Posts

প্রজ্জ্বলিত মনের সন্ধানে

Image
  ‘Dream, dream, dream. Dream transforms into thoughts. Thoughts result in actions.’   যিনি লিখছেন, তিনি ভারতের একজন মহান মানুষ। তাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তাকে আমরা ভালোবাসি। তাকে আমরা মহান মানুষ হিসাবে জানি। আমরা তাকে চিনি না না। কিন্তু আমরা এটুকু জানি, স্বাধীন ভারতের উন্নতির জন্যে যে কয়েকজন নিবেদিত প্রাণ জন্মেছেন, যাদের কথা আবালবৃদ্ধবণিতা শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে, তার মধ্যে ইনি একজন। কারণ ইনি, আমাদের জন্যে, আমাদের কথা ভেবে, কাউকে অযথা দায়ী না করে, অযথা দুষিত শব্দ প্রয়োগ না করে বলতে পারেন, “The upshot is that India is poor as a nation in spite of its enormous wealth because it does not focus on value addition, be it in mineral or biodiversity products or even grain or fish.” এ পি জে আবদুল কালাম অনেক বড়ো বিজ্ঞানী। আমার কাছে এখন থেকে ‘বিজ্ঞানী’ শব্দটা খুব ছোট লাগছে। Ignited Minds বইটা শেষ করার পর থেকে মনে হচ্ছে এমন একজন মানুষকে আমরা পেয়েছি, যিনি তার মৃত্যুর সাত বছর পরেও আমার কাঁধে হাত রেখে বলতে পারেন, স্বপ্ন দেখতে এবং স্বপ্ন দেখাতে ভুলো না। কিভাবে? “ Start by risking yo...

অন্ধকারের গান

Image
চারদিকে কি যেন একটা হচ্ছে ঠিক... ঠাহর করতে পারছি না যেন। যে বলছে, আমি তোমায় ভালোবাসি               সে ডাঙায় তোলা চিংড়ি মাছের মতো খাবি খেতে খেতে বলছে কথাটা যে বলছে, তোমায় ছাড়া বাঁচব না              তার একটা চোখ অন্ধকারের পলাতক গলিপথের দিকে তাকিয়ে কিম্বা, যিনি বলছেন, ভগবান আমি তোমার                           তিনি একহাত দিয়ে কুশাসনটা চেপে ধরে রেখেছেন প্রাণপণে। চারদিকে কি যেন একটা হচ্ছে ঠিক... ঠাহর করতে পারছি না কেন? দূরের কৃষ্ণবর্ণ জলভরা মেঘ আমায় ডাকে।                                        বলে, আয় তুই হবি আমার ঝড়ের পাখি, তোকে শেখাব ঝড়ের গান               অথচ কাছে গেলেই                                দেখি আমার ডানাদুটোকে পিষে দেবে বলে সে প্রাণপণে...

প্রধন্যা বনাম গোধন্যা

Image
আমাদের বাড়ীর ঠিকানায় লিখতে হয় গ্রামের নাম, তারপর পোস্ট অফিসের নাম। আমি কিন্তু গ্রাম মানি না। যে গ্রামে ‘ সুগার এন্ড স্পাইস ’ আর ‘ মিও আমোর ’ -এর দোকান আছে সেটা গ্রাম হতে পারে না। সেটা একটা মফস্বল। এই মফস্বলে আমার বাড়ী। আমার বাড়ী থেকে দুটো বাড়ীর পরেই অলোক কাকুর বাড়ী। সম্প্রতি তার দ্বিতীয়বার করোনা হয়েছে। ফলে আমি অলোক কাকুর বাড়ী বেশ কয়েকদিন যাই নি। সুস্থ হওয়ার পর কাল তাকে দেখতে গেলাম। দরজায় কাকীমা আমাকে দেখেই বললেন, তোর ওপর বেজায় চটে আছেন কিন্তু? “কেন?” কাকীমার হাতে টিফিন ক্যারিয়ারটা দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করলাম। “জানি না, একবার তোর কথা বলেছিলাম। এমন মুখ ঝামটা মনে হল ভীষণ ক্ষেপেছে । ”   এই অলোক কাকুর বাড়ি আমি বোধবুদ্ধি হওয়ার আগে থেকেই যাতায়াত করি। অনেকদিন ওনার কাধে করে বাজার গেছি, কাধে চড়েই বাজার থেকে ফেরত এসেছি। আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি রোগা লম্বা অলোক কাকুর সব চুল সাদা। বাবার থেকে বয়সে অনেক বড়ো, তবুও তাকে ‘কাকু’ বলেই ডাকি। একসময়ে নকশাল করতেন। তারপর বামপন্থা অবলম্বন করলেন। তারপর সবকিছু ছেড়েছুড়ে কাজে মন দিলেন। সংসারে মন দিলেন। তার এক ছেলে আছে, আমেরিকায় সেটলড্‌ । বুড়ো-বুড়...

