Posts

এক-একটা মানুষ

Image
  এক-একটা মানুষ কী প্রাণপণে নিজেকে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে। সে বলতে চায়, আমি আছি। এই বিরাট পৃথিবীতে আমারও একটা মূল্য আছে। ওগো, তোমরা কে কোথায় আছো? আমাকে দেখো। আমাকে সেই মূল্য দাও। প্লীস... এর মধ্যে কোন দোষ নেই। নেটিজেন প্রমাণ করে দিয়েছে সবার সামনে আসা, দশজনের একজন হওয়া জীবনের লক্ষ্য। ছোটবেলায় পড়েছি, মানুষ হও, দশজনের একজন হও, জন্মেছ যখন তখন একটা দাগ রেখে যাও। প্রশ্ন হল, দশজনের একজন হতে গেলে, বাকি নয়জনের কি হবে? তারাও তো কোথাও না কোথাও দশজনের একজন হতে চাইছে। কবি, লেখক, আর্টিস্ট, ফটোগ্রাফার, অভিনেতা, গায়ক, নৃত্যশিল্পী --- সবাই বলতে চাইছে, আমাকে দেখুন, আমাকে জানুন। এরজন্যে তারা অনেকটা সময় দেয় ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রেখে। চ্যানেল তৈরী করে। দল বেধে একে অন্যের পিঠ চাপড়ে দিয়ে। পাওলো কোয়েলহোর ভাষায় --- Favor Bank ‘কিন্তু’ --- তবুও হয় না। রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন, তাই তিনি বলতে পেরেছিলেন,   “জীবনের কোন-একটি ফলবান্ খন্ডকে যদি জয় করে থাকি পরম দু:খে তবে দিয়ো তোমার মাটির ফোঁটার একটি তিলক আমার কপালে; সে চিহ্ন যাবে মিলিয়ে যে রাত্রে সকল চিহ্ন পরম অচিনের মধ্যে যায় মিশে।।” (পৃথি...

গাঁওবুড়ো

Image
  পুষ্প ফুটিলে কে গন্ধ ছড়ায় মেঘে ভর করি কে বরষে জল? পুষ্প ফুটিলে সে গন্ধ ছড়ায় মেঘে ভর করি সে বরষে জল। গাঁওবুড়ো খোঁজে বড়োবাবুকে। জীবন যেমন খোঁজে জীবনের অধীশ্বরকে। গাঁওবুড়োর চলার পথে মানুষ, সমাজ, দীন-দুঃখী, আর্ত --- সবাই পথ বলে দেয়। কিন্তু যেতে চায় না। কেউ চেনে না বড়বাবুকে। কিন্তু মনে আশা, যদি তাদের ইচ্ছেপূরণ হয়! এই মন্দ-ভালোর দ্বন্দ্বে তারা রয়ে যায় পথের মাঝে, পথেই ফেলে রাখে জীবন জিজ্ঞাসা। সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে যায় গাঁওবুড়ো। করুণাভরা হৃদয় নিয়ে। যেভাবে এগিয়ে চলে মানুষ, শিশুতীর্থের পথে। কিন্তু এরপরেও বাস্তব আছে একটা। মানুষের মনে যার সৃষ্টি, বাস্তবের জমিতে সে কে? কন্যাডিহাতে যার বাস, সেই কন্যাডিহা কোথায়? সেও কি হৃদয়ে? অবশেষে সব নিঃশেষ হয়ে যায়, কেবল সুবর্ণরেখা নদীটাই থেকে যায়। আর থাকে বাস্তব। যার কাজই শুধু চলা, সে নিত্য বহমান। চলার শেষে তাই বুড়ো ফিসফিসিয়ে কথা বলে নদীর সাথে। অমর মিত্র বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন এই ছোটগল্পে। পড়তে পড়তে মন কালের গন্ডী পেরিয়ে যেতে চায়। প্রশ্ন করতে চায়, তুমি কি আছো, বড়বাবু? ‘ও' হেনরি’ পুস্কারপ্রাপ্ত এই গল্প পড়ে মন ভরে গেল। অনেকদিন পর এমন হৃদয় মোচড়ান...

