Posts

যুক্তি ও কল্পনাশক্তি

Image
“কল্পনাশক্তির ব্যায়াম নিয়মমতো শেখানো হয় না বলে সাধারণ মানুষের মনে বামপন্থা এখন আত্মরক্ষা এবং স্বার্থাধিকারের পথ বৈ আর কিছু না। সারা জগতের শোষণ থামানোর যে-অদম্য ইচ্ছে সম্বন্ধে মার্ক্সসাহেব লিখেছিলেন, আজকের দুর্ধর্ষ পুঁজিবাদের সামনে সেই ইচ্ছের অঙ্কুর পোঁতা অসম্ভব।”       মোটামুটি এই হল গায়ত্রীর বিষয়, এই বইটার ক্ষেত্রে। বই না বলে বক্তৃতা বলাই ভাল। এখন প্রশ্ন হল, মার্ক্সসাহেব আসলেই কোন ব্যাপারে নজর দিয়েছিলেন? – কনটেন্টবিহীন ভ্যালু-ফর্ম।       মার্ক্সের বক্তব্য, মান বা value সমাজে প্রকাশ পায় ‘মূল্যরূপ’ হিসেবে। এটি একটি রূপান্তরের প্রক্রিয়া, যেখানে শ্রমশক্তি যে কোনো পণ্যের মধ্যে ‘মূল্য’ হিসেবে প্রতিফলিত হয়। যখন একটি পণ্যের মূল্য শুধু তার অভ্যন্তরীণ গুণাবলীর উপর নির্ভর না করে, বরং বাজারে তার বিনিময়যোগ্যতা বা মূল্যের দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা নির্ধারিত হয় — তখন তা হয়ে পড়ে ‘contentless’ বা নিরবস্তু। অর্থাৎ, পণ্যের ব্যবহারমূল্য, প্রয়োজনীয়তা, মানবিক উপযোগিতা — এই সব হারিয়ে গিয়ে শুধু তার টাকা হয়ে ওঠাই মুখ্য হয়ে যায়। তখন তার মূল্যরূপ বাস্তবিকী কোনো শ্র...

গণতন্ত্রের রহস্য

Image
  গায়ত্রী স্পিভাক নিয়ে বলার দুঃসাহস আমি দেখাব না। তার বইয়ের রিভিউ এটা নয়। কারণ, গায়ত্রীর চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রটি আমার কাছে সম্পূর্ন নতুন, শুধু তাই নয়, গায়ত্রীর বিদগ্ধতার সাথে আমার কোন তুলনাই চলে না। তবু কেন লিখতে বসা? বাংলার আপামর পাঠকদের সামনে আরেকবার তাকে তুলে ধরা। যদি বলেন, ওহে, তুমি কি বলবে? গায়ত্রীর কাজকম্মো আমরা অনেক আগেই গুলে খেয়েছি। সুতরাং তাকে নিয়ে তোমার বলার কোন প্রয়োজন নেই। আমি বলব, অত্যন্ত দুঃখিত, বাংলার পাঠক সমাজের অধিকংশই এই মুহূর্তে ভুলেই গেছে গায়ত্রী কিছুদিন আগে ঠিক কি পুরস্কার পেয়েছে।       এতএব, আমার সাধ্যমত গায়ত্রীর কথা বলব। সমর সেন স্মারক বক্তৃতায় গায়ত্রী গণতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন করছেন। কি সেই রহস্য? গায়ত্রীর মতে, গণতন্ত্রের রহস্য তিনটে বিষয়ে নিহিতঃ- ১। গণতন্ত্র ব্যাপারটির উদ্দেশ্য সমাজের সকল অংশের একত্র উন্নতি, এখানে কোন দলবাজি কিম্বা এলাকাবাজি মুখ্য নয়।       গায়ত্রী খুব স্পষ্ট বলছেন, “মনে রাখবেন যে, গণতন্ত্র practice করে যারা, অর্থাৎ vote দেয়, তাদের সবচেয়ে সংখ্যাগুরু অংশের শিক্ষার তালব্য 'শ' নেই। … গণতন্ত...