অনুবাদ পত্রিকা এপ্রিল ২০২২

Image
  ম্যাগাজিনের শুরুতেই একটা কথা লেখা আছে, “১৯৭৫ থেকে অনুবাদ-সাহিত্যের একমাত্র বাংলা পত্রিকা” আমি ঝটকা খেলাম। এত বছর ধরে একটা পত্রিকা চলছে, অথচ এই পত্রিকাটা নিয়ে তেমন খবরাখবর বা আলোচনা আমার চোখে পড়ে নি। যাই হোক, পাতা উল্টালাম ‘অর্ধেক আকাশ’-এর। বিদেশী এবং আঞ্চলিক লেখক-লেখিকাদের লেখার অনুবাদ নিয়ে এই পত্রিকাটি তৈরী। আর অনুবাদ কি সব! কৃষ্ণা সোবতি, সুধা আরোরা বা বিজয়দান ডেঠার অনুবাদ রীতিমতো চোখে জল এনে দেয়। অর্পিতা মণ্ডল, মিতা দাস কিম্বা অর্চন চক্রবর্তীর অনুবাদ সত্যিই অনবদ্য। পার্ল এস বাকের একটিই উপন্যাস আমার পড়া। এবার পড়লাম একটি গল্প। অসাধারণ। অনুবাদ যথেষ্ট যত্ন নিয়ে করা। রাধিকারঞ্জন চক্রবর্তীর মতো অনুবাদক থাকলে আর ভাবনা কি। পাশাপাশি কবিতা আর প্রবন্ধের ক্ষেত্রটিও বেশ ভালো। যদিও আমাকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে নন্দিতা ভট্টাচার্যের সাক্ষাৎকার। আমি ওনার নাম আগে শুনিনি। এই ম্যাগাজিনের দৌলতে ওনার নাম জানতে পারাটা একটা বড়ো প্রাপ্তি বৈ কি।      দুটো জায়গা নিয়ে আমার বক্তব্য আছে। প্রথম, বানান ভুল। চোখে পড়ার মতো। কাগজের কোয়ালিটি ভালো না হলেও তা হয়তো কোথাও মানিয়ে নেওয়া যায়...

পেয়ালায় তুফান

Image
মানুষ কি হয়েছে, এটা বড় কথা, না কি হতে চেয়েছিল, সেটা বড়ো কথা? হতে চাওয়া আর হওয়ার মধ্যে যে লক্ষ-যোজন দূরত্ব আছে, তারই বা হিসাব কে রাখে? সংসার আর কর্ম --- এই দুটোর মধ্যে নিহিত থাকে এর উত্তর। যে উত্তর বেশিরভাগ মানুষই দিতে পারে না। যে মানুষের মধ্যে আছে শিল্পসত্ত্বা, যার প্রকাশেই সে নিজেকে সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত ভাবে, সে কি সংসারের সাধারণ দৈনন্দিন কাজে-কর্মে নিজেকে প্রকাশিত করার আনন্দে মেতে থাকতে পারে? না মনে হয়। তাকে বারবার ফিরে যেতে হবে তার শিল্পসত্ত্বার আঙ্গিনায়। আর এখানেই সংঘর্ষ। অবধারিত। অবশ্যম্ভাবি। সেখান থেকেই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কি চায় --- এই মুহূর্তে। ভারতীয় সমাজে ছেলেদের পক্ষে হয়তো বা কোথাও এই দুটোকে একসঙ্গে নিয়ে চলা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু মেয়েদের পক্ষে? ভীষণ কঠিন। তবুও অনেক মেয়ে চেষ্টা চালিয়ে যায়। কেউ এগোতে পারে। কেউ পিছিয়ে যায়। কেউ থেমে যায়। ‘ভালোবাসা’ শব্দটা ভুল-ভুলাইয়ার মতো। এমন এক গোলকধাঁধা, যা দিয়ে বেঁধে ফেলা যায় মানুষের চেতনাকে, মানুষের কর্মক্ষমতাকে। এই একটা শব্দে একজন লেখিকাকে অবশেষে তার লেখার থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয় তার প্রেমকে। ফলে শিল্পসত্ত্বার ওপ...

