Posts

পঞ্চায়েত দুই

Image
  ওয়েব সিরিজ আমি একটু কমই দেখি। এমন নয় যে আমার ভাল লাগে না। কিন্তু আমার বেশি ভাল লাগে সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত ওয়েব সিরিজ। ভূত, খুন-খারাপি, থ্রিলার --- এগুলো আমাকে কোথাও ক্লান্ত করে। যে সিনেমায় মস্তিষ্কের খাদ্য নেই সেই সিনেমা আমার কাছে একটু কম গুরুত্ব পায়। পঞ্চায়েতের প্রথম সিজন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। দ্বিতীয় সিজনের শেষ পর্বের শেষ আধাঘন্টার আগে অবধি সেই মুগ্ধতা বজায় রইল। পঞ্চায়েতের তৃতীয় সিজনের অপেক্ষায় রইলাম। কবে আসবে, কে জানে। কিন্তু আসুক, আমি হৃদয় থেকে চাই।   ভারতের একটি সাধারন গ্রামের সহজ সরল দৈনন্দিন গল্পগাথা নিয়ে ‘পঞ্চায়েত’। অহেতুক জটিলতা, বা রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বা ইন্টালেকচুয়াল কথাবার্তা দিয়ে ভারগ্রস্থ করে নি বলেই এত সুন্দর হয়তো বা। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেকার মন্দ - ভালোর টানাপোড়েনকে এত সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে, যে আমার এক-একসময় মনে হয়েছে, এতো আমার পাশের বাড়িরই গল্প বলছে। তা বলে কি আর মন্দ কিছু নেই? আছে। একদম শেষে অতটা ইমোশনাল ড্রামা না ঢুকালেই হয়তো ভাল ছিল। কিন্তু তাতে কি আসে যায়? কোন কিছুই তো আর পার্ফেক্ট নয়। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, খুব ভাল কিছু দেখলে তার মধ্যেকা...

রবীন্দ্রনাথের গীতা

Image
আমার রবীন্দ্রনাথ - পর্ব ৫ কিছু কিছু লিজেন্ড লেখকের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন তার কোন একটি লেখা নিয়ে তার জীবদ্দশাতেই শোরগোল পড়ে যায়। সে প্রায় পাগলপারা অবস্থা হয় বলতে গেলে। শিল্পী নিজেও এমন হতভম্ব বা অভিভূত হয়ে যান যে তাকেও সময়বিশেষে সকলের সামনে তার সেই সৃষ্টি নিয়ে মুখ খুলতে হয়। রবীন্দ্রনাথের জীবনে এমন একটি কবিতা হল, সোনার তরী।          বর্ষার পটভূমিকায় লেখা এই কবিতাটি কবি লিখলেন ফাল্গুনের মোহময়ী প্রাকৃতিক রূপসুধাকে উপেক্ষা করে, 1892 সালে। সে কবিতা ছাপা হল এরও বছরখানেক পরে সাধনা পত্রিকার আষাঢ় সংখ্যায়, 1893 সালে। সে কবিতাকে কেন্দ্র করে বঙ্গসমাজে শোরগোল পরে গেল আরোও চোদ্দ বছর পরে 1907 সালের আশেপাশে। এবং অবশেষে রবীন্দ্রনাথ 1908 সালে বঙ্গসমাজের উন্মত্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাঝেই 'শান্তিনিকেতন' নামক প্রবন্ধগুচ্ছে ‘তরী বোঝাই’ নামে একটি প্রবন্ধে উক্ত কবিতাটিকে ঘিরে সকল ভালো-মন্দ সমালোচনার জবাব দেন।          ‘তরী বোঝাই’ প্রবন্ধটি পড়লেই বোঝা যায়, কবিতাটি, রবীন্দ্রনাথের ভাষ্য অনুসারে, শ্রীমদ্ভাগবতগীতা’র কর্মযোগ পর্যায়ের ম...

