Posts

Showing posts with the label প্রধন্যার কলাম

কুকুরপ্রেমীদের নতুন আন্দোলন?

Image
  পথকুকুরদের নিয়ে আদালতের একের পর এক রায় বেরিয়েছে। প্রথম রায়, তার বিরুদ্ধে আপিল, তারপর সংশোধিত রায়—কোনোটাই কুকুরপ্রেমীদের মন জয় করতে পারেনি।      অধিকাংশ কুকুরপ্রেমী এই রায় মেনে নিতে নারাজ। কেউ কেউ আইন অমান্য আন্দোলনের কথাও ভাবছেন। মহাত্মা গান্ধীর পর স্বাধীন ভারতে আইন অমান্য আন্দোলন হয়েছে, তবে তার প্রায় সবকটিই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সম্ভবত এই প্রথম, একেবারে গৃহস্থালি স্তরে আমরা দেখতে যাচ্ছি non-violent, non-cooperation আন্দোলনের রূপরেখা। কুকুরপ্রেমীদের কাছে এটা এক বিরল সুযোগ—নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে ভারতীয় ইতিহাসে লিখে রাখার। হাজার হোক, গান্ধী আমাদের 'ফাদার অফ নেশন' বলে কথা। তার পথই আমাদের পথ। আর প্রেমে কি না হয়। দশটা খুন করে ফেলা যায়, আর এ তো... দুটো মানুষ আহত হলে বা মারা গেলে কিই বা যায় আসে? তারা তো কুকুর নয়, তারা মানুষ। কুকুর অবলা, তার ওপর পরিবেশ পরিস্থিতি ইত্যাদি ইত্যাদি...      বিরোধীদের ব্যঙ্গের মুখেও এনাদের পড়তে হচ্ছে। বলা হচ্ছে—“কুকুর এতই প্রিয় হলে, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে লালন-পালন করুন।” অথচ এঁরাই কুকুরপ্রদত্ত নিরাপত্তা নিতে যত...

যখন যুদ্ধ চলছে

Image
যখন যুদ্ধ চলছে, সেই সকালে, শান্তিনিকেতনের উদয়নের ছাদে, চারটে মাইকে বেজে চলেছে রবীন্দ্রকণ্ঠ। জীবনে প্রথম, আমি, শনছিলাম সেই কণ্ঠ, সেই তীক্ষ্ণ ক্ষয়াটে কিন্তু কী আত্মবিশ্বা   সী কণ্ঠ। সেই কণ্ঠ উচ্চারণ করছিল, “তোমারে পেয়েছিনু যে, কখন্‌ হারানু অবহেলে, কখন্‌ ঘুমাইনু হে, আঁধার হেরি আঁখি মেলে।           বিরহ জানাইব কায়, সান্ত্বনা কে দিবে হায়,”       আমার মনে হচ্ছিল, কে দেবে আলো? কে দেবে প্রাণ? যে পরম করুণাময় ঈশ্বরের নামে অকারণে নিরীহকে হত্যা করা যায়, তার দায় কার? পরম করুণাময়ের? না কি সেই করুণাময়ের নামে যে অকারণ হত্যালীলা চালিয়ে কাপুরুষের পরিচয় দিয়ে আবার পালিয়ে মুখ লুকায়???       আমার মনে পড়ল সেই অমোঘ লাইনগুলো--- “তোমার ন্যায়ের দন্ড প্রত্যেকের করে অর্পণ করেছ নিজে। প্রত্যেকের 'পরে দিয়েছ শাসনভার হে রাজাধিরাজ।”       আমরা আজ অন্যায়ের দন্ড দিয়েছি। যে প্রতিবেশী দেশ নিজঘরে জামাই আদরে সন্ত্রাসবাদীদের পালন করে তাদের প্রভুর দুর্নামে পাশবিক আনন্দ পাচ্ছে, সেই তাদের ঘ...

