Posts

Showing posts with the label কবিতা

না উত্তর

Image
  বনজ্যোৎস্নার নিথর শীতলতা থেকে আর্তনাদ উঠে আসে,     "রাত কত হল?"      মেলে না উত্তর।   একটু পরে, ঘামে ভেজা অন্ধকার জিজ্ঞাসা করে,     "ভোর কি হল?"      পেল না উত্তর।   আবার, ক্লান্ত রাতপাখী প্রশ্ন করে, করুণ স্বরে,     "আলো কোথায়?"      এল না উত্তর।

সরে যেতে হয়

Image
  এই মেঘ-বৃষ্টি-রোদে... ফুল ঝরে যায়... ঝরে যেতে হয়... এমনই সরে যেতে হয়...

যে আছ, সে আছ

Image
  যে আছ কাছে, তাকে দূরে ঠেলি না যে আছ দূরে, তাকে কাছে টানি না   দড়ি টানাটানির খেলায়, কে জিতল আর কে হারল ফিরেও দেখি না। শুধু জানি, সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের যাতাকলে আমি আর পিষতে চাই না   যে আসে, সে আসুক সহজভাবে যে যায়, সে যাক চলে অতি সহজে   অযথা অভিমানে আর বিষন্নতায় বয়ে যাওয়া যন্ত্রনারা দু-একটা ভাল লাগা সময়গুলোর গলা টিপে মারতে চায় দূরে-কাছের আসা-যাওয়ার কুয়াশায় পথ হারিয়ে মরতে চায় নিজের সুখের অনুভূতিগুলোকে।   আমি মারতেও চাই না। আমি মরতেও চাই না।

তখনও রোদ ওঠেনি

Image
  এমন মিঠেকড়া সকালে... কফির ধোঁয়াওঠা কাপ ছিল , শালের কবোষ্ণতা ছিল , সর্বনেশে কুয়াশা ছিল , নরম হলুদ বসন্ত ছিল , আর একটা হতভাগা পাগল ছিল...

এই যে ছুটি

Image
  এই যে ছুটি ======== আমার ছুটি নিরালাতে, আমার ছুটি ঘর ছাড়িয়ে আমার ছুটি অচিন গ্রামের অচিন মাঠে দিক হারিয়ে। যেখান থেকে এক নিমেষে দিগন্তলীন তেপান্তর,  যেখানেতে সবই ধূ ধূ, আকাশ-মাটি, নেই চরাচর। সেই মাঠেরই আলের ওপর, আমার ছুটি এক লহমায়, গাছের ফাঁকে চোখ চলে যায়, সূর্য ডোবার নিবিড়তায়। সেই গ্রামেতে ফিরছে গরু, ফিরছে মানুষ কাস্তে হাতে ঘুরছে শেয়াল বন বাদাড়ে, সরষে ক্ষেতের ইশারাতে। আমার ছুটি, ঠিক তখনই, হতভাগার বুকের মাঝে।  এক শালেতে জড়াজড়ি, নিবিড় করে, শীতের সাঁঝে।  আমার ছুটি এই অবেলায়, হঠাৎ করেই, কোলের কাছে  আমার ছুটি এমন করেই, তোমার কাছে, তোমার মাঝে।

কো জাগরী?

Image
কোজাগরী। কো জাগরী ? কে জেগে আছ ? এই নিশীথ রাত্রের অসীম নীরবতার মাঝে , ঘন কালো অন্ধকারের নরম জ্যোৎস্না --- তুমি কে ? আমার মনের , প্রাণের , হৃদয়ের স্তরে স্তরে কে তুমি জেগে আছ ? আমার ঘুমে , আমার জাগরণে কে আছ তুমি জেগে ? তোমায় খুঁজি , তোমার চিরচেনা পায়ের ছাপ ধরে ধরে এগোতে চাই... কিন্তু পরক্ষণেই... হারিয়ে যায়...

অন্তিম প্রার্থনা

Image
  লোকটার ইচ্ছা হল একবার দক্ষিণেশ্বর যাবে, মায়ের কাছে মানত করবে, কান্নাকাটি করবে, প্রার্থনা করবে     কারণ লোকটা একটা নিতান্তই হতভাগা, তার এমনই নিজেকে মনে হয়।   লোকটা ভাবল অনেক, কি চাইবে    অনেক দুঃখ, হতাশা, বিশ্বাসঘাতকতা আর মর্মযন্ত্রণার পরে এখন সে মানুষটা যেন আগের মতো নেই     মানে যেমনটা সে ছিল আগে, কিম্বা অতীতে, কিম্বা হতে চেয়েছিল   সম্পর্কের অযুত নিযুত অমীমাংসীত লড়াই    কিম্বা কোটি কোটি দায়িত্বের বোঝা তাকে পেড়ে ফেলেছে। হয়তো বুকের পাজর ঝাঝরা হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই      সে চায়, মুক্তি        সে চায়, প্রতিশোধ           সে চায়, প্রতিকার   বুকের কোন এক কোনে এখনও আগুন জ্বলে ---            ধিকিধিকি, কিম্বা দাউদাউ সে আগুন বাইরে থেকে যায় না দেখা     কেউ টেরও পায় না তার মারতে ইচ্ছা করে, তারপর মরে যেতে ইচ্ছা করে।   তারপর একদিন এক সন্ধ্যায়, ...

