Posts

Showing posts from December, 2025

আসুরী-পরস্বকায়-দহনপুরুষ

Image
  ন্যাঃ! তিনটে উপন্যাসের একটাও আমার মনে দাগ কাটতে ব্যর্থ, তবে এ ব্যর্থতার দায় আমি নিজের ঘাড়ে নেব না। কোনো ভক্তকূলের কারণেও নয়। ‘আসুরী’ লেখিকার প্রথম মৌলিক ফিকশন উপন্যাস। ভূমিকায় লেখিকা লিখছেন, “সুমির গল্প না বললে এ জীবনে মুক্তি ছিল না। দায়বদ্ধতা বলেও একটা কথা হয়। ঋণের বোঝা কিছুটা লাঘব হল। গাঢ় লবণাক্ত স্বেদবিন্দুর মতো এই গল্পের পুরো শরীর জুড়ে যে সমস্ত গোপন কথা ছড়িয়ে ছিল, তারা এবার শাস্তির নিঃশ্বাস নিক। মিলিয়ে আসুক নখের আঁচড়-রেখা। কানাগলি থেকে সৈকতে ফিরে যাক পুরোনো স্মৃতিচিহ্নেরা।” কিন্তু কেন এই চরিত্র দিয়েই তাঁর উপন্যাস নির্মাণ? কীসের সে দায়বদ্ধতা? আছে হয়তো কোনো একটা। অসুর শব্দের সংজ্ঞা কী? “অসুর (সংস্কৃত: असुर ) হল ভারতীয় ধর্মের এক শ্রেণির প্রাণী। তাদেরকে হিন্দুধর্মে আরও কল্যাণকর দেবদের (সুরা নামেও পরিচিত) সম্পর্কিত শক্তি-সন্ধানী প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর বৌদ্ধ প্রেক্ষাপটে, শব্দটিকে ‘টাইটান’ বা ‘অ্যান্টিগড’ হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে।” [উইকিপিডিয়া] কিন্তু এখানেও দেখতে পাচ্ছি, সুমি পরিস্থিতির শিকার। সে আসুরীও হচ্ছে বাধ্য হয়ে। কিন্তু শুধু পরিস্থিতিই কি কাউকে আসুরী বানা...

সাদা বই হান কাং

Image
  “For God’s sake don’t die, she muttered in a thin voice, over and over like a mantra. After an hour had passed, the baby’s tight-sealed eyelids abruptly unseamed. As my mother’s eyes met those of her child, her lips twitched again. For God’s sake don’t die. Around an hour later, the baby was dead. They lay there on the kitchen floor, my mother on her side with the dead baby clutched to her chest, feeling the cold gradually enter into the flesh, sinking through to the bone. No more crying.” [Newborn Gown]       হান কাং আমায় সত্যিই বিস্মিত করছে। যত তার রচনা-অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আমি যাচ্ছি, আমার মনে হচ্ছে, এ অনন্ত মহাবিশ্বে কোটি কোটি কালো হতাশার মধ্যে যে আলোক বর্তিকা জীবনের অর্থ বহন করে চলেছে, তার এক সত্যরূপ প্রতি পৃষ্ঠার, বলা ভালো প্রতি লাইনের পরতে পরতে তিনি বয়ে নিয়ে চলেছেন। এ এক সত্যরূপ। আলো ও অন্ধকার একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একেই বলে ‘হাং’।       “ভগবানের দোহাই, মরে যাস না।”       হান কাং-এর ‘সাদা বই’ ...

Thinking Fast and Slow

Image
  বেশ কয়েকটা বছর বাংলা-পড়ুয়া গ্রুপগুলোতে কাটানোর পর আমি একটা কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, নন-ফিকশন বই আমরা বাস্তবিকই খুব কম পড়ি। আর সেই বই যদি হয় পপুলার সায়েন্সের ওপর, তাহলে তো কথাই নেই। আমরা ছুঁয়ে দেখার কথাও ভাবতে পারি না। কত রকমের নন-ফিকশন বই বের হচ্ছে! কত অদ্ভুত তার বিষয়। কয়েকটি জনপ্রিয় বইয়ের রিলস কিংবা short video-তে দেখি একটা বইকে বর্তমান সময়ে কী সাংঘাতিক গুরুত্বই না দেওয়া হচ্ছে। অতঃপর বইটা কিনলাম। Thinking Fast and Slow. লিখেছেন Daniel Kahneman. Kahneman সাহেব নোবেল পেয়েছেন। আর তাঁর এই বইয়ের বিষয়বস্তু কি অদ্ভুত! তাঁর মতে, আমাদের চিন্তাভাবনা দুইটি সিস্টেমে বিভক্ত—   System 1 → Fast Thinking স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক, দ্রুত, আবেগনির্ভর চিন্তা। এটাই আমাদের ‘intuition’ বা ‘gut feeling’-এর জায়গা। সুবিধা: দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে। অসুবিধা: ভুল সিদ্ধান্ত বা bias তৈরি করে।   System 2 → Slow Thinking সচেতন, যৌক্তিক, ধীর ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা। এই চিন্তা আমাদের অনেকটা সময় নিয়ে করতে হয়। (অঙ্কের কথাই ভাবুন না, বাজারের মাসকাবারির টাকা আমরা কত সময় নিয়েই না হিস...