Thinking Fast and Slow
কত রকমের নন-ফিকশন বই বের হচ্ছে! কত
অদ্ভুত তার বিষয়। কয়েকটি জনপ্রিয় বইয়ের রিলস কিংবা short video-তে দেখি একটা বইকে বর্তমান
সময়ে কী সাংঘাতিক গুরুত্বই না দেওয়া হচ্ছে। অতঃপর বইটা কিনলাম।
System 1 → Fast Thinking
System 2 → Slow Thinking
Kahneman সাহেব বলছেন (মানে আমি যতদূর
পড়লাম আর কি), আমরা সাধারণত System 1 দিয়েই আমাদের অধিকাংশ কাজ চালাই। তাহলে তার মানেটা
কী দাঁড়াল? আমরা নিজেদেরকে যতটা যুক্তিপূর্ণ ভাবি, বাস্তবে ততটা নই; আমাদের চিন্তা
নির্ভর করে দ্রুত-অচেতন ও ধীর-সচেতন প্রক্রিয়ার সংঘাতে।
ঘটনাটা
এইটুকুই নয়, আরও অনেক আছে। আর যত ভেতরে ঢুকছি, সত্যি বলছি, ক্লান্তি আমায় গ্রাস করছে।
মনে হচ্ছে বইটা আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, আর সেই টানটা ক্লান্তিকর। অথচ এ বই যথেষ্ট
ইন্টারেস্টিং, কিন্তু একে আয়ত্ত করতে গেলে আমাকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হচ্ছে। অভ্যাস
কি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে, না আমার প্রথাগত পড়াশোনা এবং বিষয়বস্তুর বাইরে বলে? ইংরেজি
এই বইটি বাংলা অনুবাদ ওপার বাংলায় করলেও করতে পারে, এপার বাংলায় হলে আশ্চর্যই হব। যদিও
এই বই আমি যতটুকু পড়লাম, বলতে পারি, প্রথাগত চিন্তাভাবনার ভিতটাই সরে যাচ্ছে। নড়ে যাচ্ছে।
আমরা নিজেদের যতই উদারপন্থী বলি না কেন, ‘বায়াসনেস’ আমাদের দোসর। রামকৃষ্ণদেবের ভাষায়
অশ্বত্থ গাছের ফেকড়ির মতো। অথচ আমরা নিজেদের প্রোগ্রেসিভ ভাবি। বিশেষ করে বাঙালি কলেজ
লাইফ থেকেই ভাবতে শুরু করে দেয়।
আবারও
বলি, আমার ধারণা, এ বই দ্রুত পড়ার মতো একদমই নয়—এ বই Path-Breaking বই। দিন-মাস-বছর—সময়
নিয়ে পড়াই ভাল।

Comments
Post a Comment