Posts

Showing posts with the label এক জীবনে অনেক জীবন

মানুষ জেগে থাকছে

Image
শিং ভেঙে বাছুরের দলে ঢুকতে কি ভালোই না লাগে! শাড়ির আঁচলটাকে গাছ কোমর করে পেঁচিয়ে পাড়া দাপিয়ে হল্লাবাজি করে যখন বাড়ি ফিরি , মায়ের একটা চাপড় ব্লাউজ ভেদ করেও পিঠে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। বাবা মুচকি হাসে। বোধ করি বুঝতে পারে , আর তো বেশিদিন নেই। বয়স বড়ো বালাই। তারও এমন একটা দিন ছিল , যখন ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ করে তারা দুই ভাই মিলে চড়ুই পাখী ধরত। আজ তা করলে লোকে সাইকায়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাবে। এতএব , মেয়ে যে বয়েসটা পার করেও করতে চাইছে না , তার অন্তরের উদগ্র ইচ্ছার মতো , কিচ্ছুক্ষণ তার অস্তিত্ব না হয় থেকেই যাক তার জীবনে।   কেবল আমার এই ডানপিটে দিশেহারা উড়নচণ্ডী রূপ দেখে আমার হতভাগা বলে , তোকে দেখে মনে হচ্ছে , বিয়ে না করলে আমার এমন কি আর ক্ষতি হবে ? আমি জানি , উত্তরে তার টি শার্ট ভেদ করে আমার অমোঘ চপেটাঘাত লাল দাগ রেখে গেছে , ঠিক আমার মায়ের মতো।   হতভাগার সাথে হেটে হেটে যখন ফিরছি , বিশ্বকর্মা পূজোর প্যান্ডেল থেকে , কিম্বা প্যান্ডেল সংলগ্ন ছেড়ে আসা ' গাদী ' খেলার কোর্ট থেকে , তখন সন্ধ্যে নামছে। আস্তে আস্তে পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ছে , কিন্তু মানুষ জেগে থাকছে...

আমার ভ্যাবাগঙ্গারাম, আমার হতভাগা

Image
  “অ্যাই, ফুচকা খাবি?”, তার প্রশ্নটা ছিল খুব নিরীহ। যে ছেলেটি আমায় এই প্রশ্নটা করে ভ্যাবাগঙ্গারামের মতন তাকিয়ে ছিল, তখন কি জানতাম, সে আমায় প্রপোজ করছে? জানলে কি বলতাম? জানি না... যান! তবে তারিখটা খুব মনে আছে --- ১৪ই ফেব্রুয়ারী। ফুচকা মেয়েদের বড়ো দুর্বল করে দেয়। একরাশ ঘনচুলের তলাকার কাঁধটার মতোন, হালকা উষ্ণ বাতাস পেলেই শিরশির করতে থাকে সারা শরীরটা, তেমনই, জিভটা, না খেয়েও, স্রেফ মনে মনে, তেঁতুল জল আর কাঁচালঙ্কার স্বাদ পায়। আমি অমোঘ দুর্বলতায় বলে ফেলেছিলাম, “হ্যাঁ---” তাকে আমি ততদিনে চিনে গেছি। অকম্মার ঢেকি। মানে ‘কোন কম্মের নয়’ বলতে যা বোঝায়, একদম তাই । তার যত আনন্দ খেলাতে, লেখাপড়ায় অষ্টরম্ভা, স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়ে স্যারের কাছে এবং বাড়ীতে মার খেয়েছে একাধিকবার। আমাদের মধ্যে একমাত্র তারই কম্পিউটার সম্পত্তি ছিল, ফলে সে আর তার বন্ধুরা হুল্লোড় করত প্রায়ই । আমরা অনেকদিন সিনেমা দেখেছি, একসাথে, তবে, বিশেষ বিশেষ সিনেমার ক্ষেত্রে মহিলা বর্জনীয়। আমরা সবাই মিলে তার বাড়ীতে কম্পিউটার দেখতে গিয়ে একরাশ বিস্ময় নিয়ে বাড়ী ফিরে এসেছি। জেনেছি, সেই কম্পিউটার থেকে যা খুশি করা যায়। এই ভ্যাব...

