Posts

Angry Young Men

Image
  দিদি’র বাড়ি কার্যগতিকে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম, ‘আমার বর’(*) নেই। তিনি দিদির সাথে তার ইচ্‌কুল থেকে এখনও ফেরেননি। জামাইবাবু বসেছিল, কিছু একটা দেখছিল বসে বসে। আমাকে দেখেই বলল, এসো আমার হাফ গার্লফ্রেন্ড। অনেকদিন দেখা নেই যে? ‘পথ দখল’ করছিলে বুঝি? আমি জামাইবাবুর পাশে বসে জিজ্ঞাসা করলাম, খালি বাজে কথা! কুট্টিকে (আমার বর) নিয়ে দিদি আসেনি এখনও? জামাইবাবু বললেন, না হে। স্কুলে গেছে। আসতে একটু দেরী হবে। ওখানে আজ প্রোগ্রাম হচ্ছে। জামাইবাবু আমার মাথার তালুতে নিজের হাতের চেটো চেপে ধরল। আমি বললাম, কি হচ্ছে এটা? দেখছি তোর মাথাটা কত্তো গরম থাকে। হ্যাঁ রে! তোর মাথা কি ঠান্ডা হবে না কখনও? এরকম রুদ্রানীই থাকবি? ফেসবুকে যা লিখছিস, লোকে তো বাড়ি এসে ঠেঙ্গিয়ে যাবে তোকে? একটু শান্ত কবে হবি মা? জামাইবাবু আমাকে অনেক ছোট্টোবেলা থেকে দেখে আসছে। ফলে তার কাছে আমি এখনও কচি খুকি-ই আছি। মতিগতিতে আমার সাথে তার ছেলের কোন পার্থক্য সে খুঁজে পায় না। তার মতে, আমরা দুটোই সমান লেভেলের গাধা প্রজাতির মনুষ্য। বোধবুদ্ধি কিচ্ছুই হয় নি, কেবল গায়ে-গতরেই বাড়ছি। আমি বললাম, তাই? তোমার কি মনে হয় যা লিখেছি ভুল লিখেছি? ...

তিলোত্তমা

Image
  আগের পোস্টে লিখেছিলাম, বিষন্ন লাগছে। আজও আমার সেই বিষন্নতা কাটে নি। কেন কাটে নি? এক এক করে গোছানো যাক --- ১) মেয়েরা নিরাপদ নয়। শক্তিশালী আইন তাদের পক্ষে যাওয়ার পরেও নয়। কথাটা আমার কাছে ইদানীং আংশিক সত্য লাগে। এলিট কিম্বা মধ্যবিত্ত লেভেলে যেভাবে পুরুষদের প্রতি অন্যায় সুবিধা মেয়েরা নিচ্ছেন, তাতে করে বলাই যায়, 'নিরাপদ' শব্দটা আপেক্ষিক। কিন্তু তবুও, সংখ্যাটা এতই বেশি যে, মেয়েদের সুরক্ষার জন্যে পথে নামাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। অন্তত একটা বড়ো মাপের আন্দোলনের প্রয়োজন ছিল। তা ঘটেছে। সেই আন্দোলনের ঢেউ কলকাতার রাস্তা থেকে বাংলাদেশ হয়ে লন্ডনে গিয়ে আছড়ে পড়েছে। আমি বিস্মিত, আনন্দিত, অভিভূত। মেয়েদের অধিকার আমরা মেয়েরা অর্জন করে নেব, নিজেদের ক্ষমতায়, এ আমি মনেপ্রাণে চাই। কিন্তু, বড়ো ধীরে আমরা এগোচ্ছি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে যেন, সময় বড়ো কম। এখনই যদি না তেড়েফুড়ে ওঠা যায়, তাহলে আর কখনই নয়। সেটা হবে কি? না কি, এক রাতের পথ দখলের পর আমরা আবার ফিরে যাবো আমাদের ড্রয়িংরুম ড্রামা-তে। অবস্থা কিন্তু সেদিকেই এগোচ্ছে। একমাস পরে এটা আর ঐতিহাসিক ঘটনা থাকবে না। ব্যর্থতার কারণ জানতে চেয়ে স্কুলে ইতিহাসে প্...