রামমোহন রায় --- এক বিষাদগাথা

Image
১ রামমোহন রায়, রাজা রামমোহন রায়ের ২৫০তম আবির্ভাব দিবস পালন হচ্ছে ফেসবুকে ফেসবুকে, অথচ আমি তার সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানি না। তাই তার জন্মদিনে নীরব ছিলাম। কেবল জানি, তিনি ‘নবজাগরণের পথিকৃৎ’, আর সতীদাহ প্রথা নিবারণের হোতা।      আমার বাংলা স্যার আমাদের মেয়েদের বলতেন, কী রোজ ঠাকুর পূজো করিস? তোদের উচিৎ রামমোহন আর বিদ্যাসাগরের একটা করে ছবি সিংহাসনে বসিয়ে পূজো করা। ওরা না থাকলে তোরা আজ এই জায়গায় এসে পৌছাতিস না। স্যার এসব বলতেন, আর আমরা টপ-জিন্স, প্যান্ট-শার্ট, সালোয়ার-কামিজ পরা বালিকারা হাতে পেন নিয়ে অপেক্ষা করতাম নোট্‌সের জন্য।      অথচ কথাটা নির্জলা সত্যি। কিন্তু, তবুও, সত্যিই কি সত্যি? রামমোহন সতীদাহ বিল পাস করালেন আর পরদিন থেকেই তা বন্ধ হয়ে গেল? মেয়েরা তাদের যথাযোগ্য সন্মান পেতে শুরু করল? না তো। তবে একসময় বন্ধ হল। আর এরপরেই এমন এক সমস্যার উদ্ভব হল, যা জীবিতকালে রামমোহন ভাবতে পারেন নি, পরবর্তীকালে বিদ্যাসাগর প্রাণপণ সেই বিপদকে আটকানোর চেষ্টা করলেন, কিছুটা সাফল্য পেলেও আজও অনেক মেয়ে অন্ধকারে আছে। সে অন্য আলোচনা। পরে আসছি। আমার প্রথম প্রশ্ন এই নবজাগরণ ক...

একটা প্রশ্ন

Image
  " মিসি , এবার থেকে কি তুই আমাকে একটু কম কম ভালোবাসবি ?"   মাসী > মাসসি > মসসি >   মিসশি > মিসি আমার নামের অপিনিহিতি , না কি অভিশ্রুতি ? কে জানে। যাই হোক , আমি ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর মিসশি বা মিসি ওরফে মিস এলিজাবেথ স্বোয়ান। ক্যাপ্টেনের বয়স সাকুল্যে তিন বছর। সে একটা টুপীর মাথায় ‘কাটাকুটি’ চিহ্ন এঁকে সেটাকে পড়ে ঘুরে বেড়ায়। আমার ঘরে এলে আমার ওড়না নিয়ে তার একপ্রান্ত প্রথমে জানলার রেলিং-এ বাঁধে , তারপর আরেকপ্রান্ত ধরে ঝোলাঝুলি শুরু করে দেয়। ঝুলে ঝুলে একবার সোফায় , আর একবার বিছানায় --- এভাবে ঝুল খেয়ে খেয়ে সে নাকি জাহাজ থেকে জাহাজান্তরে যায়। আমাকে অনেকবার আহ্বান করেছিল মিস এলিজাবেথ স্বোয়ানের মতো তার সাথে ঘরময় এই অকূল দরিয়ায় ভেসে পড়ার জন্যে। ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও বয়সের ভারে সাহস পাই নি। ক্যাপ্টেন খুবই বুদ্ধিমান। সে আমার হতভাগাকে একবার দেখেছিল রাস্তায়। একটা চকোলেট আদায় করে নিয়েছিল। সেটা খেতে খেতে ফেরার পথে আমায় জিজ্ঞাসা করেছিল , মিসশি , ও কি তোর উইল টার্নার ? আমাদের বাড়ীতে থাকলে ক্যাপ্টেন আমাকে নিয়ে সমুদ্র অভিযানে বেরোয় দুপুরবেলা। আমাদের ডাইনিং রুমের ফ...