আমি তখন দশম শ্রেণী, আমি তখন...

Image
ঘটনাটা আবার মনে পড়ে গেল । যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখনকার কথা। অন্য একটা স্কুলে আমার হতভাগা তখন পড়ছে। আমাদের দুজনকে অপেক্ষা করতে হবে আরোও একটা বছর। চার আর দুই --- ছয় চোখের মিলন ভবিষ্যতের অন্তরালে।   তো যা বলছিলাম। সরস্বতী পূজোর দিন। সেবারে অশৌচ ছিল বলে আমাদের বাড়ীতে পূজো হল না। কিন্তু তাতে কি? স্কুলে তো যাব। সেখান থেকে বন্ধুর বাড়ী। সেখানে আড্ডা দিয়ে বিকেলে বাড়ী ফিরব। মা যত্ন করে শাড়ী পরিয়ে দিল। এখনো মনে আছে আমার প্রথম শাড়ী পড়ার দিনটা। তার আগে ছোটবেলায় যেমন বাচ্চারা শাড়ী পড়ে তেমন পড়েছি অনেক। কিন্তু এটা যেন অন্যরকম কিছু। স্কুলে সালোয়ার পড়ে যেতাম। এই প্রথম শাড়ী পড়লাম। লাল শাড়ী । পাড়ে হালকা কমলা নকশার কাজ । সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউস। গলায় সরু চেন। হাতে কাচের চুড়ী। আবার শখ করে একটা আঙটিও পড়েছি। বাবা আমার জন্যে, মানে শুধুমাত্র আমার জন্যে শাড়ীটা কিনে এনেছে। তার মেয়ে প্রথম শাড়ী পড়বে বলে কথা! বাবার চয়েস খুব ভাল, রঙ বোঝে। এই প্রথম আমার একটা ‘ শাড়ী ’ সম্পত্তি হ্ল। এটা আমার। একান্তই আমার। কাউকে এর ভাগ দেব না। কিন্তু তবুও, নিজেকে কেমন লাগছে ঠিক বুঝতে পারলাম না । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁ...

আয় ব্যাটা তুই চড়বি আমার হিরো সাইকেলে

Image
  জীবনে নিজের সম্পত্তি ঠিকঠাক রাখতে গেলে কত যে কান্ড করতে হয় তার ইয়াত্তা নেই। বড়ো বড়ো নেতারা সুইস ব্যাঙ্কে কিম্বা বন্ধুনীর বাড়ীতে টাকা রেখেও যেখানে ছাড় পান না সেখানে আমি তো এক অবলা মেয়েমানুষ। আমার দুঃখের কথা আর কি-ই বা বলি। কিন্তু তা বলে কি উঠেপড়ে লাগব না? নিশ্চই লাগব।            এই যেমন আমার সাইকেল। যেটাতে করে আমি বাজারে যাই, মাঠে-ঘাটে-হাটে-পথে চড়ে বেড়াই, সেই বাংলা ‘হিরো’ সাইকেলটার কথাই ধরুন না কেন। নীল লেডিজ সাইকেল। সুন্দর দেখতে। সামনে খাঁচা। পেছনে ক্যারিয়ার। নাম দিয়েছি --- সবেধন নীলমণি। এই সবেধন নীলমণিতে মাঝে মাঝে হতভাগাকেও ক্যারিয়ারে বসিয়ে তেপান্তরের মাঠে নিয়ে গিয়ে পিরীত করেছি। তার কোমরে টনটন করেছে রাস্তার সস্তা অবস্থার কারণে, কিন্তু আমার সাইকেল যেমন শক্ত, তেমনই পোক্ত রয়ে গেছে। মাঝে মাঝেই আমার সাইকেলটা পরের হস্তগত হয়ে যায়। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করেন, ওরে! ভাই কি তোর পর? আমি বলব, মোটেই না। কিন্তু ভাই তো আমার শাড়ী-সালোয়ারে হাত দেয় না, কিম্বা লিপস্টিক-নেলপালিশে। তাহলে আমার সাইকেলেই বা হাত দেবে কেন? বেরোতে গিয়ে যদি দেখি, ভাই নেই, কিন্তু ভাইয়ের বাইকটা...