তিলোত্তমা

Image
  আগের পোস্টে লিখেছিলাম, বিষন্ন লাগছে। আজও আমার সেই বিষন্নতা কাটে নি। কেন কাটে নি? এক এক করে গোছানো যাক --- ১) মেয়েরা নিরাপদ নয়। শক্তিশালী আইন তাদের পক্ষে যাওয়ার পরেও নয়। কথাটা আমার কাছে ইদানীং আংশিক সত্য লাগে। এলিট কিম্বা মধ্যবিত্ত লেভেলে যেভাবে পুরুষদের প্রতি অন্যায় সুবিধা মেয়েরা নিচ্ছেন, তাতে করে বলাই যায়, 'নিরাপদ' শব্দটা আপেক্ষিক। কিন্তু তবুও, সংখ্যাটা এতই বেশি যে, মেয়েদের সুরক্ষার জন্যে পথে নামাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। অন্তত একটা বড়ো মাপের আন্দোলনের প্রয়োজন ছিল। তা ঘটেছে। সেই আন্দোলনের ঢেউ কলকাতার রাস্তা থেকে বাংলাদেশ হয়ে লন্ডনে গিয়ে আছড়ে পড়েছে। আমি বিস্মিত, আনন্দিত, অভিভূত। মেয়েদের অধিকার আমরা মেয়েরা অর্জন করে নেব, নিজেদের ক্ষমতায়, এ আমি মনেপ্রাণে চাই। কিন্তু, বড়ো ধীরে আমরা এগোচ্ছি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে যেন, সময় বড়ো কম। এখনই যদি না তেড়েফুড়ে ওঠা যায়, তাহলে আর কখনই নয়। সেটা হবে কি? না কি, এক রাতের পথ দখলের পর আমরা আবার ফিরে যাবো আমাদের ড্রয়িংরুম ড্রামা-তে। অবস্থা কিন্তু সেদিকেই এগোচ্ছে। একমাস পরে এটা আর ঐতিহাসিক ঘটনা থাকবে না। ব্যর্থতার কারণ জানতে চেয়ে স্কুলে ইতিহাসে প্...

জাস্টিস

Image
  আমি ‘দখল’ শব্দটা বুঝি না। দখল আমার পছন্দের শব্দ না। দখল শব্দটার মধ্যে একটা ঔদ্ধত্য আছে। কিন্তু আমি প্রতিবাদ বুঝি। প্রতিরোধ বুঝি। ভাষায়, গানে, শিল্পে কিম্বা চরম সময়ে পথে নেমে। বাঁশবাগানের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া গ্রাম্য রাস্তাটা পূর্ণিমার আলোর জোয়ারে যখন ভেসে যায় জোনাকির সাথে ঝিঁঝিঁপোকার আবহে, আমি ভাই কিম্বা বাবার হাত ধরে হাঁটি, ভয়ে ভয়ে। সুন্দর ভয়ের আবহে ডুবে যায়। আমার চোখ মেলে পুর্ণিমা দেখা হয় না। থেকে থেকেই বাঁশবনের অন্ধকারে চোখ চলে যায়। আমি জানি, সুন্দরের উল্টোপিঠে বিকৃতি আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি একা হলেই সে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। আমি মশাল হাতে তার প্রতিরোধ করতে চাই। কিন্তু একা কি সম্ভব? না। শক্তি হাতে হাত রাখলে বাড়ে, এমনকি, যে শক্তি মাথা তুলে প্রতিরোধ গড়ছে, দূরাগত শব্দও তাকে শক্তি জোগায়। ভাষায়। আমি শব্দশক্তিকে অবলম্বন করি। সেই শক্তিপুঞ্জের কাছে আমার বার্তা দিই, যারা আজ রাতে মশাল নিয়ে বাঁশবাগানের অন্ধকারের বিকৃতিকে দূর করার জন্য পথে নামবে --- তোমাদের জন্য ভালোবাসা... আমি আজ তাদের সাথে সশরীরে থাকতে পারব না, আমার দুর্ভাগ্য। কিন্তু আমার সমস্ত মন-প্রাণ আজ তাদের সঙ্গেই থাকবে। ‘দ...