জাস্টিস

Image
  আমি ‘দখল’ শব্দটা বুঝি না। দখল আমার পছন্দের শব্দ না। দখল শব্দটার মধ্যে একটা ঔদ্ধত্য আছে। কিন্তু আমি প্রতিবাদ বুঝি। প্রতিরোধ বুঝি। ভাষায়, গানে, শিল্পে কিম্বা চরম সময়ে পথে নেমে। বাঁশবাগানের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া গ্রাম্য রাস্তাটা পূর্ণিমার আলোর জোয়ারে যখন ভেসে যায় জোনাকির সাথে ঝিঁঝিঁপোকার আবহে, আমি ভাই কিম্বা বাবার হাত ধরে হাঁটি, ভয়ে ভয়ে। সুন্দর ভয়ের আবহে ডুবে যায়। আমার চোখ মেলে পুর্ণিমা দেখা হয় না। থেকে থেকেই বাঁশবনের অন্ধকারে চোখ চলে যায়। আমি জানি, সুন্দরের উল্টোপিঠে বিকৃতি আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি একা হলেই সে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। আমি মশাল হাতে তার প্রতিরোধ করতে চাই। কিন্তু একা কি সম্ভব? না। শক্তি হাতে হাত রাখলে বাড়ে, এমনকি, যে শক্তি মাথা তুলে প্রতিরোধ গড়ছে, দূরাগত শব্দও তাকে শক্তি জোগায়। ভাষায়। আমি শব্দশক্তিকে অবলম্বন করি। সেই শক্তিপুঞ্জের কাছে আমার বার্তা দিই, যারা আজ রাতে মশাল নিয়ে বাঁশবাগানের অন্ধকারের বিকৃতিকে দূর করার জন্য পথে নামবে --- তোমাদের জন্য ভালোবাসা... আমি আজ তাদের সাথে সশরীরে থাকতে পারব না, আমার দুর্ভাগ্য। কিন্তু আমার সমস্ত মন-প্রাণ আজ তাদের সঙ্গেই থাকবে। ‘দ...

মোজেস

Image
  আব্রাহামিক রিলিজিয়ানে অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি সম্ভবত মোসেস। কারণ আব্রাহামের দর্শন থেকে মোট সাতটি ধর্ম সম্প্রদায় উৎপন্ন হয়েছে। তাঁর মধ্যে তিনটি প্রধান --- খ্রীষ্টান, ইহুদী এবং মুসলিম। বাকি চারটে হল বাহাই, সামারিটান, দ্রুজ এবং রাস্তাফারি। প্রধান তিনটে ধর্মের যে মূল ধর্মগ্রন্থ সেখানে মোসেস-এর উল্লেখ আছে, বিস্তারিতভাবে। এর মধ্যে ইহুদী এবং খ্রীষ্টধর্মে মোজেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।       গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বড়ো কারণ – The Promise Land. ঈশ্বর আব্রাহামকে কথা দিয়েছিলেন, তাঁর উত্তরপুরুষেরা এই ‘প্রমিস ল্যান্ড’-এর অধিকারী হবে। কিন্তু বাস্তবে, দেখা যায়, প্রায় চারশো বছর ধরে মিশরের অধীনে তাদের ক্রীতদাস থাকতে হয়। এই সময়ে আসেন মোজেস। ঈশ্বরের বার্তাবাহক হয়ে। মিশরের রাজপরিবারে তাঁর বড়ো হয়ে ওঠা, সেখান থেকে পলায়ন, সিনাই পর্বতে ঈশ্বরের মুখোমুখি হওয়া, মিশরে ফিরে এসে ইহুদিদের মিশর থেকে স্বাধীন করা, তারপর এক অজ্ঞাত ক্ষমতা প্রয়োগে রেড সী-র মধ্যে দিয়ে সোজা আবার সিনাই পর্বতে ফিরে আসা। এরপর তিনি আর বেশিদূর এগোতে পারেন নি তাঁর সম্প্রদায়কে নিয়ে। নেবো পর্বতের পাদদেশে তাঁর মৃত্যু হ...

ম্যালিস

Image
  একটা খুন হয়েছে প্রথম পর্বে - হিদাকা। দ্বিতীয় পর্বে গোয়েন্দা সমস্ত অ্যালিবাই যোগাড় করে ফেললেন – কিয়োচিরো কাগা। এবং তৃতীয় পর্বে খুনী তার খুন করা শুধু স্বীকার করে নিলেন, তা-ই নয়, খুনের কারণও বিস্তারিতভাবে লিখিত জানিয়ে দিলেন – নোনোগুচি। গল্প শেষ হল নবম পর্বে গিয়ে। ডিকেক্টিভ কাগা প্রকৃত রহস্য সমাধান করলেন অবশেষে। আমারও মাথা ঘুলিয়ে গিয়েছিল চতুর্থ পর্বের সময়। মনে হচ্ছিল লেখক হিগাশিনো এটা ঠিক কি লিখছেন? কেনই বা লিখছেন? তাহলে খুনী কি অন্য কেউ? আসল খুনীকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে? গতানুগতিক লেখায় যা হয় আর কি! না। খুনী আসলেই খুনী। ঘটনাটা এভাবে ভাবা যাক, বিষয়টা তারপর কি দাঁড়াচ্ছে বোঝার চেষ্টা করা যাবে - যে কোন খুনের একটা মোটিভ থাকে। সেই মোটিভকে তথ্যপ্রমাণ সমেত জোগাড় করা হলে তা অ্যালিবাই হিসাবে আদালতে পুলিশ জমা দেয়। অপরাধের শাস্তি নির্ভর করে খুনের সেই মোটিভটার ওপর। কিন্তু, যদি এমন হয়, খুনীর খুন করার উদ্দেশ্য হল খুনের মোটিভটাকেই ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করা? সে খুন করেছে তা সে অস্বীকার করছে না, কিন্তু খুনের ‘মোটিভ’ হল ‘মোটিভ’ আড়াল করা। মূল মোটিভের ধারেকাছে যেন পুলিশ আসতে না পারে। এই হল আ...