কপালের ফোঁটার জোরে...

Image
বৃহষ্পতিবার। সকাল সকাল উঠে স্নান করেছি, শ্যাম্পু দিয়ে, অনেক কষ্টে চুল শুকিয়ে ফুরফুরে করেছি। তারপর সুন্দর করে শাড়ী পড়েছি, যা পড়তে চিরকালই আনন্দ বোধ করি, ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নিজেকে অনেকবার ঘরের বড়ো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখেছি। কানের পাশে একটা হলুদ গোলাপ, এভাবে একটা লোকাল ট্রেন্ড আনা যায় কি না ভাবছি, আজ থেকে শুরু করলাম, বাংলাদেশের মেয়েরা যেমন চুলে ফুল গোঁজে আর কি। কপালে একটা টিপ, চোখে আইলাইনার আর ঠোঁটে হাল্কা লিপস্টিক দিয়ে ভাবছি আর কিছু বাকি আছে কি? কোন গন্ডগোল হচ্ছে না তো? অঞ্জন দা অনেকদিন বাদে আসবে আজ , তার সামনে বিব্রত হবো না তো? আয়নায় নিজেকে আরেকবার দেখলে কেমন হয়? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আরেকবার একিয়ে বেঁকিয়ে দেখার আগেই দুটো ক্যাংড়া কিন্তু শক্তিশালী হাত আমার কোমড় জড়িয়ে ধরল। আমি ‘আই হাই’ করার আগেই দেখলাম আমি একটু শূন্যে উঠে গেছি, এবং তারপর ওই অবস্থাতেই ঘরের থেকে বেরিয়ে বারান্দা দিয়ে এগোচ্ছি প্রায় ভেসে ভেসে, সেই ঘরটায়, যেখানে আজ আমার অগ্নিপরীক্ষা। অগ্নিপরীক্ষাই বটে। শুনতে পেলাম ভাই গজর গজর করতে করতে বলছে, এদিকে আমাদের খিদেয় পেট চুই চুই করছে, আর ওদিকে উনি হিরোইন সাজছেন। দু মিনি...

এবার কালী তোমায়...

Image
আমাদের এদিককার সব কালী আজ জলে গেল। মানে যা বাকী ছিল আর কি। আজকে ভাইয়ের সাথে একটু বেরিয়েছিলাম বাজারে। রাস্তা দিয়ে একের পর এক কালীঠাকুর ভ্যানে চড়ে কাড়া-নাকাড়া আর ডিজে-র যুগলবন্দীতে নিকটবর্তী পুকুরের দিকে টলমল করতে করতে এগিয়ে চলছেন বটে, তবে একটা ব্যাপারে বেশ কয়েক দশকের অভিযোজন যেটা চোখে পড়েছে সেটা বলি।        ভাসানে, যে কোন ক্লাবের ক্ষেত্রেই, গানের সাথে সাথে যেটা চোখে পড়ে সেটা হল নাচ। সে এক তুমুল ব্যাপার। উৎপটাং নাচ দেখে মাঝে মাঝে নিজের শরীরটাই নেচে ওঠে। সে নাচের মহিমা কি বলা ভারী শক্ত। ছেলে-মেয়ে-বুড়ো-বুড়ি --- কারোরই নিরুৎসাহ নেই এই উদ্দাম আলপটকা নাচে। ছেলেরা নাচে জামা ঘুরিয়ে, কিম্বা না ঘুরিয়ে হরেকরকমবা টাইপে। আর মেয়েরা, সেটা যে ঠিক কি ধরনে নাচ তা বলা ভারি শক্ত। সব মেয়েই জন্মনাচিকা। তাদের প্রত্যেকেরই নাচে এক নিজস্ব স্বকীয়তার ছাপ থাকে। তা সে শাড়ি পড়েই হোক, কিম্বা সালোয়ার, কিম্বা টপ-জিন্স...        আগে, বাবা-কাকাদের মুখে শুনেছিলাম, ভাসানের সময় ছেলেরা নাচত, মুর্তির ঠিক সামনে। ঢাক-ঢোল-কাঁসা বাজত। সিটি বাজত। আর মেয়েরা মুর্তির পেছন ...