আজীব দাশতান

Image
  চারটে গল্প। চারটে ঘটনা। যেখানে সম্পর্কগুলোর টানাপোড়েন চলে। কিন্তু একটু অন্য ছকে। সম্পর্কের একটু অন্যরকম টানাপোড়েন দেখানোর চেষ্টা হয়েছে এই সিনেমাতে। প্রথম গল্পঃ মজনু। পরিচালকঃ শশঙ্ক খৈতান। বিয়ের রাতে স্বামী স্ত্রী-কে বলে তার এ বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু বাধ্য হয়েই করতে হয়েছে। এরপর এই সম্পর্কে আসে একটি ছেলে, যার বাবা স্বামীটিরই গাড়ীর চালক ছিল। এই স্ত্রী-টির সঙ্গে একটা সম্প্ররক তৈরী হয়। এই স্বামী এবং স্ত্রী দুজনের বংশই উচ্চবংশ – মানে উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের নেতার পুত্র-কন্যা। ফলে ব্যপারটা ছেলেটার এবং স্ত্রী-টির পক্ষে রিবেল টাইপের। কিন্তু টুইস্ট আসে স্বামীটির কাছ থেকে। অভিনয় মোটামুটি। কিন্তু চেনা ছক। মনে তেমন দাগ কাটে না। দ্বিতীয় গল্পঃ খিলোনা। পরিচালকঃ রাজ মেহেতা। একটি বস্তিতে থাকে দুই বোন। বড় মিনাল বাড়ী বাড়ী কাজ করে, সম্পর্ক আছে একজন জামা-কাপড় ইস্ত্রী করা সুশীলের সাথে। ছোট বোন বিন্নি। স্কুলে পড়ে। ঘটনাচক্রে বিনোদ আগরওয়ালের বাড়ীতে কাজ নেয় মিনাল, উদ্দেশ্য নিজের বাড়ীতে কারেন্টের লাইন চালু করা। বিনোদের নজর পড়ে মিনালের ওপর। ঘটনা এগিয়ে চলে বিনোদের বাচ্চাটার নিখোঁজ হওয় থেকে। এটা আর...

আমার নাকছাবিটা

Image
“সুখ নেইকো মনে— নাকছাবিটি হারিয়ে গেছে হলুদ বনে বনে ।” সন্ধ্যেবেলা হলেই আমার মন প্রচন্ড খারাপ হয়ে যায়। এত মন খারাপ সারাদিনে, সারারাতে কখনও হয় না। কেন তা জানি না। আমার পাশে যেই থাকুক তাতে আমার কিছু আসে যায় না। মন খারাপ হবেই। আমি চুপ হয়ে যাব। সারা পৃথিবী আস্তে আস্তে চুপ হয়ে যায়। পাখীদের কোন ডাক থাকে না। একটা মৃদুমন্দ বাতাস বয়। দূরে শঙ্খের আওয়াজ আসতে থাকে ইতিউতি। একটা অজানা গন্ধ আমাকে চারিদিক থেকে যেন ঘিরে ধরে। আমার মন খারাপ হয়ে যায়। যেন আমার কিছু হারিয়ে গেছে। সেই ছোটবেলায়। যা আমি খুঁজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। কি হারিয়েছে? আমি জানি না। কিভাবে হারালাম? তাও জানি না। কিন্তু যতটা সম্ভব আমি নিজেকে খুঁড়েছি, কিছু পাই নি। মন খারাপটা যেন আরও গভীরে। তার কোনও তল নেই। এই সময় চুপ করে বসে থাকি। এক ধরণের কুড়েমি আমায় পেয়ে বসে। আমি যদি কোন কাজে ব্যস্ত হয়ে সময় ভুলে না যাই তাহলে আমার মন খারাপ হবেই হবে। আমি যত প্রকৃতির কাছে যাব তত মন খারাপের তীব্রতা বাড়বে। যারা আমাকে জানে, তারা এই সময় আমাকে বিরক্ত করে না। চুপচাপ আমায় সঙ্গ দেয়, কিম্বা আমার হাত ছেড়ে দূরে চলে যায়। অপেক্ষা করে। বা হারিয়ে যায় রাত্রির গভীরতা...

রবিবার এপ্রিল ২

Image
  'রবিবার' আমার কাছে বিশেষ দিন। অনেকগুলি বাংলা সংবাদপত্র। অনেকগুলি রবিবারের ক্রোড়পত্র। চা খেতে খেতে, কিম্বা বিকালের অবসরে, অথবা রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে পড়ে ফেলার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তবে, দুঃখের বিষয় কয়েক বছর যাবৎ পয়সা নষ্ট হচ্ছে বলে যে মন খারাপ হত, ডিজিটাল জগতে পা দিয়ে তার অনেকটাই সাশ্রয় হয়েছে। তবুও, আজও প্রতিদিনের 'রোববার' পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকি। মাস ছয়েক ধরে এই পত্রিকাটাও ঠিক রুচছে না। কিন্তু আজকের বিষয়টা চমকে দিয়েছে। আমি প্রচ্ছদ দেখে মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে পারি নি। কিন্তু ভিতরের সম্পাদকীয় পড়ে মুগ্ধ। বিষয় নির্বাচন ছাড়াও অনিন্দ্যর কোন লেখা অনেকদিন পর ভাল লাগল। চমৎকার লেগেছে আশিষ পাঠক এবং সম্বিত বসুর প্রতিবেদন। পড়ে দেখতে পারেন। 'সই-অটোগ্রাফ-সিগনেচার' --- বিষয়বস্তুর নিরিখে রচনাগুলি নিয়ে এবারের ক্রোড়পত্রটি অনেকদিন পরে ভাল লাগল...  

