Posts

রসিদি টিকট

Image
  “একদিন খুশওয়ান্ত সিং কথায় কথায় বলেন, 'তোমার আবার জীবনী কি, শুধু এক-আধটা অ্যাকসিডেন্ট। লিখতে বসলে রেভিনিউ স্ট্যাম্পের পেছনে লিখে শেষ করা যায়। রেভিনিউ স্ট্যাম্প সম্ভবত এজন্যই বলেন, অন্যান্য টিকিটের সাইজে পরিবর্তন হয়, কিন্তু রেভিনিউ স্ট্যাম্পের সাইজ একই থাকে।        ঠিকই বলেছিলেন—যা কিছু ঘটেছে, মনের স্তরেই ঘটেছে এবং সে সবই কাহিনি-নভেলের মাঝে ঢুকে গেছে। তাহলে বাকি আর কী থাকে?        তবুও কয়েক ছত্র লিখছি—এমন কিছু, যা জীবনের লেখা-জোখা কাগজে যেন ছোট্ট এক রেভিনিউ স্ট্যাম্প এঁটে দিচ্ছি—কাহিনি-নভেলের লেখাজোখা কাঁচা রসিদকে পাকা রসিদ করার জন্য।” লিখছেন অমৃতা। তার জীবন তাহলে কেমন? শুধুই কি এক টুকরো রসিদে টিকিট? না তো! সেই টিকিটের পরতে পরতে ছবির পর ছবি। সেই ছবি যুক্ত করেছেন জনা কয়েক মানুষ — সাজ্জাদ হায়দার, শাহির, ইমরোজ… আমি যে অনুবাদ পড়ছি, ‘আমার কাছের বন্ধুরা’ — রসিদে টিকিট -এর থেকে একটু আলাদা। কতটা আলাদা সেটা হয়তো ভাষা সংসদ থেকে যে অনুবাদ বেরিয়েছে রসিদি টিকিট নামে, সেটা পড়লে বোঝা যাবে। কেন আলাদা? এই বইটার ভাষান্তর করেছেন যিনি, সেই সুব...

কুকুরপ্রেমীদের নতুন আন্দোলন?

Image
  পথকুকুরদের নিয়ে আদালতের একের পর এক রায় বেরিয়েছে। প্রথম রায়, তার বিরুদ্ধে আপিল, তারপর সংশোধিত রায়—কোনোটাই কুকুরপ্রেমীদের মন জয় করতে পারেনি।      অধিকাংশ কুকুরপ্রেমী এই রায় মেনে নিতে নারাজ। কেউ কেউ আইন অমান্য আন্দোলনের কথাও ভাবছেন। মহাত্মা গান্ধীর পর স্বাধীন ভারতে আইন অমান্য আন্দোলন হয়েছে, তবে তার প্রায় সবকটিই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সম্ভবত এই প্রথম, একেবারে গৃহস্থালি স্তরে আমরা দেখতে যাচ্ছি non-violent, non-cooperation আন্দোলনের রূপরেখা। কুকুরপ্রেমীদের কাছে এটা এক বিরল সুযোগ—নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে ভারতীয় ইতিহাসে লিখে রাখার। হাজার হোক, গান্ধী আমাদের 'ফাদার অফ নেশন' বলে কথা। তার পথই আমাদের পথ। আর প্রেমে কি না হয়। দশটা খুন করে ফেলা যায়, আর এ তো... দুটো মানুষ আহত হলে বা মারা গেলে কিই বা যায় আসে? তারা তো কুকুর নয়, তারা মানুষ। কুকুর অবলা, তার ওপর পরিবেশ পরিস্থিতি ইত্যাদি ইত্যাদি...      বিরোধীদের ব্যঙ্গের মুখেও এনাদের পড়তে হচ্ছে। বলা হচ্ছে—“কুকুর এতই প্রিয় হলে, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে লালন-পালন করুন।” অথচ এঁরাই কুকুরপ্রদত্ত নিরাপত্তা নিতে যত...

