Posts

Showing posts with the label ম্যাগ ম্যাগাজিন

শারদীয়া ২০২৪

Image
১ লেখিকাকে যখন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই গল্পের বিষয়বস্তু কি? উনি উত্তর দিয়েছিলেন, সেটা জানতে গেলে তো পড়তে হবে। ভাগ্যিস কথাটা বলেছিলেন ! সর্বাণী মুখোপাধ্যায় আমাকে প্রতিবারই চমকে দেন তার লেখার বিষয়বস্তুর জন্য। এমন অ-সাধারণ সব বিষয়বস্তু বাছেন, যা একদিক থেকে অস্বস্তিকর, কিন্তু অন্যদিক থেকে প্রয়োজনীয়ও বটে। ‘যো * নিকীট’ উপন্যাসটিতে প্রথম নজর কাড়েন উনি। ওই একটি মাত্র উপন্যাস, যা ওনার লেখা, নিয়ে লাগামছাড়া হইচই পড়ে গিয়েছিল। তার কারণ, শিরোনামের অভিঘাত অধিকাংশ বাংলার তথাকথিত ভদ্র শিক্ষিত পাঠককূল সহ্য করতে পারেননি। বিষয়বস্তুতে যাওয়া তো আরও দূরের কথা। যারা বইটার মধ্যে আদিম কদর্যতা খুঁজতে গিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই হতাশ হয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন, আর বাকিরা বিস্মিত হয়েছিলেন। আমি বিস্মিত হয়েছিলাম, লেখিকার সাহস দেখে। লেখিকার লেখার ক্ষমতা দেখে। তার পরের বছরের এবং এই বছরের উপন্যাস নিয়ে তেমন কোন আলোচনা হয় নি। কারণ অমন কোন শিরোনাম উনি ব্যবহার করতে পারেন নি। অথচ, এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু নিয়ে লেখার কথা খুব কম লেখক ভাবতে পারেন। লিখেছেন কজন, আমি জানি না। আমার পড়া এই প্রথম। লেখার বিষয়বস্তু ইন্টারসে * ক্...

বইমেলা ও বইসংখ্যা

Image
  আজ সকাল সাত ঘটিকায়, সমগ্র পৃথিবী যখন লেপের আরামনিদ্রা ছেড়ে পুরোপুরি ওঠে নি, আমি, মায়ের অনর্গল বকুনির দাপটে, লেপ ছেড়ে নিজেকে উলিকট এবং কাশ্মিরী শালে আগাগোড়া মুড়ে, ব্যলাকানিতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ হাতে নিয়ে, তন্দ্রাবিলাসিনী, তখন, কুয়াশার ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘরাজ্যের মধ্যে দিয়ে, দৃষ্টিপ্রদীপের আধো ভিতরে আধো বাইরে থাকা জেমস বন্ডের সাইকেল বেলের আওয়াজের পিছন পিছন, হাতে এসে পৌছল --- ‘দেশ’ পত্রিকার বইসংখ্যা।       ব্যাপারটা ড্রামাটিক হয়ে গেল, না? তা শীতের কাব্য এমনই হয়। কারণ, আমি বইমেলায় কোনদিন যাই নি। এবার যাওয়ার একটা চেষ্টা চালাচ্ছি। অন্তত একটা ঝটিকা সফর। গেলেও ক’টা বই কিনব, সন্দেহ আছে। একটা কারন, বিস্ময় সামলাতে সামলাতেই হয়তো দেখব, ফেরার সময় হয়েছে, কাঙালকে শাকের ক্ষেত দেখালে সে কি করবে? আর দ্বিতীয় কারণ, জেমস বন্ড আমাকে বেশি ছাড় দেবে। যারা মধ্য ও উচ্চবিত্ত টাইপ উপার্জনকারি, কিম্বা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো বইপ্রেমী, তারা কোনদিন বুঝতেও পারবেন না, যে, শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নাবশেষ পরে, আমরা, হতদারিদ্র আঁতেল বক্তিমে করা বইপাগলের কাছে ১০% বনাম ১৫% -এর কি মূল্য! আর তাছা...