গণেশ হালুই ও পূজাবার্ষিকী

Image
  প্রত্যাশামতোই আনন্দবাজার পত্রিকার পূজাবার্ষিকী সংখ্যা আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা শ্রাবণ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করে নি, মড়া আষাঢ়েই হয়েছে প্রকাশ, এবং গতবারের মতো, এবারেও প্রচ্ছদ বিতর্কে গত দুই দিন ধরে ফেসবুকে চোখ রাখা দায়। প্রসঙ্গত গতবারের ‘দেশ’ পত্রিকায় শ্রদ্ধেয় রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গা’ যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছিল, আমার বিশ্বাস, তা পত্রিকার বিক্রীটাকে বাড়িয়ে দেয়। এবং আমার আরও বিশ্বাস, এবারে আনন্দবাজার পত্রিকার পালা। কারণ, আনন্দবাজার পত্রিকা’র সে জৌলুস বহু বছর আগেই অস্তাচলে। এবং এবারের পালা শ্রদ্ধেয় গণেশ হালুই-এর। এই ছবি নিয়েও দুই ভাগ হয়ে গেছে। তৃতীয় একটা অদ্ভুত দলকে চোখে পড়ছে, তাদের কথা পরে আসছি। প্রথম ভাগ, অবশ্যই ছবির সমর্থনে কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, এই ছবির মাহাত্ম্য অসাধারণ পর্যায়ের। গণেশ হালুই নিজেই কিংবদন্তী। তিনি দুর্গা-ই বা কেন আঁকবেন? শিল্পে কি বিদ্রোহ হতে পারে না? নতুনত্ব আসতে পারে না? পূজোসংখ্যায় দুর্গা আঁকাটাকেই কি মাস্ট করতে হবে? গণেশ হালুই শারদীয়ার বন্দনা করেছেন, নিজের মতো করে, প্রচলিত প্রথায় নয়, এবং এ এক ধরনের বিদ্রোহ। প্রথাগত শারদ প্রচ্ছদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। শিল্...

বিশ্বকাপ, ভারত ও একটা মন খারাপের কথা

Image
  ভারত বিশ্বকাপ জিতেছে। মোটামুটিভাবে শেষ বল করার আগে থেকেই আমার আশেপাশে বাজী ফাটতে শুরু করেছিল। বেশিরভাগ ঘর থেকেই লোকজনের উল্লাস ভেসে আসছিল। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট আসতে শুরু করেছিল। শেষ বলের পরে বন্যার মতো তারা ভাসিয়ে দিয়ে যায় আমার আশপাশ। আমার উন্মাদনা। আমার ইমোশন।       ক্রিকেট দলগত খেলা। আমি ক্রিকেট খেলা দেখতে ভালবাসি। খুব একটা এ নিয়ে কথা বা পোস্ট কোনদিনই করি নি। আগের বিশ্বকাপে অমন মর্মান্তিক হারের পরেও কারো সাথে এ নিয়ে মুখ ফুটে, অন্তত সোশাল মিডিয়ায় , কিছু আলোচনা করি নি। আজ করছি। কারন, দলের মধ্যে থেকে গোটা তিনেক মুখ আমার চোখের সামনে ভেসে আসছে। অত্যন্ত যন্ত্রনাকাতর দু-তিনটে মুখ। কাল রাত্রে যখন একটা নিবিড় শান্তি নিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলাম, ঘুম আসার আগে পর্যন্তও সেই তিনটে মুখ ভেসে আসছিল বারবার। স্বপ্নে কি তারা এসেছিল? জানি না। আমার স্বপ্ন সাধারণত মনে থাকে না। কালকেরটাও মনে নেই।       বিরাট কোহলি। রোহিত শর্মা। জসপ্রীত বুমরা।       আমাদের সময়ের তিন জাদুকর। আমার বাবা-কাকারা বলেন কপিল দেবের কথা, শচীন তেন্ডুলকরের ক...

তসলিমাঃ লেখকদের আসলে পাঠক কি পছন্দ করবে, তা ভেবে, লেখা উচিত নয়

Image
কাফকা-র নাম ছোট্টোবেলা থেকে শুনে এসেছি। তার লেখা কালোত্তীর্ণ। অসামান্য। ‘মেটামরফোসিস’ যখন পড়লাম, মনে একদমই দাগ কাটল না। তিনটে বাংলা অনুবাদ এবং গোটা দুয়েক ইংরাজী তর্জমা পড়েও মনে হল না, এ লেখা খুব একটা ভালো লাগার মতো। ‘দ্য ট্রায়াল’ শেষ করে উঠে ভাবলাম, কেন পড়লাম? সময় নষ্ট। ‘দ্য কাসল’ অর্ধেক পড়ে রেখে দিয়েছি। মোট কথা, আমার চোখে কাফকা খুব একটা কহতব্য নয়। এর মানে কি? এর মানে এই যে, কাফকা বোঝার মতো বুদ্ধিসুদ্ধি আমার হয় নি। যে পর্যায়ে গেলে কাফকার লেখার মর্মার্থে আসা যেতে পারে, আমি সেই পর্যায়ে এক্সিস্ট-ই করি না। এই সিদ্ধান্ত কেন? কারণ, মার্কেজ থেকে শুরু করে মুরাকামি --- প্রতিথযশা লেখকের লেখায় এবং চিন্তনে কাফকার যে কি প্রভাব তা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। অনেক বিদিগ্ধ পাঠকও কাফকার কথায় চুপ করে যায় বিস্ময়ে কিছু বলতে না পেরে। লেখকেরা, বিদগ্ধেরা যখন লেখক কাফকার গুণগান করে, সন্দেহ নেই, তখন, পাঠক হিসাবে আমি চুড়ান্ত ব্যর্থ।       এই গোড়চন্দ্রিকার উদ্দেশ্য কাফকা নয়, এক লেখকের প্রতি আর এক লেখকের বক্তব্য। মনে পড়ে, বেশ কয়েকবার শ্রদ্ধেয় রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার সমালোচনা করেছিলাম। অনেক...