পিঞ্জর

Image
  “যে কোনো মেয়ে, সে হিন্দু হোক কি মুসলমান, যে সব মেয়েরা ফিরে গিয়ে আপন আপন ঘরে ঠাঁই পাচ্ছে, মনে করো তাদের সঙ্গে পূরোর আত্মাও সঠিক ঠিকানায় পৌঁছে গেছে।”        দেশভাগের ক্ষতচিহ্ন আর তার থেকে যে বিষ ছড়িয়েছে, আজও আমরা তার ভুক্তভোগী। অন্তত আমাদের আগের জেনারেশন। আমাদের মধ্যে কিংবা আমাদের পরে এর প্রভাব অতটা সুদূরপ্রসারী হবে না, এবং আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাবে। পড়ে থাকবে এক টুকরো মর্মান্তিক ইতিহাস।        এই ইতিহাস আমাদের গল্পে-গাঁথায়। এই ইতিহাস আমাদের চারপাশের রাস্তায়, বাড়িতে, ক্ষেতে-খামারে। ভারত এবং প্রতিবেশী দুটি দেশই এই ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলেছে, আজকের যুগে সঠিক ও সটীক প্রমাণের কারণে যাকে আর অস্বীকার করা যায় না। অমৃতা প্রীতম দেশভাগের শিকার। অমৃতা দেশভাগের পরে দেশভাগের কুটিল পরিণতির সাক্ষী। অমৃতা রচনা করেছেন ‘পিঞ্জর’।        এই উপন্যাস বহুপঠিত। বহু আলোচিত। আর তাই আমার বলার জায়গা খুব কম। অহেতুক আবেগপনায় ভাসতেও মন চায় না। কারণ, অনেক আবেগ আমরা খরচ করে চলেছি অহেতুক। নিজেদের আবেগী বলে গর্ববোধ করি বটে, বুঝতে চাই না—এই আবেগ ...

একান্ত বিষয়

Image
  সন্তান কি সবারই প্রিয়? কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কদাপি নয়। পিতা-কন্যার সম্পর্ক বড়ো মধুর…        খবরের কাগজ কিংবা নিউজ চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা আমার পাশের পাড়া — রোজ একথা মিথ্যা প্রমাণ করে চলেছে।        কারণ, কথাটা সর্বৈব মিথ্যা। এরকম একটা মিথ চালানোর পেছনে পারিবারিক ষড়যন্ত্র আবহমানকাল ধরে চলে আসছে। তারও ভিত্তি সমাজ। বৈদিক যুগ কিংবা প্রস্তর যুগের অনেক ইতিহাস এখন আমাদের চোখের সামনে।        এখন এর একটা পর আছে। সেই ‘পর’টা হল — যদি সেই সন্তান স্বাভাবিক না হয়? তাহলে? গোদের উপর বিষফোঁড়া। আজীবন সন্তানকে সঙ্গ দিয়ে চলতে হবে, সন্তান আমায় সঙ্গ দেবে না। আমার ভবিষ্যতের অ্যাসেট অন্ধকারে চলে গেল। তখন কি হবে? এর উত্তর খুঁজছেন কেনজাবুরো ওয়ে। জাপানের দ্বিতীয় নোবেলপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক। সাহসী লেখা। বড়ো মর্মান্তিক লেখা। A Personal Matter — বাংলায় অনুবাদ হয়েছে ‘ একান্ত বিষয় ’ নাম দিয়ে। অনুবাদ করেছেন শওকত হোসেন। মন্দ নয় অনুবাদটা। বইয়ের পেছনের পৃষ্ঠায় এই গল্পের একটা ইতিহাস আছে ছোট্ট করে — লেখকের ব্যক...

জুঠন

Image
  ‘জুঠন’ শব্দটার অর্থ কি? উচ্ছিষ্ট। ভারতবর্ষে মানুষ উচ্ছিষ্ট হয়। আগেও হত। এখনও হয়। যারা এই কথাটাকে মেনে নিতে চাইবেন না তাদের জন্যে আমি একটাই শব্দ উচ্চারণ করব --- দলিত। প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত কত দলিত নীরবে এক যন্ত্রণাময় জীবন যাপন করছে, সে কি আর আমরা জানি না? এখন তো এদের নিয়ে অনেক সিনেমা কিম্বা ওয়েব সিরিজ হয়। ভারতবর্ষের ‘গোবলয়’ বিখ্যাত হয়েই আছে দলিতদের ওপর নিকৃষ্ট ব্যবহারের জন্য। দলিত শব্দের অর্থ করা হচ্ছে ‘দমিত’, ‘চূর্ণ-বিচূর্ণ’, বা ‘দলিত-নিপীড়িত’। এরা মূলত ভারতের নিম্নবর্ণের সেইসব মানুষেরা, যারা ঐতিহাসিকভাবে বর্ণপ্রথার কারণে সমাজে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বুদ্ধের আমলের কথা ভাবুন। সে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে! এমনকি বৈদিক সভ্যতা, ইতিহাস যেখানে স্পষ্ট নয়, সেই সমাজও এর বাইরে নয়। দলিতরা প্রধানত চতুর্বর্ণ ব্যবস্থা (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র) থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত, তথাকথিত ‘অস্পৃশ্য’ শ্রেণির মানুষ, যাদের সমাজের নিচু স্তরে ঠেলে রাখা হয়েছিল। ঠেলে রাখা হয়েছিল বলার থেকে বলা ভাল, ফেলে রাখা হয়। আর তা কতটা নারকীয়তার সঙ্গে হয়, তার উদাহরণ ‘দলিত সাহিত্যে’ ভুরি ভুরি আছে। তারই এক সাংঘাতি...

