Posts

উলটো পুরাণ

Image
সক্কালবেলা ঘুম ঘুম চোখে ব্যালকানীতে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের বাড়ী থেকে দূরে বড়ো রাস্তার মোড়টা চোখে পড়ে। মোড়ের মাথায় একটা মুদীর দোকান। সেখানে রোববারের সকালে টুকটাক ভীড়। বেশিরভাগ ভীড়ই পাড়ার মা-কাকীমা টাইপের মহিলাদের। তাদের আঁচলে কিম্বা হাতের মুঠোয় টাকার নোট কিম্বা কয়েন। রান্নার ইমার্জেন্সী প্রয়োজনের সম্বল এই মুদীর দোকান। এই মুদীর দোকানে ‘হরেকরমবা’ জিনিস পাওয়া যায়। বেলুন থেকে শুরু করে পোস্ত। সব পাওয়া যায় এমন দোকানের মালিকের প্রায় কুবেরের টাইপ সম্পত্তি। বাংলাদেশে না কি অনেক জমি-জিরেত ছিল। সেগুলো বেচে এখানে এসে, এবং তার বিদেশবাসী আইটি ছেলের কৃপায় বেশ বড় দোকান ফেঁদে বসেছে। আমি, নাম দিলাম, ধরুন, রাজা কুবেরের দোকান।       তো এই রাজা কুবেরের দোকানের ঠিক উল্টোদিকে জেমস বন্ড আর বাবা মুখোমুখি হয়ে কি যেন কথাবার্তা বলে চলছে।       আমি দেখলাম বটে, তেমন পাত্তা দিলাম না। জেমস বন্ডের কাছে কোন দেনা-পাওনা নেই। ফলে আমার কোন ভয় নেই। আমি আশেপাশে চোখ বোলালাম। লীনা কাকীমা অনেক সকালেই স্নান করে। এখন হিহি করে কাঁপতে কাঁপতে ছাদে কাপড় মেলছেন। কাকু সকালে ছাদে...

এক অযাচিত হত্যাকান্ডের সত্যিকথন

Image
  “I have no idea which words will come to me. I have no idea where my writing will take me. I would like to stall this moment and remain in a state of expectancy. Maybe I’m afraid that the act of writing will shatter this vision, just like sexual fantasies fade as soon as we have climaxed.” বইটা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, এমন একটা উপন্যাস লেখার কারণ কি? এই উপন্যাসে নিজের গর্ভপাতের গল্প বলেছেন অ্যানি। এ নিয়ে লেখা সহজ কথা নয়, জানি, কিন্তু ধরে বেঁধে লোককে এমন একটা লেখা পড়ানোরই বা কারণ কি? যে মহিলা কিছুদিন পরে বুকার পাবেন, তারপরে নোবেল, তিনি এমন একটা ঘটনাকে বেছে নেবেন কেন? এর একটা ইতিহাস আছে। ফ্রান্সের তৎকালীন ইতিহাস। কেমন ইতিহাস? ফ্রান্সে একসময় গর্ভপাত করালে কুড়ি বছরের জেল হত। তৎপর জার্মান অধিকৃত ফ্রান্সে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার প্রথা চালু হল, এবং, ইতিহাস বলছে, ১৯৪৩ সালের ৩০শে জুলাইতেও Marie-Louise Giraud -কে গিলোটিনে হত্যা করা হয়েছে গর্ভপাতের অপরাধে! তারপর আর কাউকে হত্যা না করা হলেও স্বাধীন ফ্রান্সে এই প্রথা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। মেয়েরা গর্ভপাত করানোর জন্যে ব্রিটেনে পাড়ি দিতে থা...