প্রতিধ্বনি

Image
  "ইদানীং আমার আর কিছুই ভাল লাগে না" এই কথা বলতে বলতে       যে লোকটা একদিন চিতায় উঠল তার গলা স্তব্ধ হল বটে       তার আওয়াজ ভেসে বেড়াতে লাগল               বাতাসে বাতাসে এই কথাটা আমি প্রায়ই শুনি      প্রায়ই আমার বুকের ভেতর থেকে       কে যেন বলে ওঠে, "আমারও কিছু ভালো লাগছে না।" সে কে? জানি না। কেবল জানি তার কিছুই ভাল লাগছে না। আকাশে বাতাসে কেবল তারই প্রতিধ্বনি... ============================= [ছবিঃ ইন্টারনেট]

বিশ্বাস

Image
  একদিন মেয়েটাকে তার প্রেমিক বলেছিল, কোন পরমহংস নাকি বলেছে, চাকরী করা দাসত্ব      এতএব বাকি জীবনটা সে কারোও দাসত্ব করে কাটাবে না মেয়েটি অবাক হয়েছিল, গর্বিত হয়েছিল,       এমন গুণধর শুদ্ধাত্মাকে নিজের জীবনে পেয়ে, নিজেকে ভেবেছিল, মা সারদা, কিম্বা রুক্মিনী, কখনও কখনও বা সীতা     প্রতিজ্ঞা করেছিল, বিয়ে সে একেই করবে।   বিয়ে হয়েছিল অবশেষে, মেয়েটির তেজে আর জেদে ।   সেই স্ত্রীকেই স্বামী বলেছিল, ফুলশয্যার রাতে,     তার জন্ম ও কর্ম নাকি দিব্য ও নির্মল     প্রথমে বেদে লেখা হয়েছে, আর তারপরে গীতায় সে বুঝেছে সে-ই সে      অর্থাৎ, নারীটির স্বামীসেবাই পরম ধর্ম । এতএব, বিনা প্রশ্নে, বিনা প্রতিবাদে নিঃশব্দ আত্মসমর্পন। নারীটি বুঝেছিল, ভারতের সনাতন ধর্মের ধারা      এবার তার শরীরে বইবে, কিম্বা তার পরের প্রজন্মে          এতএব পরম মমতায় পালন করেছিল সেই ধর্ম।     সকল অভাব-অভিযোগ, নিন্দা...

ক্ষত

Image
  আমি চীৎকার করছি         আমি চীৎকার করছি                   করেই চলেছি   গলা ফাটানো সেই আর্তনাদ     বুনো জন্তুর অসন্মানিত প্রতিবাদের মতো                                  সে আর্তনাদ       ছড়িয়ে পড়ে --- আকাশে বাতাসে তারপর মিলিয়ে যায় অতীতের গর্ভে ।   কেউ আছো ? উত্তর মেলে না ।   কারো কোনো তাপ - উত্তাপ নেই ।   আসলে এমনটাই তো হয়       এমনটা তো হয়েই থাকে ।   মহাবিশ্বের কটা আর্তনাদ আমার কানে আসে ? কটা হত্যার আর্তনাদ শুনতে পাই ? কটা গোঙানির আওয়াজ হয় ? কটা বেদনার নালিশ দেওয়ালে প্রতিদ্ধনিত হয় ?   তবু এক অব্যক্ত আশায় আমি চীৎকার করতে চাই --- কিন্তু মুখের ভেতর গোঁজা কাপড়ের টুকরো নিয়ে  ...

কেউ আছো?

একটি স্কুল পড়ুয়া ছাত্র দশতলার বিল্ডিং থেকে ঝাপাতে    ঝাপাতে          ঝাপাতে প্রাণপণে চীৎকার করছে কেউ আছো?   একটি পঁচিশ বছরের যুবতী সিলিং-এ দড়ির ফাঁস বাধতে    বাধতে        বাধতে ক্ষীণস্বরে জিজ্ঞাসা করছে কেউ আছো?   বৃদ্ধাশ্রমের বরাদ্দ ঘুমের ওষুধের থেকেও অনেক বেশি ওষুধ গিলতে    গিলতে        গিলতে মানুষটা আশা করছে কেউ আছো?   এই ভয়ঙ্কর সুন্দর জনরণ্যের মাঝে মানুষ মানুষকে খুঁজছে কেউ আছো?   উত্তর মেলে না।

অন্ধকারের গান

Image
চারদিকে কি যেন একটা হচ্ছে ঠিক... ঠাহর করতে পারছি না যেন। যে বলছে, আমি তোমায় ভালোবাসি               সে ডাঙায় তোলা চিংড়ি মাছের মতো খাবি খেতে খেতে বলছে কথাটা যে বলছে, তোমায় ছাড়া বাঁচব না              তার একটা চোখ অন্ধকারের পলাতক গলিপথের দিকে তাকিয়ে কিম্বা, যিনি বলছেন, ভগবান আমি তোমার                           তিনি একহাত দিয়ে কুশাসনটা চেপে ধরে রেখেছেন প্রাণপণে। চারদিকে কি যেন একটা হচ্ছে ঠিক... ঠাহর করতে পারছি না কেন? দূরের কৃষ্ণবর্ণ জলভরা মেঘ আমায় ডাকে।                                        বলে, আয় তুই হবি আমার ঝড়ের পাখি, তোকে শেখাব ঝড়ের গান               অথচ কাছে গেলেই                                দেখি আমার ডানাদুটোকে পিষে দেবে বলে সে প্রাণপণে...

এই যে এখানে

Image
এই যে চন্দন রঙের রাত আটকে আছে আমার সমস্ত আকাশ জুড়ে যুগ-যুগান্ত, এই যে পূর্ণিমার চাঁদকে ঢেকে দিয়ে কালো কালো গাছ বলতে চায় তফাৎ যাও এই মাটির গন্ধ আঁকড়ে থাকা ঘাসের জঙ্গল অন্ধকারের বুকে ঘুমায় চুপ করে তাদের আমি বলতে চাই, তবুও... ভালোবাসি।