শারদীয়া কৃত্তিবাস পত্রিকা ২০২৩

Image
১  প্রথমেই বলে নিই, আমি আজ পর্যন্ত রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাস পড়ি নি। কেবলমাত্র কিছু প্রবন্ধ, মূলত বইয়ের ওপর, পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত লেখাগুলোর কথা বললেই, যেভাবে আমার অজ্ঞাত ফেসবুক বন্ধুরাও যেচে এসে মানা করে যেতেন, বুঝতে পারি, তার লেখনশৈলী কোন পর্যায়ে পৌছলে এতবড় দায়িত্ব এই বন্ধুরা আমার ওপর দেখাতে পারেন। তো, এই প্রথম রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাস পড়লাম। এককথায় মুগ্ধ হলাম। এমন রগরগে সাহিত্যসৃষ্টি আর চটি গল্পের মধ্যে ঠিক পার্থক্যটা কোথায় বুঝতে পারলাম না। তিনি কি বাংলার লরেন্স হতে চান? মনে হয় না তা তিনি হতে পারবেন, কারণ, লরেন্সেরও একটা শালীনতাবোধ ছিল। আমার আশঙ্কা, এই উপন্যাস খুব তাড়াতাড়িই বই হয়ে বেরোবে। অথচ, প্রজাপতি কিম্বা বিবর-এর মতো নিষিদ্ধ ঘোষণা হবে না। যদিও, সমরেশ বসুও ওনার কাছে সদ্যোজাত শিশুমাত্র। কারণ, সাহিত্য আর মনস্তাত্বিক যৌনতা যদি হাত ধরাধরি করা হাটে তাহলে সমরেশ বসু হয়। আর যদি হাত ছাড়াছাড়ি করে হাটে, তাহলে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় হয়। আর্টিস্ট শোভন ভৌমিক বোধহয় তার জীবনের সেরা ছবিগুলো এঁকেছেন। শুধুমাত্র প্রচ্ছদের ছবি ছাড়া আর কোন ছবি সোশাল মিডিয়ায় দেওয়...

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: এক অসম্পূর্ণ রবীন্দ্রচেতনা

Image
  “ভগবান হতে-হতে, ভগবান হতে-হতে, ভগবান হতে-হতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাথরের মুর্তি হয়ে গেছেন। তাঁর রক্তমাংস, বাসনা-কামনা, সুখ-দুঃখ, শোক-ভোগের সমস্ত চিহ্ন ঠাকুরপুজোর ফুলচন্দনের তলায় লুপ্ত। সমস্ত বাংলা জুড়ে এক প্রাণহীণ, প্রবৃত্তিহীন, ইন্দ্রিয়রুদ্ধ রবীন্দ্রনাথের পুজো করেন তাঁর ভক্তের দল বছরে দু-দিন। ... এই রবীন্দ্রস্মরণ ও উদ্‌যাপনের একটি বহুনির্জিত চেনা ছক আছে। যেমন আছে সমস্ত অন্ধভক্তি এবং প্রতিমাপূজোর মন্ত্রে, মুদ্রায়, রীতিতে, ভানে ও আড়ম্বরে। এই ভাবেই আমরা রবীন্দ্রনাথকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে দিয়েছি, তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছি আরোপিত দেবত্বে।”       রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্য্যের সম্পর্কে অনেক কথাই কানে এসেছে, বিশেষত বিভিন্ন সন্মানীয় সাহিত্যিককে নিয়ে তার লেখার ব্যাপারে। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ তার প্রিয় বিষয়। মোটামুটিভাবে তিনি কিছু গল্পগাছাকে স্বকপোলকল্পিত কল্প-আঙ্গিকে সাজিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট নটা রবীন্দ্র বিষয়ক পুস্তক রচনা করেছেন এবং কুখ্যাত হয়ে গেছেন।       এবারের কৃত্তিবাসে তার লেখা রবীন্দ্র-প্রবন্ধে মূলত তিনি যে বিষয়টা নিয়ে লিখতে চেয়েছেন, তা হল রবীন্দ্...