দোস্তোজী - এক সন্ধ্যাদীপের শিখা

Image
সমগ্র বঙ্গমুলুক যখন আর্জেন্টিনার পরাজয়ে মুহ্যমান, নব্বইটা অবিশ্বাস্য মুহূর্ত পার হচ্ছে দর্শকের অবিশ্বাস্য চোখের যন্ত্রনাময় আবেদনে, মফস্বলের পড়ন্ত শীতের এক সন্ধ্যায়, তখন, আমার হতভাগার সাথে আমি সিনেমা দেখছিলাম। সিনেমার নাম ‘দোস্তোজি’। আমার সিনেমাটা দেখতে দেখতে আমার নিজের, কিছুদিন আগের লেখা একটা সিনেমার রিভিউয়ের কতকগুলো কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। বাংলা সিনেমার জগতকে খানিকটা তুলোধনা করেই লিখেছিলাম, “ কিন্তু এই ধরনের একটু অন্যরকমের সিনেমা এবং সেই সাথে পাল্লা দিয়ে তার পরিবেশনা যেমন সেখানে হচ্ছে , টলিউড , বোধহয় , সেই তুলনায় , ততটাই পিছোচ্ছে । এমন সিনেমা দেখার আশা , অন্তত বাংলা সিনেমায় অদূর ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভবনা কম । ”       আজকে, সিনেমাটা দেখতে দেখতে, আমার মনে হচ্ছিল, খানিকটা হলেও, ভুল প্রমাণিত হয়েছি আমি। এ ধরনের সিনেমা দেখার জন্যে, সিনেমা হলের বাইরে, সারারাত লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, অন্তত একটা ফ্রন্ট রো সীটের টিকিটের অপেক্ষায়। অনেক সময় নিজে ভুল প্রমানিত হলে, বেশ ভালোই লাগে। আজ ছিল সেইরকম একটা দিন।       এ...

এক সন্ধ্যাঝড়ের মেঘ

Image
  Annie Ernaux -এর এই পর্বের কথনের নাম --- A Girl’s Story. এই কথন তার কোন আপনজনের কথন নয়। এ তার নিজের। তার বালিকাবেলার --- Summer of ’58 । তার আগে তার নিস্তরঙ্গ জীবনের কোন খোঁজ তিনি তেমন করে দেন নি। খানিকটা হয়তো রয়েছে The Years- এ। এই বইটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, আত্মনিমগ্ন, অন্তর্মূখী লেখিকা অপরকে, সমাজকে যতটা মন দিয়ে দেখেছেন, লিখেছেন, নিজের ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই গুলিয়েছেন। কীভাবে শুরু করবেন নিজের কথা? কিভাবে বলবেন নিজেকে? যে বালিকা উদগ্র যৌনতার আকাঙ্ক্ষায় আকূল, অথচ তার জীবনে তার মায়ের কড়া পাহারা, এবং সার্ত্রে-ব্যোয়েভেরার মতো কল্পনালতা ছাড়া কোন রক্তমাংসের মানুষ নেই! এমন বালিকার কথা, লিখতে গিয়ে, খেই হারিয়ে ফেললেন, ফলে, প্রথম থেকেই বইটার প্রাণশক্তি ধুকপুক করতে লাগল, গতি পেল, যখন নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা বলতে শুরু করেছেন, ততক্ষণে পাঠকের ধৈর্যের বাঁধে জোর ধাক্কা খেয়েছে এবং বইটার ঠিক এক-চতুর্থাংশ শেষ হয়ে গেছে। অথচ উপক্রমণিকা লিখছেন কি সাংঘাতিক! সেই কয়েকটা কথাই পড়লাম কতোবার! কি জানেন? একজন বালিকা যদি প্রেমে পড়ে, আর যদি সেই প্রেমই সমস্ত আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করার একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে তাহলে কি...

Downton Abbey: A New Era

Image
এভারেস্টে উঠে সেখান থেকে সারা দুনিয়াকে দেখা, অসাধারণ একটি দৃশ্য, সন্দেহ নেই। যদি, এমন হয়, আপনাকে হেলিকপ্টারে করে সেখানে কিছুক্ষণের জন্যে বেঞ্চে একা, কিম্বা সপরিবারে, বা সমভিব্যহারে বসিয়ে মনোরম দৃশ্যাবলী দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়, আপনি, চাই কি, লাখ দশেক কি বিশেক টাকা খরচ করেও দেখতে পারেন। কিন্তু যদি বায়না ধরেন, আপনি সেখানেই থেকে যাবেন কয়েকদিনের জন্য, তাহলে, আপনার সবেধন নীলমণি ওই প্রাণসত্ত্বাটিকে হয়তো একটি রাত্রের মধ্যেই খুইয়ে বসতে হবে। এভারেস্টে উঠলে নামতে হয়। তেমনই কোন একটা সিরিজ টাইপের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র শুরু হলে যথাসময়ে শেষ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। Downtown Abby পাঁচটি সিজনেই শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তারপর দর্শকের বিপুল চাহিদায় যখন ষষ্ঠ সিজন এল, দেখা গেল, সিরিজটি মার খাচ্ছে। মানে অনেকটাই টেনে বাড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ কি না, ঝোলে জল মেশানো হচ্ছে। তবুও তারা মরিয়া হয়েই ঘোষণা করেছিলেন, অদূর বা সুদূর ভবিষ্যতেও, এর আর কোন সিজন আসবে না। ইতি সমাপ্ত... কিন্তু, তা সত্ত্বেও, যখন আবার একে সিনেমায় রূপ দেওয়া হল, তখন বোঝা গেল, এবার 'অতি লোভে তাতী নষ্ট হবে। আগের সিনেমায় ব্রিটেনের রাণী...