দোহাই তোদের

Image
  "দোহাই তোদের একটুকু চুপ কর্‌, ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর!" সবার মাঝে তুমি থাকলে আমার কেন এমন হয়? মনে হয়, আঁচলের তলায় টুক্‌ করে তোমাকে লুকিয়ে নিই, তারপর আস্তে করে সকলের অগোচরে তোমায় নিয়ে চলে যাই অন্য কোথাও, অন্য কোনখানে। অথচ, একলাটি যখন তোমার সাথে পথ হাটি তখন কিন্তু কোন কথা যোগায় না। মনে হয় যেন এই পথ অন্তহীন হোক। নীরবতা আমাদের ঘিরে ঘিরে চলুক। তোমায় দেখব না, কিন্তু তোমার পায়ের আওয়াজ আমার সাথে সাথে চলবে। তোমার গায়ের গন্ধ মাঝে মাঝে ফুলের গন্ধের সাথে সাথে আমার শাড়ীর ভাজে ভাজে জড়িয়ে থাকবে। আর তোমার চকিত স্পর্শ আমাকে জানিয়ে যাবে, তুমি আছ, আমার কাছেই আছ। আমার মনে হয় আমি দিগ্বিজয় করতে পারি। আমি গোটা একটা পৃথিবী ছিনিয়ে আনতে পারি তোমার জন্য। সব কামুকীদের শেষ করে দিতে পারি। যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে নির্নিমেষে, তারা আমার দিকে তাকালেই শিহরিত হয়ে বলবে, ‘ত্রাহিমাং!’ এই কি প্রেম? কে জানে। সঙ্গে থাকলে তুমি বিরক্তিকর, বোকা, মাথামোটা, আবোল তাবোল বকে বকে আমার মাথা ধরিয়ে দাও। আবার না থাকলে আমি নিজেই নিজের মাথা ঠুকি, কেন আমার মাথা ধরছে না এখন। মাঝে মাঝে আমার শরীর খারাপ করে। জ্বর আসে।...

ওরা আমাকে...

Image
  “ওরা আমাকে মোটামুটি তিনবেলা খেতে দিত। অন্য মেয়েরা তাও পেত না। তারা দুবেলা কি একবেলা আধপেটা খেতে পেত। ওরা জমিতে মুনিষের কাজ করত, তারপর ঘরের কাজ আর রাত্রে...” “আর তোমাকে?” “আমার সাথে ভাল ব্যবহার করত। আমি বয়সে ছোট, ফর্সা গোলগাল চেহারা, সুন্দর দেখতে, স্বাস্থ্য বেশ ভাল বলে আমাকে খুব যত্ন আত্তি করত। কিন্তু...” “কিন্তু কি?” “তার একটা কারণ ছিল। আমায় ওরা এক কাপড়ে রাখত।” “মানে?” “মানে শাড়ী ছাড়া আর কিচ্ছু পড়তে দিত না। কাপড় তাও হাটুর ওপর তুলে পরতে হত। বাড়ীর সবাই যখন খুশি, যেভাবে খুশি আমার সাথে... এমনকি আত্মীয় স্বজন এলে তাদের ঘরেও আমাকে পাঠাত ওরা।” “সে কী!” “হ্যাঁ জানোয়ার ওরা সবাই। ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করলাম, তারপর এখানে এসে দেখলাম আমার স্বামীর কাজই এটা। সারা ভারত ঘুরে ঘুরে মেয়ে জোগাড় করা। ওদের গোটা পাড়াটাই এরকম।” “তুমি কিছু বলোনি কাউকে?” “কাকে বলব? ওদের ভাষাই তো বুঝি না। শাশুড়ী প্রথম রাতে আমাকে ভাল করে সাজিয়ে গুজিয়ে শ্বশুরের ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিল।” “মেয়েরাও এই কাজে সাহায্য করে!” “না করে যাবে কোথায়? মেরে শেষ করে দেবে না। শাশুড়ীকে কতদিন মার খেতে দেখেছি। ও বাড়ীর সবাই, দেওর...