বউ

Image
  " বউ , তুই কবে আবার বিয়ে করবি?"   আমার যিনি স্বামী, মানে বর্তমান স্বামী আর কি, তার বয়স চার বৎসর। যারা আমার হতভাগাকে চেনেন বলে আমাকে সন্দেহের চোখে দেখতে চাইছেন, তাদের বলি, আপনারা আমার প্রেমিক এবং আমার স্বামীর সঙ্গে সম্বন্ধে গুলাচ্ছেন। দুজন আলাদা মানুষ, আলাদা বিষয়, আলাদা সম্পর্ক। আমার স্বামী প্রথম যেদিন আমাকে 'বউ' বলে ডেকেছি লেন , যাস্ট অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার বাবা-মা আমাকে না জানিয়ে, আমার অনুমতি না নিয়ে এমন একটা ঘটনা কবে ঘটিয়েছিলেন, তা আমার পতিদেবতার কাছে জানতে চাওয়ায়, তিনি আমার কোলে বসে বসে ললিপপ খেতে খেতে বলেছিলেন, তুই জানিস না, গতজন্মে তোর সাথে আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে তো! হিন্দুশাস্ত্র সম্পর্কে আমার যতটুকু ব্যুৎপত্তি আছে তাতে আমি পড়েছি বটে স্বামীর সঙ্গে নাকি সাত জন্মের সম্পর্ক। এহেন হাতে-কলমে প্রমাণ পেয়ে আমি আশঙ্কিত এবং আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তা এ জন্মে এই স্ত্রীরত্নটির কর্তব্য কি হবে? দেখা হলেই চিপস আর ললিপপ আর চুমু। আর তাকে কোলে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতে হবে। এই হল এজন্মের স্বামীসেবা। এমন কর্তব্যে অবিচল ছিলাম এতদিন। মানে দুই বছর ধরে। এই দুই ব...

তিন আতঙ্কবাদী

Image
অরিত্রী – সমর্পিতা - প্রধন্যা তিন বন্ধু, থ্রি মাস্কেটিয়ার্স তিন বিশুদ্ধ আতঙ্কবাদী   প্রথম লাইনে আমাদের নাম। দ্বিতীয় লাইনের বিশেষণটা স্কুলে আমাদের ইংরাজীর স্যার ডাকতেন। আর তৃতীয় বিশেষণটি আমাদের মায়েদের দেওয়া। সবকটা বিশেষণই নির্ভুল। বিশেষত তৃতীয়টা। পল্লবী, আমাদের দলের চতুর্থ সদস্যা, বড়ই সাবধানী, তাকে নিয়ে হুলুস্থুলু করা যায় না। বরং সে নিজেকে একটু গুটিয়েই রাখে। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলে বলে আমরাও দূরত্বটাকে সন্মান দিয়ে চলি। ফলে যা কিছু টানাপোড়েন, সব মূলত আমাদের তিনজনকে ঘিরেই হয়। তো এই অরিত্রী উচ্চৈস্বরে ‘হা হা হি হি’ করে আশপাশের মানুষজনদের চমকে দিতে পারে। সমর্পিতা কোথা থেকে যে কোন বিপদে টেনে এনে ফেলবে তার কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। আর আমি? আমার নিজের গুণ আমি নিজে না হয় না-ই বা গাইলাম। মজার ব্যাপার, আমরা তিনজন যখন একত্রিত হই, সে বাড়ীই হোক, কিম্বা বাড়ীর বাইরে, মোটামুটি একটা ঝড় চলে আশেপাশে। কোন ধর্মস্থানে আমরা যাই না। কারণ ধর্মস্থানে চুপ থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। আর আমরা সেই হিসাবে অবাঞ্ছিত। জানি না, একত্রে মরলে বিষ্ণুলোক বা ইন্দ্রলোকে আমাদের ঠাঁই হবে কি না। নরকে যে জায়গা হবে না এ...