দ্য অ্যালকেমিস্ট

Image
  ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ আমার পড়া প্রথম ইংরাজি উপন্যাস। আমি তখন স্কুলে শাড়ি পরে যাওয়া আরম্ভ করেছি মাত্র। গডব্রাদারের দেওয়া প্রথম ইংরাজী উপন্যাস, পেঙ্গুইনের বই, কলেজ স্ট্রিট থেকে আনানো, মহার্ঘ। আমার সংগ্রহে সেটা আর নেই। কিন্তু এটুকু মনে আছে পচাত্তর পার্সেন্ট বইটার বিন্দুবিসর্গ বুঝতে পারি নি আমি। একটা বড়ো কারণ ভাষা। একটা বড়ো কারণ সেই ভাষায় প্রথম আমি এতোবড়ো একটা উপন্যাস পড়ছি । তখন পড়তে সময় লেগেছিল এক মাসের কিছু বেশি। আজ শেষ করতে আমার লাগল মাত্র তিনদিন। যদিও এবার বাংলায়।       সে সময়ে, বুঝি চাই না বুঝি, আমার মনে একটা দাগ কেটে গিয়েছিল বৈ কি। প্রথম পড়া এবং প্রথম শেষ করতে পারা ইংরাজী উপন্যাস। সেই পারাটা আমার জীবনে একটা ‘অ্যাচিভমেন্ট’ বলা যেতে পারে। আর প্রত্যেকের জীবনে প্রথম শেষ করা বইয়ের স্মৃতি বড়োই মধুর হয়। আপনারা নিজেদের প্রথম শেষ করা বইয়ের কথা ভাবুন। তা সে মাতৃভাষাতেই হোক, কিম্বা অন্য ভাষা।       তবুও, তার বাইরেও এমন একটা কিছু ছিল, বিষয়বস্তুর মধ্যে, যা আমাকে বার বার বইটার দিকে টেনে আনে। পরবর্তীকালে বেশ কয়েকবার বিচ্ছিন্নভাবে বইটা পড়লেও,...

গণেশ হালুই ও পূজাবার্ষিকী

Image
  প্রত্যাশামতোই আনন্দবাজার পত্রিকার পূজাবার্ষিকী সংখ্যা আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা শ্রাবণ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করে নি, মড়া আষাঢ়েই হয়েছে প্রকাশ, এবং গতবারের মতো, এবারেও প্রচ্ছদ বিতর্কে গত দুই দিন ধরে ফেসবুকে চোখ রাখা দায়। প্রসঙ্গত গতবারের ‘দেশ’ পত্রিকায় শ্রদ্ধেয় রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গা’ যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছিল, আমার বিশ্বাস, তা পত্রিকার বিক্রীটাকে বাড়িয়ে দেয়। এবং আমার আরও বিশ্বাস, এবারে আনন্দবাজার পত্রিকার পালা। কারণ, আনন্দবাজার পত্রিকা’র সে জৌলুস বহু বছর আগেই অস্তাচলে। এবং এবারের পালা শ্রদ্ধেয় গণেশ হালুই-এর। এই ছবি নিয়েও দুই ভাগ হয়ে গেছে। তৃতীয় একটা অদ্ভুত দলকে চোখে পড়ছে, তাদের কথা পরে আসছি। প্রথম ভাগ, অবশ্যই ছবির সমর্থনে কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, এই ছবির মাহাত্ম্য অসাধারণ পর্যায়ের। গণেশ হালুই নিজেই কিংবদন্তী। তিনি দুর্গা-ই বা কেন আঁকবেন? শিল্পে কি বিদ্রোহ হতে পারে না? নতুনত্ব আসতে পারে না? পূজোসংখ্যায় দুর্গা আঁকাটাকেই কি মাস্ট করতে হবে? গণেশ হালুই শারদীয়ার বন্দনা করেছেন, নিজের মতো করে, প্রচলিত প্রথায় নয়, এবং এ এক ধরনের বিদ্রোহ। প্রথাগত শারদ প্রচ্ছদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। শিল্...