অ্যানিমেল ফার্ম

Image
  “একটা বিশেষ সময়কালকে কেন্দ্র করে রচিত হলেও, একথা অনায়াসে বলা যায় যে এই উপন্যাস প্রকৃত অর্থেই কালজয়ী। বর্তমান সময়েও, 'সব পশুরাই সমান' থেকে 'সব পশুরাই সমান কিন্তু কিছু পশু অন্যদের চেয়ে বেশি সমান' হয়ে ওঠার এই আদর্শচ্যুতির গল্পে, এই অনুবাদকের মতো পাঠকরাও প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাবে বলেই আমার বিশ্বাস।”       লিখছেন প্রবাল বসাক। ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ উপন্যাসের অনুবাদক। এই উপন্যাস ক্লাসিক উপন্যাস, কাল্ট উপন্যাস। নতুন করে কিছু বলতে যাওয়া বাতুলতা। আমি কেবল সেই সময় আর এই সময়ের মধ্যেকার সেতুটাকে খুঁজি। সেই সময়ঃ ------------- জর্জ অরওয়েল এই উপন্যাসটি লিখেছেন ১৯৪৫ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের শেষদিকে। গল্পটা, সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান, বিপ্লব, এবং তার বিকৃতির রূপকাঙ্গিক। 1. Mr. Jones = Tsar Nicholas II - রাশিয়ার শেষ রাজা, দুর্নীতিগ্রস্ত, গরিবদের দুঃখ-দুর্দশা বোঝেন না। 2. Old Major = Karl Marx - আদর্শবাদী, যারা পশুদের মুক্তির স্বপ্ন দেখায়, ঠিক যেমন মার্ক্স ‘শ্রেণীহীন সমাজ-এর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। 3. Animal Rebellion = 1917 Bolshevik Revolution - পশুরা খামার দখল ন...

1984

Image
  যে বই নিয়ে কয়েক লক্ষবার আলোচনা করা হয়ে গেছে, সে বই নিয়ে কি বিশেষ করে কিছু বলা যায়? না আমার মতো অতি সাধারণ পাঠিকার পক্ষে তা মানায়? অবশ্যই মানায় না। তবে কয়েকটা বিষয়কে সামনে আনা যেতেই পারে। বিশেষ করে কয়েকটা শব্দ, যা কালজয়ী, আর এই সময়ে দাড়িয়েও কি সাংঘাতিকভাবে প্রযোজ্য!       তার আগে একটা কথা বলে নেওয়া যাক। ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস এর আগে আমি দুটো পড়েছি। অ্যালডাস হাক্সলি-র আর রে ব্র্যাডবেরি-র। কিন্তু জর্জ অরওয়েল পড়ার সময় আমার মনে হচ্ছিল, এ যেন অন্য লেভেলের উপন্যাস। তুলনা না করেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, ডিস্টোপিয়ান অভিজ্ঞতায় এ আমার পড়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। আর বুঝতে পারছি, হারুকি মুরাকামি কেন 1Q84 নাম দিয়েছিলেন তার উপন্যাসের।       মজার ব্যাপার ভারতে এই বই অনুবাদ হল ২০২৫ সালে। আর হল তো হল, একেবারে দু-দুটো! ১৯৪৯ সালের বই এখন অনুবাদ হচ্ছে! ভ্যালা রে বাঙালি! জানি না, এর মাঝে অনুবাদ হয়ে ‘আউট অফ প্রিন্ট’ হয়ে গেছে কি না, হলে তা আমার জানা নেই। অনুবাদ করেছেন দুইজন। রাকেশকুমার দাস এবং প্রবাল বসাক। একটা বেরিয়েছে কল্পবিশ্ব থেকে, আরেকটা ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাবল...