Posts

সময়রেখার পথ ধরে ছায়ামানবেরা

Image
সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত ইংরাজী উপন্যাস ‘ The Shadow Lines ’ ওরফে ‘ছায়ারেখা’ অমিতাভ ঘোষের দ্বিতীয় উপন্যাসও বটে। এটি আনন্দ পুরস্কারও পেয়েছিল। বোদ্ধাজনেরা আমায় মাফ করবেন, আমি যখন উপন্যাসটির পঁচিশ শতাংশ পড়ে ফেলেছি, তখন মনে হচ্ছিল, উপন্যাসটা লেখার উদ্দেশ্য কি, আর আমি কেনই বা পড়ছি! পঞ্চাশ শতাংশ পড়ার পর, আমার মনে হল, গল্পের প্লটটা তো পরিস্কার হয়েছে বটে, কিন্তু এই ড্রয়িং ড্রামা’র জন্যে সাহিত্য অকাদেমী পাওয়ার কারণ কি? তৃতীয় পর্যায়ে এসে মনে হল, এ বই এই পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়াটা অনুচিৎ, এবং, শেষ পর্যায়ে এসে যখন পৌছেছি, তখন, এক সময়ে আমার দম আটকে আসছিল ঘটনা পরম্পরায়। শেষ পর্যায়ে এসে, যে বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের জালটির শেষ বুনোট দিলেন, সেই বিষয়বস্তুটি ঝটকা দেওয়ার মতো, কারণ, ওই সময়টাকে নিয়ে, আমার, এযাবৎ কোন প্রবন্ধ, কবিতা বা উপন্যাস বা গল্প চোখে পড়ে নি। শেষে আসার আগে আগের কথা বলে নিই। উপন্যাসটি তিন প্রজন্মের। ঠাকুমা-কাকা-নাতি, ঠাম্মা-ত্রিদিব-বক্তা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঠাম্মার বোন মায়াদেবীর পরিবার, যিনি প্রবাসী, এবং যখন তারা ইংলন্ডে থাকতেন, সেই সময়ে যে বাড়ীতে থাকতেন সেই প্রাইস ফ্যামিলি...

সন্ধ্যা কখন হল? উত্তর মেলে না

Image
আমার কিছু সুখ আছে। আমার কিছু দুঃখ আছে।   সন্ধ্যা নামছে ক্ষীণতোয়া নদীতীরে। বেলাশেষের আজান ভাসে নদীজলের ঢেউএ। ঢেউ আছড়ে আছড়ে পড়ে আমার পায়ের কাছে। নীরবে। সাঁঝবেলার ছায়ায় ছায়ায় মর্মরিয়ে কী যেন এক বেদনার আভাস। ছড়িয়ে পড়ছে নদীতীরের গাছে ফেরা পাখীদের ডানার ঝাপটায়, বাতাসে। রক্তিম মরিচীকার শেষ রবিলিপিতে কি আমার ফেরার বার্তা নিয়ে কেউ এসেছে? না। কূলে কোন নৌকা নেই আমার অপেক্ষায়। আজও কি আমার সময় হয় নি? আমার ছুটি হয় নি? না কি তা ফুরিয়ে গেছে, কখন অন্যমনে, বুঝতে পারি নি! আমি বসে আছি নদীঘাটের শেষ সোপানে। আমার পা দুটো জলের সাথে খেলা করে। আমি কি চলে যেতে চাই? না আমি ঘরে ফিরতে চাই? না কি ওপারের ডাকের অপেক্ষায় বসে আছি। আমার জন্যে কেউ কি অপেক্ষায় নেই? কোনদিকেই তো কোন অপেক্ষমান আমায় ডাকে না! তবে কি আমি চাই নি তোমাকে?   এমন বেদনা তবে কীসের?   আমি আমার কোলের দিকে তাকাই। ছড়ানো আঁচলে সুখ-দুঃখের কিছু ঝুটো মুক্তো রক্তিম হয়ে ঝিলিক দেয় শেষবারের মতো। আলোর আড়ালে তারা চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। অন্ধকারে তাদের অস্তিত্ব নেই কোনও। মূল্যহীন। তারা যায়, চলে যায়, হারিয়ে যায়। আমায় মূল্যহীন করে দিয়ে চলে য...