Monica O My Darling

Image
  রাজকুমার রাও আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেতা। একটা সময় ওর অভিনয় দেখতে দেখতে, আমার মনে হয়েছিল, স্ক্রীনে যদি একবার সে ঢুকল, তো উল্টোদিকে যে বা যারাই থাক না কেন, ও স্ক্রীন নিয়ে চলে যাবে। HIT: The First Case দেখার পর মনে হয়েছিল, যদি সিনেমা তেমন মনোগ্রাহী না হয়েও থাকে, তাহলেও, রাজকুমারের জন্যেই সিনেমা দেখা সম্ভব।       আজ এই ভুল ভেঙে গেল।       ভুল ভাঙলেন রাধিকা আপ্টে।       Monica, O My Darling সিনেমায় রাধিকা ঢুকলেন যতক্ষণে, ততক্ষণে সিনেমা ৫৯ মিনিট হয়ে গেছে। কিন্তু তারপর থেকে যেকটা স্ক্রীন রাজকুমার রাওয়ের সাথে শেয়ার করেছেন, তার প্রায় প্রত্যেকটাই ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। নিয়ে যাওয়ার একটা বড়ো কারণ, এরকম রাধিকা আপ্টেকে আগে দেখি নি, অন্তত বলিউডে; আর আরেকটা বড়ো কারন, তার অনবদ্য কমিক সেন্স। ফলে শেষ একটি ঘন্টা তারা দুজনেই সিনেমাটাকে মাতিয়ে দিয়েছেন । এর সাথে যোগ্য সহায়তা করেছেন হুমা কুরেশি। তবে, এর সাথে, আমার কিন্তু, বেশ ভালো লেগেছে সেকন্দর খের-কেও ।       ঘটনাটা এগিয়েছে একের পর এক খুনের সাথে সা...

আমি আশাবরী

Image
  মনে করুন, ঘোর গরম । চৈত্রের দুপুরের কাঠফাটা রোদ। দোতলা বাড়ীর নীচের তলাটিতে আপনি আছেন। পাথরের মেঝে। কাঁচের জানালাগুলো শুধু বন্ধই নয়, ভারী, মোটা পর্দা দেওয়া। হাল্কা এসি চলছে। আপনি বিছানার এক কোনায় বালিশ দিয়েছেন হেলান দেওয়ার জন্যে । আপনার ঘরোয়া পোষাকটা একটু ঢিলেঢালা করে দিয়েছেন। ভারী লাঞ্চ শেষ। এবার একটু জোয়ান খেয়ে একটা পর্দা এমনভাবে অল্প ফাঁক করলেন, যে, যে তীব্র আলোটুকু মৃদু হয়ে ঢুকছে তাতে করে বালিশ পিঠে আধশোয়া হয়ে বই পড়া যাবে আয়াসে, যা আপনার দুপুরের একমাত্র প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ । এবার বইটা নিয়ে নিশ্চিন্তে পড়তে শুরু করুন---       ঠিক এমনভাবেই পড়ার বই ‘আমি আশাবরী’। মজার কথা, বইয়ের প্রচ্ছদেও ঠিক এমনই একটি ছবি আছে, তবে তা চেয়ারে বসে। তবে আমার ক্ষেত্রে বিছানায় একটু এলিয়ে না হলে এই উপন্যাসটা পড়ার সুখটা অসম্পূর্ণ মনে হল। প্রসঙ্গত, প্রচ্ছদ আমার একদমই পছন্দ হয় নি।       তা এই বই এমন এলিয়ে যখন পড়বেন, তখন তাতে কি পাবেন? পাবেন একটি অগ্রগণ্য পাবলিশার্সের লড়াই, যে লড়াই এখনকার পাবলিশার্সরা লড়ছে নিজেদের মধ্যে (বোধহয়); পাবেন স্বামী-স্ত্রীর ...