শোনো বাতাসের সুর

Image
  অনেক সময় আমার অবস্থা এমন হয়ে যায়, বাঙাল ভাষায় যাকে বলে, আউলা ঝাউলা। কৌতুহলবশত উইকিপিডিয়াতে হারুকি মুরাকামি সার্চ করতে গিয়ে দেখি, ভদ্রলোকের বয়স ৭৫ বছর! যাকে আমি চিরতরুণ বলে ভাবি, সে এমনতর বার্ধক্যের সীমায় চলে চলে গিয়েও এমন সব লেখা লিখতে পারেন, ভাবা যায় না।       আমি তাই খুঁজতে খুঁজতে তার নবীনতম সময়ের লেখায় ফিরে যেতে চাই। ফিরে যাই ১৯৭৯ সালে। Rat Series এর প্রথম বই Here The Wind Sings. প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। পড়তে গেলেই বোঝা যায়, অনেক কাঁচা সময়ের লেখা। পড়তে গেলে বোঝা যায়, একটু অন্যরকম লেখা। পড়তে গেলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের অনুবাদের কী পরিমাণ হাড়ির হাল হলে এই ধরনের অনুবাদ মার্কেটে বিকোতে পারে। জিয়া হাসানকে বলতে ইচ্ছে করে জিও হাসান, যুগ যুগ জিও, কিন্তু এমন অনুবাদ, ভাইটি আর করিও না। তুমি অনুবাদ না করলেও আশা করি পেটের ভাত জুটবে তোমার। কিন্তু তুমি অনুবাদ না করলে বাংলা সাহিত্য জগতের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে না। বরং লাভের পাল্লাই ভারী।       অত্যন্ত জঘন্য অনুবাদ পেরিয়ে এসে হারুকি মুরাকামির আত্মপ্রকাশকে কিভাবে নেব আমি? মুরাকামি এই উপন্যাসটি ল...

After the Quake

Image
  জীবনকে খুঁজি কখন? মানবিক দুর্বলতায় যখন আমরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি? চেনা মানুষ তখন অচেনা। এমনকি এই যে আমি এই, আমি তখন নিজেই নিজেকে বুঝতে পারি না। অচেনা লাগে। নিজেকে খুঁজতে থাকি। খুঁজতে খুঁজতে কি পড়ে থাকে? আমি নিজেই পড়ে থাকি। সেই আমি-টা যে ঠিক কি, তা মুখে বলা শক্ত। আপন অস্তিত্ব তখন নীরব নম্রতায় আমার হাত ধরে। আমরা দুজন তখন যেন মুখোমুখি। সময় পেরিয়ে যেন এক অনন্তকালের উঠানে এসে বসেছি। হারুকি মুরাকামির After the Quake গল্প সংকলনটা ১৯৯৫ সালে ঘটে যাওয়া কোবে ভূমিকম্পের পর জাপানি সমাজে ছড়িয়ে পড়া আবেগ ও মানসিক সঙ্কটের প্রতিফলনের ছাপ। ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, যার প্রভাব বড়ো মারাত্মক। বিশেষে মানুষের মনের মধ্যে। মুরাকামিকেও তা বিব্রত করেছিল বৈ কি। নাহলে এরকম একটা সংকন বের হয়? পাঁচ হাজারের বেশি মৃত্যু আর তিন লক্ষের বেশি মানুষের গৃহহীন হয়ে পড়া --- কী মারাত্মক সেই ভূমিকম্প --- এই একটি তথ্যেই যথেষ্ট। ছটি ছোট গল্প, যা প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকম্পকে কেন্দ্র না করলেও, ভূমিকম্পের প্রভাব গল্পগুলোর প্রতিটি স্তরে ছায়া ফেলে। এই ভূমিকম্পকে মানবিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এক এক করে...

Adolescence

Image
  ‘ইনসেল’ (Involuntary Celibate) সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছু জানা আছে? এই অর্থ অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্রহ্মচর্য পালনকারী।       ১৯৯০-এর দশকে একজন কানাডিয়ান নারী প্রথম ‘ইনসেল’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন এমন ব্যক্তিদের জন্য যারা প্রেম বা যৌন সম্পর্কে অক্ষমতার কারণে কষ্ট পাচ্ছেন। তবে, ২০১০-এর পর এটি একটি অনলাইন সম্প্রদায় ও আদর্শে পরিণত হয়, যা একসময় অত্যন্ত উগ্রবাদী ও নারীবিদ্বেষী ধারণা গ্রহণ করে। এই ‘নারীবিদ্বেষী ধারণা’-র এক টুকরো মর্মান্তিক প্রতিফলন – Adolescence Web Series.       এই ধারনাটির সুস্পষ্ট প্রমান পাওয়া যায় ঠিক তৃতীয় পর্বে এসে। Adolescence Web Series নিয়ে এত লোকে এত আলোচনা করছেন যে, আমার বোধহয় নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রত্যেকটা পর্বের দৃশ্যায়ন single shot-এ, প্রত্যেক পর্বের প্রায় প্রতিটি চরিত্রের নিপুণ অভিনয়, সোশ্যাল মিডিয়া বনাম বর্তমানের কিশোর সমাজ ইত্যাদি নিয়ে অনেক অনেক কথা বলা হয়ে গেছে। বলার কি কিছু বাকি আছে আমার? আছে। নেটফ্লিক্সের এই মিনি-সিরিজ 'Adolescence' ১৩ বছর বয়সী জেমি মিলারকে কেন্দ্র করে, যাকে তার এক সহপাঠীর হত্যার অভিয...