‘পাসকরা মাগ’ এবং একটি বিতর্ক

Image
  কিছু কিছু সময়ে একদম লিখতে ইচ্ছে করে না, মনে হয়, অহেতুক ঝামেলায় জড়ানোর কোন মানে হয় না। পাথরে কি আর পেরেক গাঁথে? আবার কিছু কিছু সময় না লিখেও পারা যায় না। মনে হয়, হোক পেরেক ভোঁতা, হাতুড়ির বাড়িটা যে মেরেছিলাম, তা নিজেরও যেমন মনে থাকবে, আর বাড়ি মারার শব্দটা, অন্তত কয়েকজনের কিছু সময়ের জন্য হলেও অস্বস্তিতে ফেলবে।       অনেক অনেক আগের কথা। বটতলার বই প্রকাশিত হত। সস্তার বই। সস্তার বিষয়। সস্তার আমোদ। তারই একটা বই হল ‘পাশকরা মাগ’। নীচে ব্র্যাকেটে লেখা, “সামাজিক প্রহসন”। একজন এই বইটার প্রচ্ছদের একটা পোস্ট দিলেন ফেসবুকের একটি জনপ্রিয় বইয়ের গ্রুপে। তার কাজ পুরোনো বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি শিল্পীর নামসমেত পোস্ট করা এবং জানানো, ওহে এমন সব বই আগে ছিল। তিনি আসলে দুগ্ধপোষ্য শিশু সেজে জনগনের প্রতি সাধারণ জ্ঞান জ্ঞাপন করছেন। কারণ, বেশরভাগ বইয়েরই কোন প্রাসঙ্গিকতাই নেই বর্তমান যুগে। আর থাকলেও তিনি জানানোর প্রয়োজন মনে করছেন না, তার একটাই কারণ, তিনি নিজেও সে ব্যাপারে জ্ঞাত নন। এই সমস্ত পোস্টের রেসপন্স প্রায় নেই বললেই চলে।       এখন, এই বইটার প্রচ্ছদসমেত প...

'আমাকে দেখুন' কিম্বা 'আমরা দেখি'

Image
  সম্প্রতি , একটি জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কলাম নিয়ে হুলুস্থুল বেঁধে গেছে । সঙ্গে এই কলামের স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে বহু মানুষ কথা লিখে চলেছেন । ততোধিক মানুষ সেই লেখা কথাগুলোকে নিয়ে বাকবিতণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছেন । এর মধ্যে লেখক , প্রকাশক এবং পাঠক --- তিনপক্ষই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জুড়ে গেছেন । আমি লেখিকা নই , পাঠিকা । সাহিত্যের আঙ্গিনায় দর্শক হলেও কিছু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি এ প্রসঙ্গে , সাহিত্যেরই খাতিরে । বইমেলার কয়েকদিন আগে থেকেই , নব্যলেখকদেরকে নিয়ে , বিশেষত , যাদের একটা অংশ ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসেছেন , রীতিমতো ব্যঙ্গ চলছে , মিম চলছে । এই নব্য লেখকেরা তাদের যাবতীয় সৃষ্টির বিজ্ঞাপন ফেসবুকেই করছেন । কিম্বা , অনেক ক্ষেত্রে , ব্যক্তিগত মেসেজ কিম্বা পোস্টের কমেন্টসে গিয়ে তাদের বইয়ের কথা জানাচ্ছেন । এদের অধিকাংশই তাদের বইয়ের বিজ্ঞাপন করার জন্য বছরের পর বছর ধরে ফেসবুককেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন । এইভাবে আস্তে আস্তে তাদের পরিচিতমন্ডলী তৈরী হচ্ছে , ফ্যা...