সেই দাদাটি এবং ‘দেশ’-এর একটি প্রবন্ধ

Image
  সম্প্রতি ফেসবুকের এক জনপ্রিয় বই গ্রুপে আমার একটা দাদা জুটেছে। বড়ো ভালো সে দাদা। আমার প্রত্যেকটা লেখাকে সে সযত্নে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে আদরের সাথে । লেখার ধার, ভার এবং ওজন যাচাই করে তারপর আমার সমালোচনা করে।       আমি তার নাম রেখেছি – ‘হিজিবিজিবিজ দাদা’       দাদাটি প্রথম প্রথম আমার যত লেখা পড়তেন, এবং এমনকি কমেন্টসও, কেবল ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়া দিয়ে আসতেন। হাসির কথা হোক কিম্বা কান্নার কথা --- সবকিছুতেই ‘হা হা’ । যতই বলতুম, হাসি দিয়ে কি কিছু বোঝা যায়, ও দাদা, আপনি কিছু তো বলুন । কিন্তু তিনি কিছুই বলতেন না, খালি হাসতেন। দিন কয়েক পর সেই দাদা কমেন্টস করতে শুরু করলেন, অনেকটা জাহাজের পেছনের গাধাবোটগুলোর মতো। যারা এসে আমার কমেন্টসে বাদ-বিবাদ-প্রতিবাদ করছেন, সেখানে এসে তাদেরকে বলতে লাগলেন, আপনি ঠিক কথা বলেছেন, আমার এই বোনটা এক্কেবারে গন্ডমূর্খ! সেই সময়ে আমার তাকে ‘হীরক রাজার দেশে’র বিদুষক মনে হতো । রাজার ‘ঠিক কি না’-র উত্তরের সবকিছুতেই, ‘ঠিক ঠিক’। এবং অবশেষে একদিন আক্রমণ, তাও আবার বানান ভুল নিয়ে! লেখার কনটেন্টস নিয়ে ওনার কিছু যায় আসে না, আলোচনা...

যে গল্পগুলোর জন্যে ম্যাগাজিনটা পড়া

Image
#নববর্ষীয়_ম্যাগাজিন “নববর্ষ। নামটা শুনলেই মনের মধ্যে জমতে থাকে একরাশ উড়ো মেঘের মতো আনন্দ, উচ্ছ্বাস। চৈত্রের শেষে আরও একটা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পালা। বৈশাখের পয়লা দিনে শাঁখ বাজিয়ে, সাড়ম্বরে সূচনা হয় বাঙালির নববর্ষের।” লাইনগুলো পড়তে পড়তে আমি ‘ হি হি ’ করে হেসে লুটিয়ে পড়লাম। আমার কাকা যখন ক্লাস সেভেনে পড়ত তখনকার শারীরশিক্ষার একটা ফাইল যত্নে আছে। কাকার লেখার হাত চমৎকার। ছোটবেলায় ওই হাতের লেখা দেখিয়ে আমাদের কানাচাপাটি দেওয়া হত খারাপ হাতের লেখার জন্য । তো সেই খাতায় ‘পয়লা বৈশাখ’ নিয়ে লিখতে গিয়ে তার শুরুটা এরকম আছে --- “পয়লা বৈশাখ বাংলার ঘরে ঘরে মঙ্গলশঙ্খ বেজে ওঠে...”। অনিকেত গুহ-ও শুরু করেছেন সেরকম । তিনি কি সানন্দার পাঠিকা বলতে নব্বইয়ের দশকের পাঠিকাদের ভেবেছেন? যদি ভেবে থাকেন, তাহলে বলব, মরণ! আপনি বাবু ঠিকই ভেবেছেন। এখনকার ইয়ং লেডিরা এই বাক্যবিন্যাস দেখলে হেসেই খুন হবেন। যদিও তারপরে নববর্ষ সবন্ধীয় পুরাতন আমলের তথ্য ঢেলে সাজিয়েছেন প্রবন্ধটা। অবশ্য কি-ই বা আর করা। নববর্ষে বাঙালিনীদের কিস্যু আসে যায় না। বরং দুঃখ হয়। হায়! আর সপ্তাহখানেক পরে এলে কী ভালোই না হত। চৈত্র সেলেই দূর্গাপূজার...