হেমলকের নিমন্ত্রণ

Image
  “আমি মানুষকে বলি, প্রশ্ন কর। তোমরা সবাই প্রশ্ন কর। পরীক্ষা কর। জীবনকে পরীক্ষা কর। বিনা প্রশ্নে কিচ্ছু মেনে নিও না। যে জীবন পরীক্ষিত, শুধু সে জীবনই বেঁচে থাকার উপযুক্ত। অপরীক্ষিত জীবন বেঁচে থাকার উপযুক্ত নয়। আমি মানুষের উপকার করছি। এথেন্সের উপকার করছি। সেজন্য আমার পুরস্কার পাওয়া উচিত। কোনো শাস্তি নয়।” পাশ্চাত্য দর্শনের মহামানব সক্রেটিস। দর্শন? হ্যাঁ হ্যাঁ দর্শন। যিনি দ্রষ্টা, এবং অপরকেও শক্তি দেন দৃষ্টির। কেমন সে দৃষ্টির? সম্যক দৃষ্টির। সে দৃষ্টি দিয়ে আমি দেখব আমার পৃথিবীকে। আমার ভেতরের এবং বাইরের পৃথিবীকে। আমি জানব, নিজেকে। বড়ো সুন্দর করে লিখছেন সুজন দেবনাথ, “ক্রিতো বললেন, আমাদের জন্য আর কোনো আদেশ আছে? সক্রেটিস বললেন, নতুন কিছু নয়। যা সব সময় বলি , নিজেকে জানো। নিজেকে জানতে পারলেই সুন্দর জীবন হবে।” সুজন দেবনাথের এই উপন্যাস কি তাহলে সক্রেটিসকে নিয়ে। উঁহু। এই উপন্যাসের নায়ক এথেন্স এবং তার স্বর্ণযুগ। সেই স্বর্ণযুগে কে নেই? লেখক এক জায়গায় তার কলমে পরিচয় করাচ্ছেন, “… এভাবে চিকিৎসাশাস্ত্র বের হলো দেবতার খপ্পর থেকে। বিজ্ঞানের সাথে মিশে গেল চিকিৎসা। বিজ্ঞানের জন্য যে রকম নতুন জিনি...

বেবি রেইনডিয়ার

Image
  রিচার্ড গাড --- এমন এক জীবন যাপন করেছেন, যা-র ওয়েব সিরিজ ভার্সানটা দেখার পর আমার মাথাটা এখনও টিসটিস করে যাচ্ছে। সিরিজটা দেখেছি সপ্তাহ হতে চলল, কিন্তু মাথার মধ্যে, বুকের মধ্যে এক-একটা জায়গা এমন আলুথালু হয়ে আছে, যে, সেই জায়গাটা গুছিয়ে নিয়ে ওঠা আমার এখনও হয়ে ওঠে নি।       বেবি রেইনডিয়ার --- ওয়েব সিরিজটার নাম। বিষয়বস্তু – মেল রে*।       পুরুষ নির্যাতন এখন আর নতুন কথা না। পুরুষ চিরকালই নির্যাতন হওয়ার কথা বলতে ভয় পায়। তার লজ্জা লাগে। এই বিষয়ে সে ঠিক সহজাত নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়ার কারণেই কি? অনেকদিন আগে একটা সিনেমা দেখেছিলাম, Section 377, তা নিয়ে আলোচনাও করেছিলাম। নারী নির্যাতনের আইন আজ নারীর অলঙ্কার হয়ে উঠছে। এমন অমোঘ অস্ত্র, যা, সত্যকে বিচ্যুত করছে।       কিছুদিন আগে IPC ধারা পরিবর্তন হয়ে এল BNS ধারা। সেখানে প্রসঙ্গাক্রমে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় ( JULY 14 ) , একটা কলামে দেখতে পাই লেখা আছে, “ The reality is even harder. The Baratiya Nyay Sanhita (BNS), which has replaced the IPC, no longer recognizes sexual...