ্ঞেয় পদার্থের কিঞ্চিৎ আভাস পাওয়া যেতে পারে। যদিও বিরাট ব্যক্তিত্বকে স্পষ্টভাবে ধরতে-ছুঁতে পারা সহজ কাজ নয় এবং আমার মতো মনস্তত্ত্ব-অনভিজ্ঞ লোকের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। অতি সাধারণ ব্যক্তিকে যখন অতি কাছ থেকে দেখেও বোঝা শক্ত মনে হয় তখন অসাধারণ ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলা অনেক দূরের কথা --- পঙ্গুর গিরিলঙ্ঘনের মতো। একই ব্যক্তির মধ্যে অনেক ব্যক্তি বাস করে, এ কথাটা কে বলেছেন ঠিক মনে পড়ছে না। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না এমন কথা বলতে পারি না।”   ...

তন্দ্রাবিলাসিনীর পুস্তবালোকন

Image
২৫ শে বৈশাখের যত নিকটবর্তী হই, আমি নিজের অজান্তেই বড্ডো বেশি করে রবীন্দ্রঘেষা হয়ে যাই। এ যেন খানিকটা উপবৃত্তাকার পথে পৃথিবীর সূর্যের পরিভ্রমণ করার মতো। সারা বছরই রবীন্দ্রসূর্যের আলো মেখে থাকি বটে, তবে এই সময়টা যেন সূর্যালোকের আলোর অনেকখানি কাছে চলে আসা।       এইসময় হাতের কাছে যা পাই চোখ বোলাতে থাকি। তা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের লেখা হোক, কিম্বা তাকে নিয়ে লেখা হোক, কিম্বা তার জীবনী, কিম্বা তাকে দেখেছেন এমন কোন লেখক-লেখিকার স্মৃতিচারণ, কিম্বা তার প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন নিয়েও লেখা হাতের কাছে এলে পড়ে ফেলি, কিম্বা চোখ বোলাই।       সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজদাদা, তস্য পুত্র সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর, তস্য পুত্র সুবীরেন্দ্রনাথ ঠাকুর, তস্য পুত্র সুপ্রিয় ঠাকুর। জন্ম ১৯৩৮–এ। ফলে তার কাছে কোন সরাসরি রবীন্দ্রস্মৃতি নেই। আছে অনেকখানি শান্তিনিকেতন স্মৃতি। জীবনের একটা বড়ো অংশ কাটিয়েছেন শান্তিনিকেতনে। এমনকি শান্তিনিকেতনের পাঠভবনের অধ্যক্ষও ছিলেন। পরবর্তীকালে বিশ্বভারতী কর্মসমিতি এবং ট্রাস্ট ডিভের সদস্য।       বিদ্বা...

রবীন্দ্রনাথঃ এক আদালতীয় টানাপোড়েনের সিদ্ধান্ত

Image
  “ যা কিছু অসাধারণ, তাকে ঘিরেই কিংবদন্তী গড়ে তোলার স্বভাব আমাদের। তা সে ঘটনাই হোক, কি কীর্তি। কখনও সেই কিংবদন্তী এমনই উচ্ছ্বসিত, যার প্রতাপে অসাধারণ হয়ে ওঠে অলৌকিক; কখনও আবার তা উৎসারিত এমনই ঈর্ষা-কুৎসা থেকে, যার প্রকোপে অসাধারণের প্রকৃত মহিমারও ঘটে যায় খর্বতা। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও বারবার এমন ঘটনা ঘটেছে। ” সৌরীন্দ্র মিত্রের লেখা ‘খ্যাতি অখ্যাতির নেপথ্যে’-র ব্লার্বের শুরুই হচ্ছে এই কথাকটা দিয়ে। তার এই বইয়ের মূল বিষয়বস্তু একজনই --- রবীন্দ্রনাথ। তিনি রবীন্দ্রনাথের অখ্যাতির পেছনে যে সত্য তা উদ্‌ঘাটন করতে অনলস পরিশ্রম করেছেন, যার ফসলই হল এই বইটি। এই বইয়ের গরিষ্ঠ অংশই রয়েছে রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি এবং তৎপরবর্তী ইউরোপ জনমানসে প্রতিক্রিয়া বিষয়ে। বিশেষত, যেখানে তাকে কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টা হয়েছে বারংবার --- “দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টায় রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পুরো প্রেক্ষিতটিকেই নতুনভাবে আবিষ্কার করে এ-গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।” এর সাথে রয়েছে রোম্যাঁ রোলাঁ ও পশ্চিমের চোখে রবীন্দ্রনাথ। পড়তে গেলেই বোঝা যায় কি পরিমাণ খুঁটিয়ে রিসার্চটি উনি করেছেন, এবং তার ফলস্বরূপ এই...

বিরোধী রবীন্দ্রনাথ

Image
  “ জলে বাসা বেঁধেছিলেম, ডাঙায় বড়ো কিচিমিচি। সবাই গলা জাহির করে, চেঁচায় কেবল মিছিমিছি। সস্তা লেখক কোকিয়ে মরে, ঢাক নিয়ে সে খালি পিটোয়, ভদ্রলোকের গায়ে পড়ে কলম নিয়ে কালি ছিটোয়। ”       কড়ি ও কোমলে একটা কাব্যিক পত্র আছে বন্ধু প্রিয়নাথ সেন-কে লেখা। তার প্রথম চারটে লাইন আমায় চমকে দিল। রবীন্দ্রনাথের ব্যাঙ্গাত্মক লেখা আমি এর আগে অনেক পড়েছি। হাস্যকৌতুক, বিশেষত ব্যঙ্গকৌতুকে অনেক এরকম লেখা আছে। কিন্তু এই কবিতায় তীব্রতার মাত্রা যেন একটু অন্যরকম। মাত্রাতিরিক্তের দিকে এগিয়েছে। ফলে ২৪ বছরের রবীন্দ্রনাথের দিকে আরেকটু দৃষ্টিপাত করতে হল। এইক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, দৃষ্টিপথে তার যে লেখাগুলো আসার কথা, তার অধিকাংশই লুপ্তপ্রায়। অন্তত রবীন্দ্র রচনাবলীতে কবি নিজেই স্থান দেন নি। আর তাই, অপ্রকাশিত লেখাপত্তরের দিকে নজর দিতে হল, আর নজর দিতেই আমার চক্ষু চড়কগাছ।       সময়টা ১৮৮৫। কাদম্বরী দেবী সদ্য গত হয়েছেন। তার তিনমাস আগে তার বিয়ে হয়েছে মৃণালিনী দেবীর সাথে। এবং এই সময়ে রবীন্দ্রনাথ অর্থাৎ ১২৯১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে আদি ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদক পদের দা...

এ কোন রবীন্দ্রনাথ?

Image
  এক-একটা সময় আমার মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ আস্তে আস্তে কেমন করে যেন, আমার জীবনে, এক অন্তহীন পথ হয়ে যাচ্ছেন । আর সেই পথের ধারে ধারে কতই না পসরা! কি চাই, আছে তাই। গুরুগম্ভীর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে শপিং মল থেকে শুরু করে তার মুখে চুনকালি দেওয়ার উদগ্র আগ্রহে পথের ধারে প্লাস্টিক পেতে বসে যাওয়া ফুটপাথের বেসাতি - আমি দেখি। তা বলে সেখান থেকে টুকরো টুকরো রবীন্দ্রনাথকে আমার জীবনে জুড়ি না। আমার রবীন্দ্রনাথকে নির্মাণ করি তার রচনাবলী থেকে, তার পত্রাবলী থেকে; কণিকা-সুচিত্রা-সুবিনয়-দেবব্রত কিম্বা বন্যা-অদিতি-বিক্রম-লিজা-র গায়কী থেকে। এদের হৃদয়ের রবীন্দ্রনাথকে আমি দেখি, বিস্মিত হই । যে নির্জন এককের পথিক রবীন্দ্রনাথ নিজে হতে চেয়েছিলেন, আমি সেই নির্জন এককের রবীন্দ্রনাথকে বারংবার ফিরে পেতে চাই। তবে এই বই নিয়ে কথা বলা কেন? পসরার দু-একটা জিনিস কিনে ঘর সাজানোর ব্যাপার আর কি। রবীন্দ্রনাথ দিয়ে দিব্যি ঘর সাজানোও যে যায়! কেন সাজাবো না তাকে? অবশ্যই সাজাবো। কিন্তু সেটা যে সাজ, সেটা আমার সজ্জা নয়, মনে রাখব। তেমনই পসরার এক টুকরো, যা আমার হাতে এসে উঠেছে, চিন্ময় গুহের রবীন্দ্রনাথ। সুরের বাঁধনে : রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। ...

রবীন্দ্রজগতের মার্গদর্শকেরা

Image
আমার রবীন্দ্রনাথ আজ বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস। তাতে অবশ্য, আমার, খুব একটা কিছু আসে যায় না। রবীন্দ্রপ্রয়াণ শব্দটা আপেক্ষিক। আমার কাছে তার অস্তিত্ব নেই। আমার কাছে ‘রবীন্দ্রনাথ’ একটা তত্ত্ব। যে তত্ত্বের যাপন মহামতি গ্যেটে করেছিলেন, মহাপ্রাণ তলস্তয় করেছিলেন, ভাষা আলাদা, ভাব এক। ঈশ্বরের সভাকবি মাঝে মাঝে পৃথিবীতে আসেন। তারা মানুষকে বড় কাছ থেকে দেখেন। তারা সমালোচনা করেন না। আলোচনা করেন। মানুষ তাদের কাছে বিস্ময়ের পাত্র। অবতারেরা রিবেলিয়ান গোত্রের। তারা নিজেদের অজান্তেই মানব সম্প্রদায়ের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন বটে, কিন্তু তাদের সামনে এলে মনে হয়, আমরা কত দীন-হীন, পাপী-তাপী। কিন্তু তাদের সভাকবিদের সামনে নিজেকে বড়ো মূল্যবান মনে হয়। প্রকান্ড এ বিশ্বে অ্যামিবার মতো ক্ষুদ্রতা নিয়ে যতটা মূল্যবান মনে হওয়া সম্ভব, ততটা। “মনে রেখো, তুমি বঞ্চিত হও নি” – মৈত্রেয়ী দেবীকে লেখা রবীন্দ্রনাথের এ আপ্তবাক্য কোন অবতার ভাবদরদ দিয়ে বলেন নি, বলতে পারেন নি। আমার জীবনে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব বলে শেষ করা যাবে না। রবীন্দ্রনাথকে একটু অন্য আঙ্গিকে দেখতে বড়ো মন চেয়েছে বলে একটু অন্যরকম সংগ্রহ আমি তিলে তিলে করে চলে...