সময় হল

Image
সময় হল, এবার ফেরো... কে ডাকে? জানি না। সন্ধ্যের রক্তিম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমি সে ডাক শুনতে পাই, সে ডাক কি আমার ভিতরের, আমি জানি না, কেবল জানি, মধ্যরাতের তারাভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেও কখনও কখনও আমি সে ডাক শুনতে পাই, যে ডেকে যায় থেকে থেকে এমনভাবে, সে ভিতরে, না কি বাইরে? এই যে সন্ধ্যেবেলায় আকাশটা এমন খুনোখুনি রকমের লাল হয়ে আছে, এই যে আকাশের ক্যানভাস যেন কার হাতের ছোঁয়ায় মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে, আর পরক্ষণেই সে এমনভাবে নতুন ছবি তৈরী করছে, যেন মনে হচ্ছে একটা পাঁচ বছরের বাচ্চা হাতে তুলি ধরে হাসতে হাসতে যা ইচ্ছে রঙ ঢালছে আলগোছে, আর তার খিলখিলিয়ে হাসি আমি যেন শুনতে পাচ্ছি, আমি যেন বুঝতে পাচ্ছি, আবার পরক্ষণেই সেই ক্যানভাসকে এক মুহূর্তে বদলে দিচ্ছে সে, আবার আরেক রঙের খেলায় তাকে পেয়ে বসছে, খিলিখিলিয়ে হাসতে হাসতে ছবির পর ছবি বদলে যাচ্ছে, যে ছবি আর ফিরে আসবে না কোনদিন, মুহূর্তে যার অস্তিত্ব, মুহূর্তে যার লয়, এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আর কোথাও এমন ছবি সে আঁকবে না, তার সৃষ্টিতেই সুখ, লয়ে আনন্দ। সেই আনন্দ প্রত্যক্ষ করছে প্রকৃতি, আর আস্তে আস্তে নিস্তব্ধ হয়ে আসছে আমার চারপা...

সৌরভিত পঞ্চাশ

Image
“আপনি ক্রিকেট খেলতে পারেন, ফুটবল খেলতে পারেন। দশটা-পাঁচটার চাকরিও করতে পারেন। কিন্তু বলুন তো, বাঙালি হয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রভাব পুরোপুরি উপেক্ষা করে যেতে পেরেছেন কখনও? জীবনের বিপদসংকুল বাঁকে, অসম্ভব চাপের কাছে নতিস্বীকারের প্রাক্‌-মুহূর্তে, মনে হয়নি সৌরভের মতো আমিও পালটা দিই? মনে হয়নি, ছেলেটা তো আমাদের মতোই রক্তমাংসের। কিন্তু তবু ছেলেটা কখনও হারতে শেখেনি।”   ‘দাদার কীর্তি’ শিরোনামে প্রতিদিনের রোববার ম্যাগাজিনটা যখন শেষ করলাম তখনও ঝুলন গোস্বামীর এই কথাগুলো মনের মধ্যে অনুরণিত হচ্ছিল। সত্যিই কি তাই নয়? তাবৎ বাঙালী সমাজের এই আইকনকে অনেকে অনেক কারনে পছন্দ করেন। বাংলার বাইরের বেশিরভাগ মানুষই তাকে মনে রেখেছেন একজন কিংবদন্তী অধিনায়ক আর একজন মাথা উঁচু করে লড়াকু প্লেয়ারকে। তার ঝুলিতে খুব বেশি বলার মত কোন রেকর্ড নেই, কিন্তু তবুও বেশ ঈর্ষনীয় ক্যারিয়ার। কিন্তু বাঙালীর তাকে মনে রাখা উচিত একজন হার না মানা, একজন জেদী, তুমুল আত্মবিশ্বাসসম্পন্ন মানুষ হিসাবে। দেখুন, আজ বাদে কাল হয়তো খেলোয়াড় হিসাবে তাকে ততটা মনে রাখবে না। কেননা T20 –র যুগে ভিভ রিচার্ডস বা ডন ব্রাডম্যান আস্তে আস্তে চাপা পড়ে...

চমকে দামিনী, দমকে চাপদাড়ি, গমকে 5.1

Image
কাল রাত্রে ভাই চুপিচুপি কিছু একটা বড়োসড়ো বাক্স নিয়ে ঘরে ঢুকেছিল, খেয়াল করেছি, পাত্তা দিই নি। ভাইয়ের সাথে আমার সাপে-নেউলে সম্পর্ক। ফলে আমার কি দায় পড়েছে বাবু রাত-দুপুরে কি নিয়ে ঘরে ঢুকলেন এসব নিয়ে পাত্তা দেওয়ার? মায়ের পেয়ারের ছেলে, তিনি বুঝবেন। আমি আগ বাড়িয়ে ঝ্যাটার বাড়ি খেয়ে মরি আর কি! আমার আর ভাইয়ের ঘর পাশাপাশি। রাত-দুপুরে অনেকক্ষন ধরে ঘুটুর ঘাটুর আওয়াজ পেয়েছি। কৌতুহল হয়েছে, ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দেখেছি দরজা বন্ধ। এতএব কৌতুহল দমন করেছি। ঘরে এসে শুয়ে পড়েছি।   সকালে ভাইয়ের চওড়া হাসি, তোকে একটা জিনিস দেখাবো। হ্যাঁ হ্যাঁ। দেখব বৈ কি! দুপুরে খেয়ে আসিস আমার ঘরে। আজ তোর কাজ নেই তো? না, বলে একটু আশঙ্কিত হলাম অবশ্য। তবুও নতুন কিছু দেখা কি ছাড়া যায়?   দুপুরে ঘরে ঢুকেই তাজ্জব। ভাই 5.1 লাগিয়েছে সারা ঘরের ছাদ জুড়ে ! বাবা টাকা দিল!!!!!! আর আমি হাত পাতলেই... আরে এরকম করে আছিস কেন মুখটা? দ্যাখ না কম্পিউটারের সাথে লাগিয়ে দিয়েছি। হেব্বি সিনেমা দেখতে পারবি। তবে প্রথম চয়েস আমার... আমি এককথায় রাজী। তারপর আমাজন প্রাইম খুলতেই... ঈ ঈ ঈ ঈ ঈ... আমি দেখব না..., বলে দৌড়ে ঘর থেকে বে...