ডাকছে বই

Image
এবারের বইমেলা যাওয়াও, প্রতিবারের মতো, কেঁচিয়ে গেল, মনে হয়েছিল, বিধি বাম। বইমেলা সম্পর্কিত সমস্ত কিছু খুঁটিনাটি পড়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না, তাই এই কটাদিন মনের দুঃখে কোন পোস্ট করি নি। কিন্তু বইমেলা না গিয়েও বইমেলা যাওয়া হয়ে গেল। অনেক মানুষের ভীড়ে নিজেকে মিশিয়ে দিতে না পারলেও বইয়ের সমুদ্র থেকে এক গণ্ডুষ বই পেলাম বৈ কি। গডব্রাদারের দৌলতে। গডব্রাদার ফোন করেছিল, হঠাৎ করেই--- “বইমেলা এসেছি, কোনো বই কেনার থাকলে বল, ১০টার বেশি বললে ফোন কেটে দেব কিন্তু...” “ই ই ই ই ই ই...” “এ নামের কোন বই এখানে পাওয়া যাবে না। এতএব একটা কাটা গেল। বাকি রইল নয়টা।” “ফাজলামি করিস আমার সাথে? ফাজিল হয়েছিস তুই! দাঁড়া তোকে বইগুলো মেসেজ করছি। তার আগে আমাকে একটু ভিডিও কল করে দেখা না, বইমেলাটা কেমন লাগছে দেখি...” “উঃ, তোর ন্যাকামী দেখে প্রাণে আগুন ধরে যায়। ছবিতে যা দেখিস এর থেকে বেশি আর কি পার্থক্য হবে রে?” “দ্যাখা না... উঁ উঁ উঁ উঁ উঁ উঁ...” দেখলাম। কলকাতা বইমেলা সামনের বছর যাব। যাবই যাব। কে আমায় রোখে দেখি। কেউ না গেলে একাই যাব। সেখানে হারিয়ে যাব। আর ফিরব না। কোথায় ফিরব? কোন অন্ধকার বন্ধ লাইব্রেরীতে? ত...

বইমেলা ও বইসংখ্যা

Image
  আজ সকাল সাত ঘটিকায়, সমগ্র পৃথিবী যখন লেপের আরামনিদ্রা ছেড়ে পুরোপুরি ওঠে নি, আমি, মায়ের অনর্গল বকুনির দাপটে, লেপ ছেড়ে নিজেকে উলিকট এবং কাশ্মিরী শালে আগাগোড়া মুড়ে, ব্যলাকানিতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ হাতে নিয়ে, তন্দ্রাবিলাসিনী, তখন, কুয়াশার ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘরাজ্যের মধ্যে দিয়ে, দৃষ্টিপ্রদীপের আধো ভিতরে আধো বাইরে থাকা জেমস বন্ডের সাইকেল বেলের আওয়াজের পিছন পিছন, হাতে এসে পৌছল --- ‘দেশ’ পত্রিকার বইসংখ্যা।       ব্যাপারটা ড্রামাটিক হয়ে গেল, না? তা শীতের কাব্য এমনই হয়। কারণ, আমি বইমেলায় কোনদিন যাই নি। এবার যাওয়ার একটা চেষ্টা চালাচ্ছি। অন্তত একটা ঝটিকা সফর। গেলেও ক’টা বই কিনব, সন্দেহ আছে। একটা কারন, বিস্ময় সামলাতে সামলাতেই হয়তো দেখব, ফেরার সময় হয়েছে, কাঙালকে শাকের ক্ষেত দেখালে সে কি করবে? আর দ্বিতীয় কারণ, জেমস বন্ড আমাকে বেশি ছাড় দেবে। যারা মধ্য ও উচ্চবিত্ত টাইপ উপার্জনকারি, কিম্বা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো বইপ্রেমী, তারা কোনদিন বুঝতেও পারবেন না, যে, শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নাবশেষ পরে, আমরা, হতদারিদ্র আঁতেল বক্তিমে করা বইপাগলের কাছে ১০% বনাম ১৫% -এর কি মূল্য! আর তাছা...

পরস্পরকে ভালোবাসো

Image
  “Love One Another” এই একটি কথাই হয়তো আজ গোটা বিশ্ব-বিভীষিকার মোড় ফেরাতে পারে। এই একটি কথার নীল-প্রয়োজনীয়তা এখন ভেসে বেড়াচ্ছে প্যালেস্তাইনের অলিতে গলিতে। এই একটি বাক্যের বাকরুদ্ধ ধুসর জীবন আলেখ্য ইউক্রেনের রাস্তায় রাস্তায়। এই তিনটি শব্দের যথাযথ মর্মার্থবোধ মণিপুরের ঘরে ঘরে কালো বিষাদে ঢেকে আছে। এই একটি কথার মর্মার্থ পাশ্চাত্য বুঝেছিল ১৯৪৫-এর পর। তারও প্রায় উনিশশো বছর আগে, চুনাপাথরের তৈরী চার দেওয়ালের ঘরে জনা কয়েক আকাট গন্ডমুর্খকে বলেছিলেন যিনি, তিনি রক্তাক্ত হয়েছিলেন কাঠের ক্রুশে। একটানা সাত বছর ধরে চলা বিশ্বযুদ্ধে তখন গোটা ইউরোপ ধুঁকছে। ১৯৫০ সালে, যুদ্ধ পরবর্তী বিদ্ধস্ত এবং লোভাতুর দেশগুলোর মধ্যে যখন এক ঠান্ডা যুদ্ধের অশনি সংকেত প্রোথিত হচ্ছে, তখনি একটা উপন্যাস, বারাব্বাস, জনচেতনার মাঝে স্থান করে নিতে চাইল। পরের বছরেই, বিশেষত, উক্ত উপন্যাসের জন্য, সুইডিশ এই লেখক সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। লেখকের নাম P ä r Lagerkvist, রোমান হরফেই লিখলাম, কারন, ইদানীং, বানান পুলিশের দৌরাত্ম্যে ভাববস্তু নির্মমভাবে ঢেকে যাচ্ছে।       আমরা কি বারাব্বাসকে চিনি? ...