একটি রক্তিম আলেখ্য

Image
উপন্যাসটা একটি মার্ডার মিসট্রি। সূচনায় একটি খুন, মধ্যপর্বে আরেকটি খুন। উপন্যাসের বিষয়ঃ চিত্রশিল্পে পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যের দ্বন্দ্ব। স্থানঃ ইস্তাম্বুল। গল্প শুরুই হচ্ছে, যিনি মৃত তিনি কুয়োর মধ্যে পড়ে থাকা অবস্থা থেকে কথা বলা শুরু করা থেকে। এই উপন্যাস ৫৯ পর্বের। প্রত্যেক পর্বে আলাদা আলাদা করে চরিত্রেরা এসে কথা বলছে, মৃত কথা বলছে, চিত্র কথা বলছে, শয়তান কথা বলছে, মৃত্যুচেতনা থেকে মূমুর্ষু  কথা বলছে, প্রেমিকা কথা বলছে, এমনকি খুনী নিজেও কথা বলছে, এবং এইভাবেই ঘটনার জাল বোনা হচ্ছে। এক-এক সময় রুদ্ধশ্বাসে ঘটনার গতিপ্রকৃতি মোড় নিচ্ছে অভিনব দিকে। চরিত্রগুলোর একে অপরের সাথে চিন্তাধারার সংঘর্ষে যে টানটান উত্তেজনা তৈরী হচ্ছে, তা বইয়ের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকছে। লেখাটার সৌন্দর্য এটাই যে, যখন খুনী নিজে কথা বলছে, এমনকি দ্বিতীয় খুনটা করার বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছে নিজের জবানবন্দীতে তখনও আপনি জানতে পারবেন না আসল খুনী কে? আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে ৫৮ পর্ব পর্যন্ত। কিন্তু এটাই কি সেই বই, যার জন্যে ওরহান পামুককে নোবেল দেওয়া হয়েছিল? হ্যাঁ, এবং না।   ওরহান পামুক গল্পের জাল বুনছেন ১৫৯১ সালের অটোমান ...

দিকশূন্যপুরের স্বপ্ন

Image
মাঝে মাঝে আমি একটা স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নটা এতবার দেখেছি, এতবার হয়তো দেখবও যে স্বপ্ন আর সত্যি মাঝে মাঝে এক হয়ে যাবে। আমি বিছানায় উঠে বসে চোখ মেলে বোঝার চেষ্টা করব --- আমি কে? আমি কোথায়?   স্বপ্নটা বলি---   আমি একটা মেলার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। নিবিড় ঘন অন্ধকার বনের সামনে এক মেলা। কত হই-হুল্লোড়, কত ভীড়, কত আনন্দ। মেলার মধ্যে কত জানা-অজানা পসরা। মেলার মানুষেরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। আমি দূর থেকে দেখছি। তাদের কথা শুনতে পারছি না। অথচ অনুভব করছি, সেই জনসমুদ্রের কলরোল। মেলায় অনেক কিছু আছে। আমার ছোটবেলার রান্নাবাটি ওই মেলার কোন একটা দোকানে রয়েছে। আমায় কিনতেই হবে। কিম্বা আমার ভাইয়ের প্রিয় সেই কাঠের গাড়ীটা, যার চাকাগুলো ক্যারামের গুটি দিয়ে বানানো। আমায় কিনতে হবে। অথবা গামলার জলে ছেড়ে দেওয়া সেই ভটভটিটা, যে গামলার পাড় বেয়ে শব্দ করে করে ঘুরেই যাচ্ছে, ঘুরেই যাচ্ছে। তার থামার যো নেই। পাড়ে নিজেকে বেঁধে রেখে একটু বিশ্রাম নেওয়ার জো নেই। সে কেবল সন্ধ্যেবেলা থেকে অন্তহীনভাবে পাড় ধরে ধরে ঘুরেই চলেছে। তাকে থামানোর জন্যে আমাকে ভটভটিটা কিনতে হবেই। সেই গ্যাসলাইটের আলো মনে পড়ে। হ্যাজাক বাতি। বিশ্ব...