আনন্দ জুয়েলার্সের একটি মুক্তোর মালা

Image
  “Climate change is like death, no one wants to talk about it.”   ‘Exploitation’ শব্দটা আমাকে মাঝে মাঝে বড়ো অতিষ্ঠ করে তোলে। আমরা, সুযোগ পেলেই, প্রতিদিন, কীভাবে যে শোষণ করতে পারি, তা বলে বোঝানো দুষ্কর। এই শোষণ কি শুধুই মানুষের প্রতি মানুষের? না তো! মনুষ্যেতর জীবের প্রতি, এমনকি আমাদের পরিবেশের প্রতিও। শোষণ ‘মানুষ’ জীবটার দৈনন্দিন জীবনের একটা বড়ো পারিচালক মাধ্যম হয়ে পড়েছে। খুঁটিনাটিভাবে প্রতিটা মানুষের আচরণ দেখলে মনে হওয়া অসম্ভব নয় যে, Exploitation , বর্তমানে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার মতোই, আমাদের জীবনে অপরিহার্য, বেঁচে থাকার জন্য। এই Exploitation –এর সবচেয়ে বড়ো শিকার, পরিবেশ। ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বড়ো বালাই। সারা পৃথিবী জুড়ে অনেক কিছু আবেদন, নিবেদন, বাদ-প্রতিবাদ হয়ে চলেছে। আশানুরূপ লক্ষণ কিছু দেখা যাচ্ছে না। প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস তো মৃত্যুর কয়েক মাস আগে একটা ইন্টারভিউতে বলেই ফেলেছিলেন, আমাদের অন্য গ্রহে, অন্য কোথাও, বিশেষ করে মঙ্গলে, জনবসতি বিস্তার করার কথা ভাবনাচিন্তায় আনাটা আশু প্রয়োজন। ইলন মাস্ক তো একধাপ এগিয়ে বলেই ফেললেন, আমাদের উচিৎ, মঙ্গলে একগাড়ি, থুড়ি, একরকেট পর...

কিন্তু তবুও...

Image
  কাব্যি করে ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়’ লাগতেই পারে, কিন্তু একটা মানুষ ক্ষুধায় নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিতে পারে কি?       এ নিয়ে ভুরি ভুরি লেখা আছে। কিন্তু সাধারণ মানব মনস্তত্ত্বে এর খোঁজ এমন একজন নোবেলপ্রাপ্ত লেখক করেছেন, যার লেখার মধ্যে দিয়ে এক বিষন্ন খোঁজে যেতে যেতে আমিও এই বিতর্ক থেকে সরে আসতে পারছিলাম না।       উপন্যাস ন্যুট হ্যামসুনের ‘ক্ষুধা’ তথা ‘ Hunger’.       উপন্যাসটিকে আধুনিক ধারার উপন্যাসগুলির মধ্যে একটি প্রধান সাহিত্যকর্ম বলে ধরা হয়। এটি পরবর্তীকালে জেমস জয়েস কিম্বা কাফকা থেকে কাম্যু এবং কেলম্যান পর্যন্ত সাহিত্যিকদের গল্প উপন্যাসকে প্রভাবিত করেছে। মনোজগতের এক বিষন্নতা, আমার পড়তে পড়তে, সত্যিই কোথাও কাফকাকে মনে পড়ে যাচ্ছিল ।       যে উপন্যাসের লেখক নোবেল পুরস্কার পান তার লেখার বাঁধুনি কিম্বা সৃষ্টিধারা নিয়ে আলোচনা করা আমার কাছে খানিকটা বাড়াবাড়িই লাগে। বিশেষত, ইদানীং, অনেক বাঙালী পাঠক, লেখক, এমনকি ইন্টালেকচুয়াল গোষ্ঠী মনে করেন, নোবেল, বুকার, পুলিৎজার ইত্যাদি পুরস্কারের...